পায়রায় আয় ছাড়িয়েছে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা

বন্দরে মোট দুই হাজার ৩১০টি পণ্যবাহী জাহাজ পণ্যখালাস

এগিয়ে চলার বাংলাদেশ, এই স্লোগান নিয়ে পায়রা বন্দর এখন দৃশ্যমানভাবে পাকাপোক্ত হয়ে দেশের অর্থনীতির জোগান দিয়ে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক এ যাত্রা শুরু হয়েছে ২০১৬ সালের ১৩ আগস্ট। ওই দিন থেকে ফরচুন বার্ড নামের মাদার ভেসেল এই বন্দরের ইতিহাসে নাম লিখেছে প্রথম পণ্যবাহী জাহাজ হিসেবে। আর এই শুভক্ষণের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা উন্নয়নের স্বপ্নদ্রষ্টা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর তখন থেকে অর্থনীতির তৃতীয় করিডর পায়রার দ্বার উন্মোচিত হয়।

শুরু হয় পণ্য আমদানি এবং খালাসের কার্যক্রম। সেই থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই বন্দর থেকে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে এক হাজার ১০৪ কোটি চার লাখ ৪৩ হাজার ১৯৩ টাকা। এ পর্যন্ত এ বন্দরে মোট দুই হাজার ৩১০টি পণ্যবাহী জাহাজ পণ্যখালাস করেছে। এর মধ্যে ৩৮৬টি বিদেশী জাহাজ পণ্য নিয়ে এ বন্দরে ভিড়েছে। ২০২৩ সালে পায়রায় ৯৮টি বিদেশী এবং ৯২৩টি দেশী জাহাজ পণ্য খালাস করেছে। এখন রাবনাবাদ চ্যানেলে প্রতিনিয়ত মাদার ও লাইটার জাহাজ পণ্য আনা-নেওয়ার কাজ করছে। রয়েছে প্রাণচাঞ্চল্য।
বর্তমানে পণ্য খালাসের পাশাপাশি রাবনাবাদ চ্যানেলের পারিপাড়ায় দিনরাত প্রথম টার্মিনাল কেন্দ্রিক উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। কর্মযজ্ঞে নিয়োজিত রয়েছেন শত শত শ্রমিকসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরির লোকবল। এক সময়ের ভাঙনকবলিত রাবনাবাদপাড়ে পায়রা বন্দরের কর্মযজ্ঞের কারণে বিরাজ করছে কোলাহলমুখর পরিবেশ। পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনাল, ছয় লেন সড়ক ও ফোর লেন সেতুর নির্মাণসহ এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে চার হাজার ৫১৬ কোটি টাকা। এখন শেষের পথে দেশের তৃতীয় পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনাল নির্মাণ কাজ।

এ বছরই সড়কপথে পণ্য খালাসের জন্য টার্মিনালে সরাসরি ২০০ মিটার দীর্ঘ পণ্যবাহী জাহাজ ভেড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে দিনরাত কাজ করছেন পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ। রাবনাবাদ চ্যানেলের চারিপাড়ায় নির্মিত এ টার্মিনালে একই সঙ্গে ২০০ মিটারের তিনটি মাদার ভেসেল ভেড়ানোর সক্ষমতা থাকছে। ৬৫০ মিটার দীর্ঘ মূল টার্মিনাল এবং তিন লাখ ২৫ হাজার বর্গমিটার ব্যাকআপইয়ার্ড, ১০ হাজার বর্গমিটার সিএফএস সুবিধা থাকছে। এ বন্দরে পণ্য খালাসে সকল ধরনের অত্যাধুনিক যন্ত্র ব্যবহারের মধ্য দিয়ে বার্থিং সুবিধা পাবেন আমদানিকারকরা। পায়রা বন্দরের উপ-পরিচালক (ট্রাফিক) আজিজুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৯ নভেম্বর পায়রা সমুদ্রবন্দরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই থেকে শুরু হওয়া বিস্ময়কর উন্নয়ন কর্মের কারণে এক সময়ের অবহেলিত সাগরপাড়ের এই জনপদের দৃশ্যপট আজ বদলে গেছে।