দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে নয়া উদ্যোগ

সরকার স্থলভাগ থেকে আরও গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছে। উচ্চমূল্যের এলএনজির ওপর নির্ভরতা কমাতে এই উদ্যোগ বলে জানা গেছে। এজন্য সিলেট গ্যাস ফিল্ডের খনিগুলো থেকে উত্তোলন বৃদ্ধির চেষ্টা করা হচ্ছে। খনিটিতে সাড়ে ৫ টিসিএফের মতো মজুত রয়েছে। কৈলাসটিলায় কূপ খনন করে ইতোমধ্যে সাফল্যও মিলেছে।

সূত্র বলছে, দেশে মজুত প্রায় ৩০ ট্রিলিয়ন ঘনফুটের (টিসিএফ) মধ্যে মাত্র সাড়ে ৯ টিসিএফ অবশিষ্ট রয়েছে। বাকি ২০ দশমিক ৫০ টিসিএফ ইতোমধ্যে উত্তোলন করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ আগামী দুই বছরের মধ্যে ৬০০ থেকে ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে বলে আশা করছেন। অর্থাৎ সরকার বিদ্যমান খনির ওপর আরও নির্ভরতা বৃদ্ধি করছে। তিনি বলেন, ২০২৫-এর মধ্যে নতুন ৪৬ কূপ খনন করা হবে।

যদিও এরমধ্যে আশার আলো দেখাচ্ছে ভোলার গ্যাস। সেখানে দুটি খনিতে গ্যাস পাওয়া গেছে। তবে শরীয়তপুরের অনুসন্ধান কূপটিতে গ্যাস না মেলায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে যে আশা করা হচ্ছিল তা পূরণ হচ্ছে না। এরপরও দেশের এই অঞ্চলে আরও অনুসন্ধান চালাচ্ছে বাপেক্স। এর আগে সুন্দরবনে ব্লক ৭-এ গ্যাস পাওয়ার আশা করলেও শেষ পর্যন্ত শেভরন বাংলাদেশ তা পায়নি।

বাপেক্স

দেশীয় কোম্পানির মধ্যে বাপেক্সের হাতে রয়েছে ৮টি খনি। এসব খনিতে প্রায় দেড় টিসিএফ মজুতের মধ্যে ৮৪৯ বিসিএফ তোলা হয়েছে। এরমধ্যে বেগমগঞ্জ খনিতে ৩৩ বিসিএফ মজুত ছিল, ১৩ বিসিএফ উত্তোলন করা হয়েছে, ২০ বিসিএফ অবশিষ্ট আছে। একইভাবে শাহবাজপুর খনিতে ২৬১ বিসিএফ মজুত ছিল, ১৪৬ দশমিক ৬ বিসিএফ উত্তোলন করা হয়েছে, ১১৪ দশমিক ৪ অবশিষ্ট আছে। সেমুতাং খনিতে ৩১৮ বিসিএফ মজুত ছিল, ১৪ দশমিক ৩ বিসিএফ উত্তোলন করা হয়েছে, ৩০৩ দশমিক ৭ বিসিএফ অবশিষ্ট আছে। ফেঞ্চুগঞ্জ খনিতে ৩২৯ বিসিএফ মজুত ছিল, ১৭৩ দশমিক ৫ বিসিএফ উত্তোলন করা হয়েছে, ১৫৫ দশমিক ৫ বিসিএফ অবশিষ্ট আছে। সালদা নদী খনিতে ২৭৫ বিসিএফ মজুত ছিল, ৯৭ বিসিএফ উত্তোলন করা হয়েছে, ১৭৭ দশমিক ১ বিসিএফ অবশিষ্ট আছে। শ্রীকাইল খনিতে ১৬১ বিসিএফ মজুত ছিল, ১৪০ দশমিক ৫ বিসিএফ উত্তোলন করা হয়েছে, ২০ দশমিক ৫ বিসিএফ অবশিষ্ট আছে। সুন্দলপুর খনিতে ৫০ দশমিক ২ বিসিএফ মজুত ছিল, ২৪ দশমিক ৫ বিসিএফ উত্তোলন করা হয়েছে, ২৫ দশমিক ৭ বিসিএফ অবশিষ্ট আছে। রূপগঞ্জ খনিতে ৩৩ দশমিক ৬ বিসিএফ মজুত ছিল, ০ দশমিক ৭ বিসিএফ উত্তোলন করা হয়েছে, ৩২ দশমিক ৯ বিসিএফ অবশিষ্ট আছে।

বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড লিমিটেড

দেশে সবচেয়ে বেশি গ্যাস মজুত রয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড লিমিটেডের খনিতে। দেশের সবচেয়ে বড় খনি তিতাস রয়েছে এই কোম্পানির হাতে। ১২ দশমিক ২৫ টিসিএফ মজুতের মধ্যে ৯ দশমিক ২৬ টিসিএফ উত্তোলন করেছে কোম্পানিটি। এখনও তাদের হাতে মজুত রয়েছে ৩ টিসিএফ গ্যাস।

সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেড

এখন মজুতের হিসাবে সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেডে সবচেয়ে বেশি গ্যাস মজুত রয়েছে। ৭ টিসিএফের মধ্যে মাত্র আড়াই টিসিএফ তোলা হয়েছে। এখনও সিলেট গ্যাস ফিল্ডের হাতে ৫ দশমিক ১৭ টিসিএফ গ্যাস মজুত রয়েছে।

শেভরন বাংলাদেশ

দেশের গ্যাস খনিগুলোর মধ্যে এখনও সবচেয়ে বেশি গ্যাস তোলে আন্তর্জাতিক তেল গ্যাস কোম্পানি শেভরন। শেভরন তাদের বিবিয়ানা খনি থেকে প্রতিদিন এখন ১ হাজার ৬৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস তুলছে। যদিও গত দুই বছরে এই খনি থেকে উত্তোলনের পরিমাণ কমেছে আশঙ্কাজনকভাবে। গত দুই বছরে দৈনিক প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো গ্যাসের উৎপাদন কমেছে। যদিও সরকারের তরফ থেকে শেভরনকে বিবিয়ানার আশপাশের এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধানের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বিবিয়ানা থেকে ৫ হাজার ৭৫৫ বিসিএফ গ্যাসের মধ্যে ৫ হাজার ৬৩১ বিসিএফ তোলা হয়েছে। যদিও এই প্রতিবেদন নিয়ে দ্বিমত রয়েছে পেট্রোবাংলার। পেট্রোবাংলার একজন কর্মকর্তা জানান, এখনও ১ হাজার থেকে দেড় হাজার বিসিএফের মতো গ্যাস সেখানে মজুত রয়েছে।

এছাড়া শেভরনের হাতে থাকা মৌলভীবাজার খনিতে ৪২৮ বিসিএফের মধ্যে ৩৪৮ বিসিএফ তোলা হয়েছে। সেখানে ৭৯ বিসিএফ অবশিষ্ট রয়েছে।

ধারণা করা হয়েছিল, জালালাবাদ খনিতে গ্যাসের মজুত রয়েছে ১৪২৯ বিসিএফ। কিন্তু এখন পর্যন্ত ১৬০১ বিসিএফ গ্যাস তোলার পরও সেখানকার গ্যাস শেষ হয়নি। বরং এখনও সেখান থেকে প্রতিদিন ১৬৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস তোলা হচ্ছে।

নাইকো

বিদেশি কোম্পানির মধ্যে এখন নাইকো ফেনী থেকে গ্যাস তুলছে। এখানে ১৩০ বিসিএফের মধ্যে ৬৩ বিসিএফ তোলা হয়েছে। বাকি রয়েছে ৬৭ বিসিএফ।

তাল্লো

তাল্লো বাঙ্গুরাতে গ্যাস তুলছে। সেখানে ৬২১ বিসিএফের মধ্যে ৫৪৭ বিসিএফ তোলা হয়েছে। অবশিষ্ট রয়েছে ৭৩ বিসিএফ।