প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার ৯ বছর পর বিটিএমসির বন্ধ মিল ইজারা দিতে কমিটি গঠন

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার ৯ বছর পর বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) বন্ধ মিলগুলো বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দিয়ে আবার চালুর উদ্যোগ নিয়েছে পাট মন্ত্রণালয়। ইজারার মাধ্যমে বন্ধ মিলগুলো বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দেওয়া হবে। ইজারা পদ্ধতি চূড়ান্ত করতে ১০ সদস্যের একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করা হয়েছে।

গত ৯ নভেম্বর বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. আলমগীর হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবকে আহ্বায়ক করে গঠন করা এই ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন বিটিএমসির চেয়ারম্যান।

কমিটিতে সদস্য হিসেবে থাকবেন বিজেএমসির চেয়ারম্যান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিনিধি, অর্থ বিভাগের প্রতিনিধি, শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের যুগ্নসচিব।

কমিটি ইজারার শর্তাবলী, পদ্ধতি এবং প্রস্তাব চূড়ান্ত করার জন্য সুপারিশ করবে। সেই সঙ্গে মিলগুলো বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকারি স্বার্থ রক্ষায় গ্রহণীয় ব্যবস্থা সম্পর্কে সুপারিশ করবে। প্রয়োজনে কমিটি অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে কো-অপ্ট করতে পারবে।

কমিটির কাজ হবে, ইজারার প্রস্তাবগুলো চূড়ান্ত করার জন্য সুপারিশ প্রদান করবে; মিলগুলো বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকারি স্বার্থ রক্ষায় গ্রহণীয় ব্যবস্থা সম্পর্কে সুপারিশ প্রদান এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে পরামর্শ প্রদান।

২০১৪ সালের ১২ অক্টোবর বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় পরিদর্শনের সময় বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের বন্ধ মিল চালুর বিষয়ে নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার পরিপ্রেক্ষিতে বিটিএমসির বন্ধ মিলগুলো পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয় বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়।

বিটিএমসির ২৫টি মিলের ৬৩৬ দশমিক ৩৮ একর জমি অব্যবহূত অবস্থায় পড়ে আছে। অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ১৬টি মিল পিপিপির মাধ্যমে চালু করার অনুমোদন দেয়। এর মধ্যে ১৪টি মিল চালু করার কোনো প্রক্রিয়াই শুরু করতে পারেনি। সম্প্রতি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনায় চাপ প্রয়োগ করে বিক্রি হওয়া মিল চালুর বিষয়ে সুপারিশ করে সংসদীয় কমিটি।