আগামী অর্থবছরে প্রায় সব অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধী আসছেন ভাতার আওতায়

এছাড়া সুবিধাভোগীদের বিভিন্ন খাতে আগামী অর্থবছরে উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়াচ্ছে সরকার। এতে ব্যয় বাড়বে সরকারের।

আগামী ২০২৪–২৫ অর্থবছরে দেশের প্রায় সকল অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধীকে ভাতার আওতায় আনার পরিকল্পনা করেছে সরকার। এজন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় নতুন করে তিন লাখ ৩৪ হাজার অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধীকে ভাতার আওতায় আনা হচ্ছে।

এছাড়া, মা ও শিশু সহায়তা ভাতা এবং হিজড়া, বেদে ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে ভাতার উপকারভোগীও বাড়ছে। তবে সবার ভাতার পরিমাণ অপরিবর্তত থাকবে।

যেসব প্রতিবন্ধীর বার্ষিক আয় ৩৬ হাজার টাকার বেশি নয়, তাদেরকে অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধী হিসেবে চিহ্নিত করেছে সরকার। ছয় বছরের ঊর্ধ্বে সকল অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধী এ ভাতা পাওয়ার যোগ্য হবেন।

চলতি অর্থবছরে ২৯ লাখ অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধী প্রতিমাসে ৮৫০ টাকা হারে সরকার থেকে ভাতা পাচ্ছেন। এতে ব্যয় হচ্ছে দুই হাজার ৯০০ কোটি টাকা। উপকারভোগী বাড়ায় এ খাতে অতিরিক্ত ৩৪৩ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী, দেশে মোট প্রতিবন্ধী জনসংখ্যা ৪৬ লাখ। ২০২৪–২৫ অর্থবছর উপকারভোগী বাড়ানোর মাধ্যমে প্রায় সকল অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধীকে ভাতার আওতায় আনা হচ্ছে বলে মনে করছেন অর্থবিভাগের কর্মকর্তারা।

আগামী অর্থবছরের বাজেটে মা ও শিশু সহায়তা ভাতার আওতায় ৫১ হাজার উপকারভোগী যুক্ত হচ্ছে বলে জানা গেছে। অর্থাৎ, নতুন অর্থবছরে মোট ১৩ লাখ ৫৫ হাজার মা ও শিশু সহায়তা পাবেন। এ খাতে অতিরিক্ত ৩৩২ কোটি টাকা ব্যয় হবে। চলতি অর্থবছর এ খাতের উপকারভোগীরা প্রতিমাসে ৮০০ টাকা হারে ভাতা পাচ্ছেন।

অর্থবিভাগের কর্মকর্তারা জানান, হিজড়া, বেদে ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠী ভাতার আওতায় আসন্ন অর্থবছরে ১৪ হাজার নতুন উপকারভোগী যুক্ত করা হচ্ছে। এ খাতে বর্তমানে উপকারভোগীর সংখ্যা এক লাখ। বর্তমানে হিজড়া ৬৫০ টাকা, বেদে ৫৫০ টাকা ও অনগ্রসর সম্প্রদায়ের উপকারভোগীরা ৫০০ টাকা মাসিক ভাতা পান।

এছাড়া বয়স্ক ভাতা এবং বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতার উপকারভোগীর সংখ্যা দুই লাখ করে মোট চার লাখ বাড়ছে। নতুন অর্থবছরে বয়স্ক ভাতার উপকারভোগী বেড়ে দাঁড়াবে ৬০ লাখ এবং বিধবা ভাতার উপকারভোগী হবে ২৭ লাখ ৭৫ হাজার। এতে এ দুখাতে সরকারের মোট ব্যয় বাড়বে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা।