পুঁজিবাজারে বড় উত্থান

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আজ বড় উত্থান হয়েছে। একদিনেই এক্সচেঞ্জটির সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ২ দশমিক ৩০ শতাংশ। লেনদেন হওয়া সিকিউরিটিজগুলোর মধ্যে ৩১টি বাদে সবগুলোর দর বেড়েছে। দর বৃদ্ধির এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অনেক বিনিয়োগকারী মুনাফা তুলে নিয়েছেন। পাশাপাশি নতুন ফান্ড নিয়ে ক্রেতার উপস্থিতিও বেড়েছে। যাতে এক্সচেঞ্জের লেনদেন বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিন এক্সচেঞ্জের লেনদেন আগের কার্যদিবসের চেয়ে প্রায় ৪৩ শতাংশ বেড়েছে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, টেকনো ড্রাগস লিমিটেডের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) রিফান্ডের টাকা আজ পুঁজিবাজারে এসেছে। এতে তারল্য বৃদ্ধির সুবাদে সূচক ও লেনদেন বেড়েছ। পাশাপাশি পুঁজিবাজারে সরকারি কর্মকর্তারা বিনিয়োগের সুযোগ পেতে যাচ্ছেন বলে গণমাধ্যমে খবর প্রচারিত হয়েছে। এতে সামনে বাজারে তারল্য আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছে অধিকাংশ বিনিয়োগকারী। এ বিষয়গুলো আজ বাজারের উত্থানে সহায়ক ভূমিক হিসেবে কাজ করেছে।

এ বিষয়ে পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আল-আমিন বলেন, ‘বাাজারে আইপিও রিফান্ডের টাকা এসেছে। যারা অনেক কম দামে শেয়ার বিক্রি করে আইপিওতে আবেদন করেছিল। তারাই অনেক বেশি দাম দিয়ে শেয়ার কিনছে। এতে আজ সূচক ও লেনদেন বেড়েছে।’

অন্য আরেক বিশ্লেষক বেসরকারি ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বাণিজ্য অনুষদের ডিন ড. মোহাম্মদ মুসা বলেন, ‘সরকারি বেসরকারি কর্মকর্তা সবাই বিনিয়োগকারী। তবে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে গেলে সরকারি কর্মকর্তাদের অনুমতি নিতে হয়। এখন যদি আইন করে সবাইকে বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া হয় তা পুঁজিবাজারে জন্য খুবই ভালো সিদ্ধান্ত হবে।’

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, আজ লেনদেন শেষে ডিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ১২৩ দশমিক ৭২ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৪৯৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এ সূচকটি ৭ সপ্তাহ পর আবারো সাড়ে ৫০০ হাজারের কাছাকাছি এসেছে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক আগের দিনের তুলনায় ২২ দশমিক ১৪ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ২০৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৩৮ দশমিক ৪০ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৯৫১ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

আজ সূচকের উত্থানে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে ব্র্যাক ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকো বাংলাদেশ কোম্পানি (বিএটিবিসি), বেস্ট হোল্ডিংস এবং রেনাটা লিমিটেডের শেয়ার। এছাড়া গ্রামীনফোন, খান ব্রাদার্স, লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশ, বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস এবং রবি আজিয়াটা লিমিটেডের শেয়ারও ডিএসইর সূচক বৃদ্ধি ভালো অবদান রেখেছে। এদিন ডিএসইর সবগুলো খাতেই ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে ভ্রমণ ও অবকাশ খাতের শেয়ারে, ৫ দশমিক ৯০ শতাংশ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪ দশমিক ৮০ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে সেবা ও আবাসন খাতে। আর ৪ দশমিক ৫০ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন নিয়ে তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) শেয়ারগুলো।

আজ ডিএসইতে মোট ৩৯১টি শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। দিনের লেনদেন শেষে এর মধ্যে দর বেড়েছে ৩৬৫টির। এর মধ্যে ১৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চসীমায় বেড়েছে। বিপরীতে এদিন দর কমেছে ১৩টি প্রতিষ্ঠানের। আর ১৮টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

এদিকে আজ দিনভর ঢাকার এ পুঁজিবাজারে লেনদেন হয়েছে ৭৭০ কোটি ৭০ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ। যেখানে আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৫৩৯ কোটি ২৭ লাখ টাকা। সে হিসাবে এদিন লেনদেন বেড়েছে ২৩১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা বা ৪২ দশমিক ৯১ শতাংশ। আজ এ লেনদেন ছিল ডিএসইতে চলতি বছরের ১৩ মে’র পর সর্বোচ্চ লেনদেন। আজ ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাতে, ১৫ দশমিক ৯০ শতাংশ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ লেনদেন ছিল বস্ত্র খাতের দখলে। আর ১০ দশমিক ৫০ শতাংশ লেনদেন নিয়ে তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ব্যাংক খাত। এছাড়া খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত ১০ দশমিক ১০ শতাংশ এবং প্রকৌশল খাত ৯ দশমিক ৬০ শতাংশ লেনদেন অবদান রেখেছে।