ভাঙ্গা থেকে ১২০ কিলোমিটার বেগে যশোরে ছুটল ট্রেন

ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে যশোরের রূপদিয়া পর্যন্ত ১২০ কিলোমিটার বেগের পরীক্ষামূলক ট্রেন ছেড়ে গেছে। শনিবার (৩০ মার্চ) সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটের দিকে ভাঙ্গার বামনকান্দা রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেনটি ছেড়ে যায়। রবিবার (৩১ মার্চ) সকালে একই সময়ে ট্রায়াল ট্রেনটি চলাচল করবে।

ভাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনের পয়েন্টম্যান দেবাশীষ মন্ডল বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে বলেন, পাঁচটি বগি নিয়ে বিশেষ ওই ট্রায়াল ট্রেন ভাঙ্গা স্টেশন থেকে যশোরের রূপদিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। ট্রেনটি যশোরে সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে পৌঁছার কথা রয়েছে। এ ট্রেনে যাত্রী হিসেবে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ, চায়না ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের কর্মকর্তারা রয়েছেন।

ভাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, এ ট্রায়াল ট্রেনে চালকের দ্বায়িত্ব পালন করছেন মো. সাখাওয়াত হোসেন। পরিচালকের দ্বায়িত্বে রয়েছেন তাপস কুমার বিশ্বাস। ৮৭ দশমিক ৩২ কিলোমিটারের এই পথে ট্রেনটি ১২০ কিলোমিটার সর্বোচ্চ গতিতে চলানো হবে। ট্রেনটি আবারো সুবিধাজনক সময়েই যশোর থেকে ভাঙ্গার উদ্দেশ্যে রওনা হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে এ রেলপথ নির্মাণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ অর্থায়নে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘চায়না রেলওয়ে গ্রুপ’ (সিআরইসি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। ভাঙ্গা থেকে যশোর পর্যন্ত ব্রডগেজ ওই রেলপথে ভাঙ্গা, কাশিয়ানী এবং যশোরের পদ্মবিলা ও সিঙ্গিয়াতে রেলওয়ে জংশন থাকছে। এছাড়া নগরকান্দা, মুকসুদপুর, মহেশপুর, লোহাগড়া, নড়াইল এবং যশোরের জামদিয়া ও রূপদিয়াতে রেলস্টেশন হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৩ মে একনেকে ‘পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প’ নামে এটির অনুমোদন হয়। অনুমোদনের সময়ে পুরো প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩৪ হাজার ৯৮৮ কোটি টাকা। বর্তমানে এ প্রকল্পের ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা। প্রকল্পটি সরকারের অগ্রাধিকার তালিকাভুক্ত (ফাস্ট ট্র্যাক)।