শেখ হাসিনার সেরা ১০

গতকাল (১৭ মে ২০২৪) ছিল আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস।
১৯৮১ সালের এই দিনে তিনি প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরে এসেছিলেন নানা প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে। ৪৩ বছরের এই রাজনৈতিক জীবনে তিনি সংগ্রাম করেছেন, আন্দোলন করেছেন, নির্যাতন ভোগ করেছেন এবং গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে এনেছেন।
গত ৪৩ বছরে বাংলাদেশের রাজনীতির মূল ব্যক্তি হলেন তিনি। এই ৪৩ বছরে শেখ হাসিনার অর্জন অনেক। তবে মোটাদাগে তাঁর ১০ টি অর্জন তাকে ইতিহাসে অমর করে রাখবে বলেই মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। শেখ হাসিনার ৪৩ বছরের কর্মকাণ্ড থেকে বাংলা ইনসাইডার তাঁর সেরা ১০ টি সাফল্যকে তুলে ধরছে এই প্রতিবেদনে।
১. প্রচলিত আইনে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার: বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার শেখ হাসিনার জন্য অনেক স্পর্শকাতর এবং আবেগপূর্ণ একটি বিষয় ছিল। এই বিচার বিশেষ ট্রাইব্যুনালে করার জন্য বিভিন্ন মহলের পরামর্শ ছিল। কিন্তু শেখ হাসিনা সেই পরামর্শ শোনেননি। বরং প্রচলিত আইনে দীর্ঘ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এ বিচার সম্পন্ন করার ধৈর্যের পরীক্ষায় তিনি উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। এটি একজন রাজনৈতিক নেতার অনন্য অসাধারণ গুণ বলেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন। কারণ এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে ২০০১ সালে বিচার আবার বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু শেখ হাসিনা ধৈর্য হারাননি। তিনি লক্ষ্যে অবিচল ছিলেন। আর এই কারণেই
শেষ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার তিনি সম্পন্ন করতে পেরেছেন।
২. যুদ্ধাপরাধীদের বিচার: যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেখ হাসিনার আরেকটি সাহসী সিদ্ধান্ত। অনেকেই মনে করেন যে, শেখ হাসিনা যদি একটি সিদ্ধান্তের জন্য অমরত্ব পান সেটি হবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার। এক প্রতিকূল পরিবেশে অবাস্তব অবস্থার মধ্যে তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করতে পেরেছিলেন।
৩. ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন: ভারতের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন ছিল শেখ হাসিনার আরেকটি সাফল্য গাঁথা। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান অনস্বীকার্য। আর এই অবদানের স্বীকৃতি দিতে বাংলাদেশে ভারতবিরোধী রাজনীতি অনেকেই অস্বীকার করেন। বিশেষ করে পঁচাত্তরের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতবিরোধিতা একটা স্পর্শকাতর বিষয় হিসেবে সামনে আসে। কিন্তু শেখ হাসিনা জনমত গঠন করে ভারতের সাথে সম্মানজনক একটি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করার ক্ষেত্রে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
৪. পার্বত্য শান্তি চুক্তি: পার্বত্য শান্তিচুক্তি শেখ হাসিনার আরেকটি সাফল্য। এর ফলে তিনি বাংলাদেশকে পার্বত্য অঞ্চলগুলোতে দীর্ঘদিনের যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে মুক্ত করেন।
৫. ব্যাপক উন্নয়ন, অবকাঠামো: শেখ হাসিনার ৪৩ বছর রাজনৈতিক জীবনে ২০ বছরের বেশি সময় দেশ পরিচালনা করেছেন এবং এই দেশ পরিচালনায় সবচেয়ে বড় অবদান ছিল দৃশ্যমান উন্নয়ন। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল, রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প, এলিভেটেড এক্সপ্রেস এর মতো শত শত প্রকল্প করে তিনি বাংলাদেশকে উন্নয়নের মডেল বানিয়েছেন।
৬. হত্যা, ক্যু, ষড়যন্ত্রের রাজনীতি বন্ধ: সাংবিধানিক ভাবে হত্যা, ক্যু, ষড়যন্ত্রের রাজনীতি বন্ধ করা ছিল শেখ হাসিনার একটি ঐতিহাসিক এবং সাহসী সাফল্য সিদ্ধান্ত। তিনি সংবিধান সংশোধন করে ৭ এর (ক) যুক্ত করেন, যেখানে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকে চিরতরে নিষিদ্ধ করেন।
৭. কমিউনিটি ক্লিনিক: প্রান্তিক মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কমিউনিটি ক্লিনিক এখন বিশ্ব মডেল। গত বছর জাতিসংঘ কমিউনিটি ক্লিনিককে ‘দ্য শেখ হাসিনা ইনিশিয়েটিভ’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। কমিউনিটি ক্লিনিক প্রান্তিক মানুষের জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার দোরগোড়া উন্মোচন করেছে।
৮. আশ্রয়ণ প্রকল্প: ‘থাকবে না কেউ গ্রহহীন’ এটি শেখ হাসিনার আরেকটি অসামান্য উদ্যোগ এবং আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে তিনি গ্রহহীনদের যে ঘর দিচ্ছেন তা ব্যাপকভাবে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক ভাবে প্রশংসিত।
৯. নারীর ক্ষমতায়ন: নারীর ক্ষমতায়নে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে একটি নীরব বিপ্লব করেছেন। কর্ম ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, নারীদেরকে সামনের দিকে নিয়ে আসা, নারী শিক্ষার বিকাশ এবং সামগ্রিক ভাবে নারী জাগরণের ক্ষেত্রে তিনি এক অগ্র পথিকের ভূমিকা পালন করেছেন।
১০. তৃতীয় লিঙ্গের স্বীকৃতি: তৃতীয় লিঙ্গের স্বীকৃতি আদায়ের ক্ষেত্রে শেখ হাসিনা বেশকিছু সাহসী এবং দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। এছাড়াও শেখ হাসিনার আরও অনেক অবদান রয়েছে। তবে ৪৩ বছরের এই রাজনৈতিক জীবনে শেখ হাসিনা যে বাংলাদেশকে বদলে দিয়েছেন তা নিয়ে তাঁর শক্রদেরও কোন সংশয় নেই।