জুলাইয়ের ৬ দিনে রেমিট্যান্স এলো ৪৩৬৬ কোটি টাকা

চলতি (২০২৪-২৫) অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ের প্রথম ছয়দিনে দেশে বৈধপথে ৩৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। দেশীয় মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১১৮ টাকা ধরে) যার পরিমাণ চার হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা। সে হিসাবে প্রতিদিন গড়ে এসেছে ৬ কোটি ১৬ লাখ ডলার বা ৭২৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি জুলাই মাসের প্রথম ছয়দিনে মোট ৩৭ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে। তার মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে তিন কোটি ৭২ লাখ ৬০ হাজার ডলার আর বিশেষায়িত দুই ব্যাংকের মধ্যে এক ব্যাংকের (কৃষি ব্যাংক) মাধ্যমে এসেছে দুই কোটি ৮৬ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার।

অন্যদিকে, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ৩০ কোটি ৩৩ লাখ ১০ হাজার ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ১২ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার।

একই সময়ে দেশি-বিদেশি ১২টি ব্যাংকের মাধ্যমে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি। এসব ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বা বিডিবিএল, বেসিক ব্যাংক, বিশেষায়িত রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক বা রাকাব। বেসরকারি ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক, কমিউনিটি ব্যাংক, সিটিজেন্স ব্যাংক, আইসিবি ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, বিদেশি খাতের হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া এবং উরি ব্যাংক।

২০২৩-২৪ অর্থবছরের পুরো সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ২৪ বিলিয়ন (২৩ দশমিক ৯১ বিলিয়ন) ডলার। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, নানান উদ্যোগের ফলে বৈধপথে বাড়ছে রেমিট্যান্সপ্রবাহ। আগামীতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, সদ্যবিদায়ী অর্থবছরের সবশেষ মাস জুনে ২৫৪ কোটি ২০ হাজার ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশিরা, যা গত ৩৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে সবশেষ ২০২০-২১ অর্থবছরের জুলাই মাসে প্রবাসী আয় আড়াই বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছিল। ওই মাসটিতে এসেছিল ২৫৯ কোটি ৮২ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স।

২০২৩-২৪ অর্থবছরজুড়ে দেশে রেমিট্যান্স আসে ২৩ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলার বা দুই হাজার ৩৯১ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এর আগের অর্থবছর এসেছিল দুই হাজার ১৬১ কোটি ডলার। সে হিসাবে এক অর্থবছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স বেড়েছে ২৩১ কোটি ডলারের বেশি। অর্থবছরের হিসাবে ২০২০-২১ অর্থবছরে সর্বোচ্চ দুই হাজার ৪৭৭ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।