জানুয়ারিতে আমিরাত থেকে ৪৫ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে

জানুয়ারিতে ৪৫ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। সৌদি আরব থেকে এসেছে তিন ভাগের এক- ১৫ কোটি ৫৬ লাখ ডলার।

জানুয়ারিতে ৪৫ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। সৌদি আরব থেকে এসেছে তিন ভাগের এক- ১৫ কোটি ৫৬ লাখ ডলার।

শুধু জানুয়ারি নয়, গত কয়েক মাস ধরেই সৌদি আরবের চেয়ে আমিরাত থেকে বেশি রেমিট্যান্স দেশে আসছে। অথচ বরাবরই সৌদি আরবে অবস্থানকারী প্রবাসীরা সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়ে আসছেন।

গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশটি থেকে ৩৭৬ কোটি ৫৩ লাখ (৩.৭৬ বিলিয়ন) ডলার এসেছিল। আরব আমিরাত থেকে এসেছিল ২৪ দশমিক ১০ শতাংশ কম, ৩০৩ কোটি ৩৮ লাখ (৩.০৩ বিলিয়ন)।

তার আগের অর্থবছরে (২০২১-২২) অর্থবছরে সৌদি থেকে ৪৫৪ কোটি ১৯ লাখ (৪.৫৪ বিলিয়ন) ডলার প্রবাসী আয় দেশে এসেছিল। আমিরাত থেকে এসেছিল অর্ধেকেরও কম, ২০৭ কোটি ১৮ লাখ (২.০৭ বিলিয়ন) ডলার।

ওই দুই অর্থবছরে তৃতীয় সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের উৎস ছিল আরব আমিরাত। দ্বিতীয় ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্র।

কিন্তু চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এই দুই দেশকে পেছনে ফেলে শীর্ষে চলে এসেছে আমিরাত। এই অর্থবছরে প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) দেশটিতে অবস্থানকারী প্রবাসীরা ২ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। যা এই সাত মাসে আসা মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ১৯ শতাংশ।

জুলাই-জানুয়ারি সময়ে বিভিন্ন দেশে থেকে মোট ১২ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় দেশে এসেছে।

এই সাত মাসে সৌদি আরব থেকে রেমিট্যান্স এসেছে ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছে ১ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার। যুক্তরাজ্য থেকে এসেছে ১ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার।

হিসাব বলছে, জুলাই-জানুয়ারি সময়ে সৌদি আরবের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি রেমিট্যান্স এসেছে আরব আমিরাত থেকে; শতাংশ হিসাবে বেশি এসেছে প্রায় ৫২ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশি এসেছে ৮৪ শতাংশ। ৫১ শতাংশ বেশি এসেছে যুক্তরাজ্যের চেয়ে।

বাংলাদেশ ব্যাংক গত বৃহস্পতিবার দেশভিত্তিক রেমিট্যান্সের হালনাগাদ এই তথ্য প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যায়, জুলাই-জানুয়ারি সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয় এসেছে আরব আমিরাত থেকে। দ্বিতীয় স্থানে আছে যুক্তরাজ্য। শীর্ষ থেকে তৃতীয় স্থানে নেমে এসেছে সৌদি আরব।

গত দুই অর্থবছরে দ্বিতীয় স্থানে থাকা যুক্তরাষ্ট্র নেমে এসেছে চতুর্থ স্থানে।

জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) সভাপতি মোহাম্মদ আবুল বাশার বলেন, প্রবাসীরা যেখানে টাকা বেশি পাবেন, সেখান থেকেই পাঠাবে। তবে এটাও মনে রাখতে হবে গত দুই বছরে আরব আমিরাতে আমাদের অনেক লোক গেছেন কাজের জন্য। তারা কাজ করছে; রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন।

আরব আমিরাত থেকে রেমিট্যান্সের উল্লম্ফনের আভাস গত অর্থবছরেই পাওয়া গিয়েছিল। ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশটি থেকে ৩০৩ কোটি ৩৮ লাখ ৫০ হাজার (৩.০৩ বিলিয়ন) ডলার দেশে পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। যা ছিল ২০২১-২২ অর্থবছরের চেয়ে ৪৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ বেশি।

প্রথমবারের মতো আমিরাত থেকে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স দেশে আসে ২০২২-২৩ অর্থবছরে। গত অর্থবছরে তিনটি দেশ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছিল। বাকি দুটি দেশ ছিল- সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র। গত অর্থবছরের কয়েক মাসেও শীর্ষে ছিল আমিরাত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে কোনো কোনো মাসে সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও বেশি প্রবাসী আয় এসেছিল আরব আমিরাত থেকে।

যেমন ২০২২ সালের মার্চ মাসে আরব আমিরাত থেকে ৩০ কোটি ৭৬ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। ওই মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছিল ৩০ কোটি ৩৯ লাখ ডলার। আর সৌদি আরব থেকে এসেছিল ২৮ কোটি ৩ লাখ ডলার।

২০২৩ সালের জানুয়ারি এবং ২০২২ সালের মে মাসেও সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছিল আরব আমিরাত থেকে।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এর আগে একক মাসের হিসাবে আমিরাত থেকে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স দেশে আসে গত বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে, ৪৪ কোটি ২৯ লাখ ডলার। সেই রেকর্ড ভেঙে জানুয়ারিতে ৪৪ কোটি ৭১ লাখ ১০ হাজার রেমিট্যান্স এসেছে আমিরাত থেকে।