কৃষকদের নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে ‘গাছ আলু’

দেশে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয়েছে মাচা পদ্ধতিতে ‘গাছ আলু’ চাষ। সাধারণ আলুর চেয়ে অধিক পুষ্টিগুণে ভরপুর এ আলু চাষ করে আর্থিকভাবে অধিক লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা। বাজারে এ সবজির চাহিদা থাকায় অনেকেই ফসলটি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের তোরাপ শেখেরপাড়া গ্রামের তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা হুমায়ুন আহমেদ ২০ শতক জমিতে ‘গাছ আলু’ চাষ করেছেন। মাচা পদ্ধতিতে চাষ করা এ আলু গাছে একেকটি ২ থেকে ৪ কেজি পর্যন্ত হয়। ফলনও ভালো হয়েছে। গরমের শুরুতে এ আলুর চাষ করা হয়, আর শীতের শুরুতে ফলন আসে।

কৃষক হুমায়ুন আহমেদ বলেন, ‘আমি নিজে খাবার হিসেবে এ আলু খাই। খাবারের সঙ্গে নিয়মিত এ আলু খেলে হার্ট ভালো হবে এবং শরীরে ক্যালসিয়াম ঘাটতি পূরণ হবে। তা ছাড়া খাবার হিসেবে গাছ আলু সাধারণ আলুর চেয়ে দেড় থেকে দুই গুণ ফলন ও পুষ্টিমান বেশি। বাজারে দামও ভালো পাওয়া যায়। এ আলু চাষে যেকোনো গাছের গোড়ার একটু দূরে রোপণ করলে আস্তে আস্তে ওই গাছ বেয়ে উপরে উঠে আলু ধরতে থাকে। আলু গাছ রোপণের মাস তিনেক পর থেকেই গাছে আলু ধরতে শুরু করে।’

গোয়ালন্দ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. খোকন উজ্জামান বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্পের সহায়তায় আমরা উচ্চমূল্যের ফসল সম্প্রসারণে কাজ করে যাচ্ছি। এরই ধারাবাহিকতায় গোয়ালন্দে বাণিজ্যিকভাবে গাছ আলু চাষ করে কৃষকদের সফল হওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। প্রশিক্ষণ নিয়ে এ আলু অনেকেই চাষ করছেন। গোল আলুর অপেক্ষা গাছ আলুর উৎপাদন খরচ অনেক কম। তা ছাড়া পুষ্টি ও ঔষধি হিসেবে গোল আলুর চেয়ে দেড় থেকে দুই গুণ বেশি। এটি অত্যন্ত লাভজনক একটি ফসল। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কারিগরি সহযোগিতা, বিশেষ ক্ষেত্রে প্রদর্শনী এবং উপকরণ সহযোগিতা করে যাচ্ছি।

জানা গেছে, সাধারণ আলুর মতো শর্করা ছাড়াও এ আলুতে রয়েছে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, পটাসিয়ামসহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে আঁশ। যা মানবদেহের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।