মূল্যস্ফীতি নিম্নমুখী

বাংলাদেশ ব্যাংকের নেওয়া পদক্ষেপের সুফল

শীতের সুবাতাস বইতে শুরু করেছে নিত্যপণ্যের বাজারে। সরবরাহ বাড়ায় প্রতি বছরের মতো এবারও কমতে শুরু করেছে শীতকালীন সবজির দাম। যদিও এখনো তা ক্রেতাদের হাতের নাগালে আসেনি বলেই অভিযোগ অনেকের। সেই সঙ্গে বাজারে এখন আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে গরুর মাংসের দাম হঠাৎ কমে যাওয়ার বিষয়টি। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় জনপ্রিয় এই মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকা কেজি দরে। গরুর মাংসের প্রভাবে কমেছে মাছ, মুরগি এমনকি ডিমের দামও। বাজারে এমন স্বস্তির মধ্যে মূল্যস্ফীতি কমে আসার খবর জানাল বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)।

সরকারি এই সংস্থার হিসাবে নভেম্বর মাসে দেশে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৪৯ শতাংশ। অর্থাৎ সদ্য শেষ হওয়া মাসে কোনো পণ্য কিনতে গত বছরের নভেম্বর থেকে প্রায় সাড়ে ৯ শতাংশ বাড়তি দাম গুনতে হয়েছে ক্রেতাদের। এর আগের মাস অক্টোবরে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

বেড়ে যাওয়া মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এরই মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছে। সম্প্রতি গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদারের সঙ্গে কয়েকজন অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞদের বৈঠকে নেওয়া হয় নীতি সুদহার বাড়ানোর মতো সিদ্ধান্ত। পরে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে জানানো হয় ডিসেম্বর শেষে মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের ঘরে নিয়ে আসার জন্য চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

নভেম্বরের হিসাবে দেখা যায়, শুধু খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এর আগের মাসে খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি ছিল ১২ দশমিক ৫৬ শতাংশ। হিসাবে খানিকটা কমলেও এখনো সার্বিক মূল্যস্ফীতির চেয়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেশ খানিকটা বেশি। এ ছাড়া নভেম্বরে খাদ্যবর্হিভূত মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ১৬ শতাংশ, যা তার আগের মাসে ছিল ৮ দশমিক ৩০ শতাংশ।

গত মাসের হিসাবে শহরের চেয়ে গ্রামাঞ্চলে মূল্যস্ফীতির পরিমাণ বেশি দেখা গেছে। গ্রামাঞ্চলের মানুষের আয় শহরের তুলনায় কম হলেও মূল্যস্ফীতি কেন বেশি তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে প্রশ্ন রয়েছে। অক্টোবর মাসেও শহরের চেয়ে গ্রামাঞ্চলে মূল্যস্ফীতি বেশি লক্ষ করা যায়। নভেম্বরে শুধু শহরাঞ্চলে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ, বিপরীতে গ্রামাঞ্চলে যা ছিল ৯ দশমিক ৬২ শতাংশ। অর্থাৎ শহরের চেয়ে গ্রামের মানুষকে বাড়তি দামে অনেক পণ্য কিনতে হচ্ছে। বিবিএসের হিসাবে আরও বলা হয়েছে, গ্রামাঞ্চলে শুধু খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ১০ দশমিক ৮৬ শতাংশ, যা শহরে ছিল ১০ দশমিক ৫৮ শতাংশ। তবে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি শহর ও গ্রাম দুই জায়গাতেই ছিল অনেকটা সহনীয়।