নিজস্ব কারখানায় বাস তৈরি করছে বিআরটিসি

বিদেশ থেকে আনা যন্ত্রাংশের (চেসিস) ওপর ভিত্তি করে নিজস্ব কারখানায় বাস তৈরি করছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)। এরই মধ্যে দুটি বাস তৈরির কাজ শেষ করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত এই পরিবহন সংস্থা। প্রথম ধাপে আরও কয়েকটি বাস তৈরির প্রক্রিয়া চলছে।

শনিবার (১ জুন) রাজধানীর মোহাম্মদপুরে অবস্থিত বাস ডিপোর নবনির্মিত ইয়ার্ড ও প্রধান ফটক উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিআরটিসির চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

তাজুল ইসলাম বলেন, আমাদের নিজস্ব কারখানায় তৈরি করা দুটি বাস বিমানবন্দরের শাটল রুটে ব্যবহার করা হবে। বিদেশ থেকে আসা প্রবাসী ভাইদের জন্য তা বিশেষ সুবিধা হিসেবে থাকবে। ৩০-৪০ জন যাত্রী একটি বাসে ভ্রমণ করতে পারবেন। যাত্রীদের লাগেজ রাখার জন্য বাসে সুব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এই বাস দুটি ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় শাটলভাবে ঘুরতে থাকবে। বিমানবন্দর থেকে বিভিন্ন বাস টার্মিনাল ও রেলওয়ে স্টেশনে যাবে। শিগগির মন্ত্রণালয় থেকে উদ্বোধনের দিন নির্ধারণ করা হবে।

বর্তমানে বিআরটিসির বহরে যাত্রীবাহী বাস রয়েছে এক হাজার ৩৫০টি। তা সুইডেন, জাপান, চীন, কোরিয়া ও ভারতের মতো দেশ থেকে কেনা হয়েছে। এখন নতুন করে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাসে (সিএনজি) চালিত ৩৫০টি এবং ভারত থেকে ১০০টি বিদ্যুৎচালিত বাস কেনার প্রক্রিয়া চলছে।

বিআরটিসির চেয়ারম্যান বলেন, চেসিস বানানোর সক্ষমতা এখনো আমাদের হয়নি। এই চেসিস বাদ দিয়ে পুরোপুরি একটি গাড়ি বানানোর শতভাগ সক্ষমতা বিআরটিসির রয়েছে। বিদেশ থেকে চেসিস এনে আমাদের নিজস্ব কারখানায় বাস তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ধীরে ধীরে আমাদের বাস আমরাই উৎপাদন করতে চাই।
তাজুল ইসলাম বলেন, ২০১২ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া গাজীপুরের সমন্বিত কেন্দ্রীয় মেরামত কারখানা পুনরায় চালু করা হয়েছে। পুরোনো মেশিনারিজ পরিবর্তন করে নতুন মেশিনারিজ সরঞ্জামযুক্ত কারখানার সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। তা ছাড়া ঢাকার তেজগাঁওয়ের কেন্দ্রীয় মেরামত কারখানা আধুনিকায়ন করা হয়েছে। এসব কারখানার কর্মীদের উন্নত প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে তোলা হয়েছে। বিআরটিসির নিজস্ব কারখানায়, নিজস্ব কর্মীদের দিয়ে বাস তৈরির সক্ষমতা তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, আগে বিআরটিসি থেকে অবসরের পর অর্থ পেতে মানুষকে দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হতো। এখন আর সেদিন নেই। এখন প্রতিষ্ঠানের সবাই সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন। নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন লাভজনক প্রতিষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিআরটিসি আজ ঘুড়ে দাঁড়িয়েছে।