ইউরোপে পোশাক রফতানিতে প্রবৃদ্ধি

ইউরোপের বাজারে তৈরি পোশাক রফতানির প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ১৩ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রফতানি করেছে বাংলাদেশ। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৩২ শতাংশ বেশি।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ পরিসংখ্যানের তথ্য বিশ্লেষণে এ চিত্র পাওয়া যায়। ইউরোপের বাজারে তৈরি পোশাক রফতানিতে প্রবৃদ্ধি ঘটলেও অন্যতম বৃহৎ বাজার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কমছে পোশাক রফতানি। অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে দেশটিতে পোশাক রফতানি কমেছে ৩ দশমিক ৯০ শতাংশ।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুসারে, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশের আরএমজি রফতানি ১৩ দশমিক ৯২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ১ হাজার ৩৯২ কোটি ডলারের পৌঁছেছে। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৩২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে স্পেনে পোশাক রফতানি বেড়েছে ৬ দশমিক ০৫ শতাংশ, ফ্রান্সে বেড়েছে ৪ দশমিক ২৫ শতাংশ, নেদারল্যান্ডসে বেড়েছে ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ এবং পোল্যান্ডে বেড়েছে ২০ দশমিক ৩০ শতাংশ। অর্থাৎ অন্যান্য দেশের তুলনায় পোলেন্ডে পোশাক রফতানি প্রায় দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে।
ইউরোপের বাজারে সার্বিকভাবে পোশাক রফতানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও কয়েকটি দেশে রফতানি কমেছে।

রফতানি কমা দেশের তালিকায় রয়েছে ইতালি। দেশটিতে পোশাক রফতানি ১ দশমিক ৮১ শতাংশ কমেছে।
অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বৃহত্তম রফতানি বাজার জার্মানিতে ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে রফতানি কমেছে ৩ দশমিক ৫১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা শতাংশের হিসাবে ১৩ দশমিক ৪৬ শতাংশ।
বাংলাদেশের পোশাক রফতানির বড় বাজার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রফতানি ৩ দশমিক ৯০ শতাংশ কমেছে। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম সপ্তম মাসে ৪ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার রফতানি হয়েছে দেশটিতে।

যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রফতানি কমলেও কানাডায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে। দেশটিতে রফতানি ৮৭১ দশমিক ২৭ মিলিয়নে পৌঁছেছে। অপ্রচলিত বাজারেও পোশাক রফতানির প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। অর্থবছরের ৭ মাসে অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রফতানির প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১ দশমিক ৬৯ শতাংশ। যা অর্থের হিসাবে ৫ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে অপ্রচলিত বাজারে রফতানির পরিমাণ ছিল ৪ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলার।

প্রধান অপ্রচলিত বাজারের মধ্যে রয়েছে জাপান, অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়া। এরমধ্যে জাপানে রফতানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ। অস্ট্রেলিয়ায় রফতানি প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি। দেশটিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৩ শতাংশ। দক্ষিণ কোরিয়ায় পোশাক রফতানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৭ দশমিক ৫৭ শতাংশ।
অপ্রচলিত বাজারের পোশাক রফতানিতে অন্যান্য দেশে প্রবৃদ্ধি ঘটলেও পাশর্^বর্তী ভারতে পোশাক রফতানি কমেছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত দেশটিতে পোশাক রফতানি কমেছে ২১ দশমিক ৮৬ শতাংশ।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) দেশ থেকে ৩ হাজার ৩২৬ কোটি ৪৭ লাখ ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে, যা এর আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৫২ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি সময়ে রফতানির পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ২৪৪ কোটি ৭৫ লাখ ডলার।

চলতি অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে প্রধান রফতানি পণ্য পোশাক খাত থেকে ২ হাজার ৮৩৬ কোটি ৩১ লাখ ডলার আয় হয়েছে। এর মধ্যে নিট পোশাক (সোয়েটার, টি-শার্ট জাতীয় পোশাক) রফতানি হয়েছে ১ হাজার ৬১৮ কোটি ডলার সমমূল্যের এবং ওভেন পণ্যের (শার্ট, প্যান্টজাতীয় পোশাক) রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২১৮ কোটি ৩৭ লাখ ডলার। আলোচ্য সময়ে পোশাক রফতানি বেড়েছে ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

এ ছাড়া জুলাই-জানুয়ারি সময়ে অন্যান্য প্রধান রফতানি পণ্য যেমন-পাট ও পাটজাত পণ্য ৫১ কোটি ডলার, হোম টেক্সটাইল ৪৫ কোটি ৪৭ লাখ ডলার, পাদুকা ২৯ কোটি ৬২ লাখ ডলার, প্লাস্টিক পণ্য ১৪ কোটি ১৩ লাখ ডলার, কৃষিজাত পণ্য ৫৭ কোটি ২৭ লাখ ডলার, হিমায়িত মাছ ২৪ কোটি ৮১ লাখ ডলার এবং রাসায়নিক পণ্য ২০ কোটি ২২ লাখ ডলার রফতানি হয়েছে।