কালুরঘাট সেতুতে চালু হলো দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর ওপর কালুরঘাট সেতুতে দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে পথচারীদের চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। এতে চলাচলকারী মানুষ নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি নদীর একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে আসা-যাওয়া করতে পারবেন।

সড়ক পথের কাজও শেষের পথে, তাই এ নিয়েও আর বেশি দিন অপেক্ষায় থাকতে হবে না। রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু জাফর মিঞা বলেন, ‘আমরা বুয়েটের পরামর্শে দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে নির্মাণের কাজটি শেষ করেছি। সেতুর দক্ষিণ পাশ দিয়ে বিশেষ প্রযুক্তিতে নির্মিত ছয় ফুট চওড়া ওয়াকওয়ে দিয়ে উভয় দিক থেকে পথচারীরা চলাচল করতে পারবেন।’

প্রধান প্রকৌশলী জানান, আগামী জুলাই মাসে সড়ক পথটিও খুলে দেওয়া হতে পারে। রেললাইনের মধ্যে কার্পেটিংয়ের কাজ চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, সেতুর উভয় অংশে আট ফুট উচ্চতার ব্যারিয়ার দেওয়া হবে। আগে সেতুর ওপর কার্পেটিং থাকলেও সেতুর পাটাতন নষ্ট হয়ে যেত। সেতুতে পানি জমে থাকত বলে সেতুর লোহার উপকরণগুলোতে মরিচা ধরে যেত। এবার আর তেমন হবে না। রেললাইনের ফাঁকের নিচে একটি প্লাস্টিকের পাইপ রেখেছি। পানি এ পাইপ দিয়ে নদীতে চলে যাবে।

অন্যদিকে রেললাইন অংশে সাড়ে পাঁচ ফুট উচ্চতার রেলিং রয়েছে। এতে ওয়াকওয়ে দিয়ে চলাচলের সময় রেললাইন দিয়ে ট্রেন চলাচল করবে কিন্তু পথচারীদের চলাচলে কোনো সমস্যা হবে না। সাইকেল বা মোটরবাইক নিয়ে যাতে মানুষ ওয়াকওয়েতে যেতে না পারে, সে জন্য সেতুর উভয় দিকে তিনটি করে সিঁড়ি দেওয়া হয়েছে। তবে সাইকেল নিয়ে ওয়াকওয়ে পার হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে বলে জানায় সেতু নির্মাণকারী ঠিকাদার ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড।

উল্লেখ্য, ১৯৩০ সালে কর্ণফুলী নদীর ওপর কালুরঘাট সেতু নির্মাণ করা হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর মিয়ানমারের সঙ্গে সরাসরি রেল যোগাযোগের জন্য এই সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল। পরে দোহাজারী পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয় এই রেললাইন। ৬৩৮ মিটার দীর্ঘ সেতুটি ২০০১ সালে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছিল। ২০০৪ সালের ১৩ আগস্ট ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই সেতুতে বড় ধরনের সংস্কারকাজ করা হয়েছিল। এরপর ২০১২ সালে আরেক দফা সংস্কার করেছিল রেলওয়ে। কিন্তু সেতুটি পুনরায় জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে।

এতে সেতুটির ওপর দিয়ে ট্রেনের পাশাপাশি দক্ষিণ চট্টগ্রামের বোয়ালখালী ও পটিয়াগামী গাড়িও চলাচল করত। সেতুটি ৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে গত বছর ১ আগস্ট থেকে শুরু হয়ে ডিসেম্বরে সংস্কারকাজ সম্পন্ন করতে বিশেষজ্ঞ পরাপর্শ দেয় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট)। সংস্কারকাজের পর গত ডিসেম্বরে প্রথম ধাপের সংস্কারের পর সেতুর ওপর দিয়ে ট্রেন চলাচল শুরু হয়।