বিপিসির এলপি গ্যাস বটলিং প্ল্যান্ট আধুনিকায়ন, জুনে চালু

দৈনিক গ্যাস বটলিংয়ের সক্ষমতা বেড়ে দ্বিগুণ হবে

চট্টগ্রামে বিপিসির এলপি গ্যাস বটলিং প্ল্যান্ট আধুনিকায়নের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। অটোমেশন সিস্টেম চালুর মাধ্যমে পুরোনো সিস্টেম পরিবর্তন করা হচ্ছে। এটি চালু হলে আগামী জুনের শুরুতে দৈনিক গ্যাস বটলিংয়ের সক্ষমতা দ্বিগুণ বৃদ্ধি পাবে। পতেঙ্গায় অবস্থিত প্ল্যান্টটি প্রায় ৪৪ বছরের পুরোনো। প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে প্ল্যান্টটি আধুনিকায়নের মাধ্যমে বটলিংয়ের সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। বটলিং প্ল্যান্টটি আগামী জুন মাসে চালুর প্রক্রিয়া চলছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। বটলিংয়ের সক্ষমতা না থাকায় বিগত দুই বছর যাবত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে বাল্কে এলপিজি বিক্রি করা হচ্ছে। এতে ভোক্তারা কম মূল্যে বিপিসির এলপি গ্যাস প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৭৭-৭৮ সালে পতেঙ্গায় এলপিজি বটলিং প্ল্যান্টটি নির্মাণ করা হয়। চট্টগ্রামে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারিতে প্রায় ১৭ ধরনের জ্বালানি উৎপাদন করে। এসব জ্বালানি পরিশোধন করতে গিয়ে এলপি গ্যাস পাওয়া যায়। ইস্টার্ন রিফাইনারি থেকে প্রাপ্ত এলপিজি গ্রাহক পর্যায়ে সরবরাহের জন্য পতেঙ্গায় বটলিং প্ল্যান্টটি চালু করা হয়।

গত প্রায় দুই বছর যাবত ইস্টার্ন রিফাইনারিতে এলপিজি উত্পাদন বেড়েছে। আগে মাসে ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টনের মতো উৎপাদন হলেও এখন মাসে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন এলপিজি উৎপাদন হচ্ছে। কিন্তু বিপিসির এলপিজি বটলিং প্ল্যান্টের সক্ষমতা বাড়েনি।

এলপি গ্যাস লিমিটেড সূত্র জানায়, প্ল্যান্টের ছয়টি রিজার্ভ ট্যাংকের প্রতিটির গ্যাস ধারণক্ষমতা ৪০ টন। বর্তমানে প্ল্যান্টে আধুনিকায়নের কাজের জন্য কয়েকটি ট্যাংকে বটলিং বন্ধ রয়েছে। এতে আগে দৈনিক ১৭ গাড়ি (প্রতি গাড়িতে ২৩৮ সিলিন্ডার) সরবরাহ দেওয়ার সক্ষমতা থাকলেও এখন দৈনিক ১০ থেকে ১২ গাড়ির বেশি সিলিন্ডার বটলিং করা যাচ্ছে না। ফলে বাল্কে বেশি বিক্রি করা হচ্ছে। বটলিংয়ের সক্ষমতা কম থাকায় বর্তমানে বাল্কে সপ্তাহে প্রায় ৬০ টন এলপিজি বিক্রি চলছে। বেসরকারি কোম্পানির সঙ্গে বছরে ২ হাজার টন এলপিজি বিক্রির চুক্তি রয়েছে। কিন্তু এখন প্ল্যান্টের কাজের কারণে বটলিং আরো কমে যাওয়ায় বাল্কে প্রায় ৩ হাজার টনের মতো বিক্রি করতে হচ্ছে।

প্ল্যান্টের দায়িত্ব প্রকল্প কর্মকর্তা ও এলপি গ্যাস লিমিটেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী ছিদ্দিক হোসেন বলেন, প্ল্যান্টের অটোমেশনের কাজ প্রায় শেষ। আগামী জুনের শুরুতে চালু করতে পারব। এটি চালু করা হলে দৈনিক প্রায় ২৮ গাড়ি বা ৬ হাজার ৬৬৪ বোতল এলপিজি সররবাহ দেওয়া যাবে। আগামী জুনের শুরুতে সিলেটের কৈলাশটিলায় অবস্থিত এলপিজি বটলিং প্ল্যান্টটিও চালুর প্রক্রিয়া চলছে। ঐ প্ল্যান্টে বছরে ৫ হাজার টন এলপিজি বটলিংয়ের সক্ষমতা রয়েছে।’

বর্তমানে এলপি গ্যাস লিমিটেডের ৪ লাখ ২০ হাজার বোতল বাজারে রয়েছে। এসব সিলিন্ডারের মধ্যে অধিকাংশ অনেক পুরোনো হওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে বলে ডিলাররা দাবি করে আসছে।

এদিকে বেসরকারি কোম্পানিগুলো বিপিসির দরের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি দামে এলপি গ্যাস বাজারে বিক্রি করছে। বিপিসির এলপি গ্যাস প্রতি সিলিন্ডার (সাড়ে ১২ কেজি) এর দাম বাড়িয়ে এখন ডিলার পর্যায়ে ৫৯১ টাকা ও ভোক্তা পর্যায়ে ৬৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ভোক্তা ও খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ বিপিসির এলপি গ্যাস সাধারণ ভোক্তারা পাচ্ছেন না। আগে বিভিন্ন  দোকানে  খুচরায় বিক্রি হলেও এখন মিলছে না। কম মূল্যের এসব এলপিজি গ্যাসের বাজার মনিটরিং প্রয়োজন বলে মনে করছেন ভোক্তা ও খুচরা বিক্রেতারা।