পতিত জমিতে সবজি চাষে সফল কৃষাণী নাজমা

বাড়ির পাশে পতিত জমি আবাদ করে পারিবারিক পুষ্টি বাগানে সবজি চাষে সফলতা পেয়েছেন কৃষাণী মোছা. নাজমা আক্তার। তিনি হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার তগলী গ্রামের প্রবাসী আব্দুল আজিজের স্ত্রী।

তিনি কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় ‘অনাবাদি পতিত জমি ও বসত বাড়ির আঙ্গিনায় পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপন প্রকল্প’র আওতায় পারিবারিক পুষ্টি বাগান গড়ে তোলেন। তার এ বাগানে মিষ্টি লাউ, কাঁচা মরিচ, বেগুন, রঙিন বাঁধাকপি থেকে শুরু করে বারো মাস সবজি চাষ হচ্ছে।

এসব তথ্য নিশ্চিত করে তগলীর সুবিধাভোগী নাজমা আক্তার বলেন, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শামিমুল হক শামীম তাকে পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি ঘরের কাজের পাশাপাশি বাকি সময় ব্যয় করে পতিত জমি আবাদ করেন। পারিবারিক পুষ্টি বাগানে সন্তোষজনক উৎপাদন হচ্ছে। প্রতিমাসে তিনি তার পরিবারের ১৫ থেকে ২০ দিনের সবজির চাহিদা এখান থেকে মেটাতে পারছেন। এছাড়া মাঝেমধ্যে কিছু বিক্রি করে নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য জিনিস কিনছেন। এ বাগানের পাশাপাশি তিনি পুকুরেও মাছ চাষ করে লাভবান হয়েছেন।

একই গ্রামের ফারুক মিয়ার স্ত্রী জোসনা আক্তার বলেন, পতিত জমি আবাদ করে পুষ্টি বাগান করেছেন মোছা. নাজমা আক্তার। তিনি ঘরের কাজের পাশাপাশি পুষ্টি বাগানে কাজ করেন। তার বাগানে নানা ধরনের সবজি চাষ হচ্ছে। তিনি বাগান করে সফল। তার সফলতা দেখে আমার আগ্রহ তৈরি হয়। বাড়ির আঙিনায় জমি পতিত ছিল। পতিত জমি আবাদ করে ফসল চাষ করার জন্য উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শামিমুল হক শামীমের কাছ থেকে উৎসাহ পেয়েছি। তিনি উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে দেন। পারিবারিক পুষ্টি বাগান করে বারো মাস সবজি চাষ করছি।

ভৈরবীকোনা গ্রামের কৃষক আরফান আলী বলেন, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শামিমুল হক শামীমের সহযোগিতায় বাড়ির আঙিনায় সবজি চাষ করেছি। নিজেদের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি কিছু সবজি বিক্রি করতে পারছি। শুধু তাই নয়, তিনি সরেজমিনে এসে রোগ ও পোকা থেকে রক্ষা করতে পরামর্শ দিয়ে সার্বিক সহায়তা করেন।

কৃষাণী নাজমা ও জোসনা আক্তার ছাড়াও উপজেলার লামাতাশী গ্রামের আয়েশা খাতুন, ভৈরবীকোনা গ্রামের কৃষক আরফান আলী, ভুলকোর্ট গ্রামের আজমান মিয়া, দ্বিমুড়া গ্রামের আরজু মিয়া, লুৎফুর রহমান, হাফিজপুর গ্রামের এনামুল হক, নুরুল হক, লামাতাশী গ্রামের জসিম উদ্দিন ও মো. ছায়েদ মিয়াসহ অন্য কৃষকরা নিজ নিজ পতিত জমি আবাদ করে পুষ্টি বাগান তৈরি করে সবজি ও ফল চাষ করেন। তারা সবাই লাভবান হয়েছেন।

উপজেলার দ্বিমুড়া কৃষি ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শামিমুল হক শামীম বলেন, বাছাইকৃত তালিকাভূক্ত পরিবার থেকে স্বামী-স্ত্রী দুজনকে প্রথমে দু’দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পরে বসতবাড়ির আঙিনায় দেড় শতক জমিতে নান্দনিক বেড়া দিয়ে পুষ্টি বাগানের প্রদর্শনী স্থাপন করা হয়। বাগানের মডেল এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যেন একজন কৃষক সারাবছরই এখান থেকে কিছু না কিছু ফসল পান। কখনো সবজি থাকবে, আবার কখনো থাকবে ফল। বীজ, সার, চারাসহ যাবতীয় ব্যয় সরকারের তরফ থেকে বহন করা হয়েছে। কৃষাণ-কৃষাণী শুধু পরিচর্যার দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি বাগানে উত্তর-দক্ষিণ বরাবর পাঁচটি বেড। এছাড়া দুই পাশে মাচা রয়েছে। বেডে লাগানো হচ্ছে শাক-সবজি ও মাচায় লাউ-কুমড়া-সিম-বরবটি-ঝিঙা। তাছাড়া দুই মাথায় নিটি করে ছয়টি ফল ও মসলার চারা রোপণ করা হয়েছে। তবে কোথাও কোথাও ফলের চারা বাগানের বাইরে অন্যত্র লাগানো হয়েছে। শাক-সবজির মধ্যে রয়েছে লাল শাক, গীমা কলমি, পুঁইশাক, ডাটা শাক, ধনিয়া, কাঁচা মরিচ, মুলা প্রভৃতি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন মজুমদার বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে। সে অনুযায়ী আমরা পারিবারিক সবজি ও পুষ্টির চাহিদা পূরণে বসতবাড়ির আঙিনায় অনাবাদি ও পতিত জমিতে প্রকল্পের সহযোগিতায় উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে সবজি, মসলা ও ফল উৎপাদনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। পতিত জমির ব্যবহারের মাধ্যমে চার সদস্যের একটি পরিবারের সবজির চাহিদা নিশ্চিত করতে পারে এমন ব্যবস্থা এখানে রাখা হয়েছে। পরিবারের নারীরা কাজের ফাঁকে যাতে পরিচর্যা করতে পারেন, সেজন্য তাদেরও আনা হয়েছে প্রশিক্ষণের আওতায়।

Views: 0