ঈদকে ঘিরে ডিজিটাল লেনদেন বেড়েছে

ঈদ ঘিরে নানা মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেন বাড়ছে। ডিজিটাল লেনদেন দ্রুত, সহজ, নিরাপদ এবং সুবিধাজনক। ইতিমধ্যে অনেক আর্থিক সেবাই ডিজিটাল হয়েছে। এর মধ্যে কার্ডভিত্তিক পেমেন্ট, কিউআর কোডভিত্তিক পেমেন্ট, ফান্ড ট্রান্সফার, অ্যাপভিত্তিক ইউটিলিটি বিল পেমেন্ট বেশ জনপ্রিয়। রাজধানীসহ সারা দেশে অনেক দোকানেই এখন কেনাকাটা করা যাচ্ছে ডিজিটাল উপায়ে।

ঈদে কেনাকাটা করতে আসা ব্যক্তিরা জানালেন, কার্ডে পেমেন্ট করলে আলাদা করে হাতে ক্যাশ রাখতে হয় না। তাই এ মাধ্যমেই কেনাকাটা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তারা। এছাড়া জাল নোট আসারও কোনো সম্ভাবনা নেই। দেশের অনেক শপিং সেন্টারে অধিকাংশ দোকানেই আছে ব্যাংকের পজ মেশিন। মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং মিলে কোনো কোনো দোকানে আবার বেচাবিক্রির প্রায় অর্ধেক হচ্ছে ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে।

রাজধানীর অনেক দোকানেই সুবিধা আছে ডিজিটাল লেনদেনের। মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে সারা বছরই পেমেন্ট হয়, কিন্তু ঈদ এলে সেটা বাড়ে কয়েকগুণ। এর কারণ উত্সব ঘিরে বড় ধরনের ক্যাম্পেইন। অন্যদিকে ব্যাংকগুলো কার্ড পেমেন্টে নানা ধরনের অফার দিচ্ছে। ১০ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কেনাকাটায় ছাড় পাওয়া যাচ্ছে। এখন গ্রাহকেরা ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবহার করে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করতে পারেন। বিল পরিশোধ করতে পারেন এবং অন্যান্য লেনদেন করতে পারেন। এ ছাড়া বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে গ্রাহকেরা পণ্য কিনতে পারেন, বিভিন্ন বিল প্রদান করতে পারেন এবং টিকিট বুক করতে পারেন।

১৯৯৭ সালে কার্ডভিত্তিক পেমেন্ট সেবা বাংলাদেশে শুরু হয়। এরপর প্রায় দুই দশক পরে কার্ড জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কার্ডের মাধ্যমে গ্রাহকেরা দৈনন্দিন লেনদেন সহজেই সম্পন্ন করাসহ উপভোগ করছেন দারুণ সব সেবা। তাই বর্তমানে কার্ড আর বিলাসবহুল পণ্য নয়, এটি দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে গেছে। ২০১৮ সাল থেকে বাংলাদেশে অ্যাপভিত্তিক পেমেন্ট সেবা শুরু হয়।

ঢাকা থেকে প্রত্যন্ত গ্রামে যেমন ক্ষণিকের মধ্যেই টাকা চলে যাচ্ছে, তেমনি দূরের দেশ থেকে এখন টাকা চলে আসছে বাংলাদেশে। মাসে এ ব্যবস্থায় লেনদেনের মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮ লাখ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকও ২০২৫ সালের মধ্যে দেশের সব লেনদেনের ৩০ শতাংশ ‘ক্যাশলেস’, তথা ডিজিটাল মাধ্যমে আনার লক্ষ্য ঠিক করেছে। ১৯৯২ সালে বাংলাদেশে প্রথম অটোমেটেড টেলার মেশিন বা এটিএম যন্ত্র স্থাপন শুরু করে কয়েকটি ব্যাংক। যার মাধ্যমে কার্ড দিয়ে নগদ টাকা তোলার সুযোগ তৈরি হয়। ১৯৯৬ সালে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক দেশে প্রথম ক্রেডিট কার্ড চালু করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশে গত জানুয়ারি মাসে ডেবিট কার্ডের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৫২ লাখ। ক্রেডিট কার্ড রয়েছে ২৪ লাখ ২৯ হাজার। ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে মোট গ্রাহক প্রায় ৮৫ লাখ। মোবাইল আর্থিক সেবায় গ্রাহক প্রায় ২২ কোটি। তবে ডিজিটাল লেনদেন মানুষের জীবনকে যেমন সহজ করেছে তেমনি কিছু সমস্যাও আছে। সমস্যা তিনটি। প্রথমত, মানুষ প্রতারণার শিকার হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে লেনদেন যতটা সহজ, মোবাইল ফোনের আর্থিক সেবায় একটি প্রতিষ্ঠানের হিসাব থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানের হিসাবে ততটা সহজ নয়। তৃতীয়ত, কিছু কিছু সেবা নেওয়া যায় শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের হিসাব ব্যবহার করে। ফলে মানুষকে একাধিক হিসাব খুলতে বাধ্য হতে হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতারণা ঠেকাতে মানুষকে সচেতন হতে হবে এবং প্রতিষ্ঠানকেও সচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগী হতে হবে। মোবাইলে আর্থিক সেবায় একটি সেবাদাতা থেকে অন্য সেবাদাতার হিসাবে যাতে সহজে টাকা লেনদেন করা যায়, সেই ব্যবস্থা করতে হবে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে। সব সেবা সব প্রতিষ্ঠানের জন্য উন্মুক্ত করাও দরকার। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিকস ২০২৩ প্রতিবেদন বলছে, দেশের ১৫-এর বেশি বয়সি জনসংখ্যার ২৮ শতাংশের ব্যাংক অথবা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের হিসাব রয়েছে। মুঠোফোনে আর্থিক সেবার হিসাব রয়েছে প্রায় ৪৮ শতাংশের।