২৫ মে বঙ্গবাজার বিপনী বিতান নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়ায় পুড়ে যাওয়া বঙ্গবাজারস্থলে নির্মিত হবে ১০ তলা বহুতল মার্কেট। আগামী ২৫ মে বঙ্গবাজার বিপনী বিতান নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত বছরের ৪ এপ্রিল ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ভস্মীভূত হয় রাজধানীর সবচেয়ে পুরনো ও জনপ্রিয় পাইকারি কাপড়ের মার্কেট বঙ্গবাজার। পুড়ে যাওয়া স্থানে নির্মাণ করা হবে এই ১০ তলা বিশিষ্ট ‘বঙ্গবাজার পাইকারি নগর বিপণিবিতান’। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পূর্ণ এই মার্কেটে ৩ হাজার ২১৩টি দোকান থাকবে বলে ডিএসসিসি’র কর্মকর্তারা জানান।

ডিএসসিসি’র সূত্র জানায়, আগামী ২৫ মে শনিবার সকাল ১১টায় বঙ্গবাজার নগর পাইকারি বিপনী বিতান নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেদিন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন গৃহিত পোস্তাগোলা হতে রায়ের বাজার স্লুইস গেট পর্যন্ত ‘৮ লেনের ইনার সার্কুলার রোড’ এবং ধানমন্ডি হ্রদের পাড়ে ‘নজরুল সরোবর’ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করবেন করবেন।

এ বিষয়ে ডিএসসিসি’র জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবু নাসের জনকণ্ঠকে বলেন, ‘আগামী ২৫ মে বঙ্গবাজার বিপনী বিতান নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রবিবার এ সংক্রান্ত একটি চিঠি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে পাঠানো হয়েছে। বঙ্গবাজার নগর পাইকারি বিপনী বিতান নির্মাণ কাজের উদ্বোধনের পাশাপাশি পোস্তাগোলা হতে রায়ের বাজার স্লুইস গেট পর্যন্ত ‘৮ লেনের ইনার সার্কুলার রোড’ এবং ধানমন্ডি হ্রদের পাড়ে ‘নজরুল সরোবর’ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করবেন করবেন প্রধানমন্ত্রী।’

ডিএসসিসি’র সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত নতুন মার্কেটে সর্বমোট দোকান থাকবে ৩ হাজার ২১৩ টি। অতিরিক্ত আরও ২৪৪ টি দোকান বেশী রয়েছে। ১০ তলা আধুনিক এই ভবনে থাকবে বেজমেন্ট ও গ্রাউন্ড ফ্লোর। ভবনের বেজমেন্টে থাকবে গাড়ী পার্কিয়ের সু-ব্যবস্থা। এখানে ১৬৯টি গাড়ী ও ১০৯ টি মোটরসাইকেল এই সাথে পার্কিং করা যাবে। এছাড়া ভবনের নিচতলায় দোকান থাকবে ৩৫৯ টি, দ্বিতীয় তলায় থাকবে ৩৭৬ টি, তৃতীয় তলায় থাকবে ৩৮৬ টি, চতুর্থ তলায় থাকবে ৩৯৫ টি, পঞ্চম তলায় থাকবে ৩৯৩ টি, ষষ্ঠ তলায় থাকবে ৩৯৫ টি, সপ্তম তলায় থাকবে ৩০৫ টি, অষ্টম তলায় থাকবে ৩০৬ টি ও নবম তলায় থাকবে ২৯৮ টি দোকান। এর মধ্যে অষ্টম তলায় দোকান মালিক সমিতির অফিস, কর্মচারী ও নিরাপত্তাকর্মীদের আবাসনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ভবনটিতে ২২ টি খাবারের দোকান রাখা হয়েছে। প্রতিটি দোকানের আয়তন হবে ৮০-১১০ স্কয়ার ফুট।  এর মধ্যে নিচতলা থেকে পঞ্চম তলা পর্যন্ত প্রতিটি দোকান হবে ৮০-৮৫ স্কয়ার ফুট। এছাড়াও পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণের ফলে দক্ষিণ বঙ্গের ২১টি জেলা এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের ১৬ জেলা হতে আগত উত্তরবঙ্গগামী বাসগুলোকে যেন আর ঢাকা শহরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে না হয়, সেজন্য পোস্তাগোলা ব্রীজ হতে রায়ের বাজার স্লুইচ গেট পর্যন্ত ৮ সারির ইনার সার্কুলার রোড প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগ নেয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। উদ্যোগের অংশ হিসেবে ১ম পর্যায়ে কামরাঙ্গীরচরের লোহার পুল থেকে রায়ের বাজার স্লুইচ গেট পর্যন্ত ৮ সারির  সড়ক নির্মাণ করা হবে।