২০২৪ সালে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির তালিকায় বাংলাদেশ ১৬তম

ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্টের প্রতিবেদন

২০২৪ সালে সবচেয়ে বেশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হওয়ার সম্ভাবনাময় দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশের নাম। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) অক্টোবরে প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুকের পূর্বাভাস অনুসরণ করে বিশ্বজুড়ে দ্রুত বর্ধনশীল দেশগুলোর তালিকা করেছে কানাডাভিত্তিক ওয়েবসাইট ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্ট। এই তালিকায় বাংলাদেশকে রাখা হয়েছে ১৬তম অবস্থানে। তবে ওই ওয়েবসাইটের প্রতিবেদনে গড় প্রবৃদ্ধি নিয়ে যে অনুমান তা বাংলাদেশ সরকারের দাবির চেয়েও নিচে। সরকার জিডিপি বা গড় প্রবৃদ্ধির হার ২০২৩ সালেই ৭-এর বেশি দাবি করলেও ওয়েবসাইটটি আইএমএফের প্রবৃদ্ধি ধারণাকে তুলে ধরে বলেছে ২০২৪ সালে বাংলাদেশের গড় প্রবৃদ্ধি হবে ৬ শতাংশ। বাংলাদেশ সরকার ২৪ অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ৭.৫ শতাংশ।

এ তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র ভারতেরই গড় প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা বাংলাদেশের ওপরে। দেশটিকে এ তালিকায় রাখা হয়েছে ১১তম অবস্থানে।

২০২৪ সালের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে বেশির ভাগ এশিয়া ও সাব-সাহারান আফ্রিকা অঞ্চলে হতে যাচ্ছে বলে ধারণা ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্টের। ওয়েবসাইটটিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের দ্রুততম প্রবৃদ্ধি ঘটতে যাচ্ছে ওই দুটি অঞ্চলেই। তবে যুদ্ধ এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বিশ্বজুড়ে বেড়ে যাওয়ায় আগামী বছর বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির গড় ২ দশমিক ৯ শতাংশের বেশি প্রত্যাশা করতে পারেনি ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্ট।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির তালিকায় প্রথমেই রয়েছে দ্বীপ রাষ্ট্র ম্যাকাও। দেশটির জিডিপি হতে পারে ২৭ দশমিক ২ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে গায়ানা। ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্ট এই দেশটির প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখছে ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ। এরপর রয়েছে আরেক দ্বীপ রাষ্ট্র পালাউ, গড় প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা ১২.৪ শতাংশ। এরপর আছে আফ্রিকার রাষ্ট্র নাইজার, গড় প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা ১১.১ শতাংশ; পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে সেনেগাল, গড় প্রবৃদ্ধির সম্ভাব্য হার ৮.৮ শতাংশ। ষষ্ঠ অবস্থানে আছে লিবিয়ার নাম। দেশটির গড় প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা ৭.৫ শতাংশ। ৭ থেকে ১০ নম্বরের মধ্যে রয়েছে যথাক্রমে রুয়ান্ডা (৭.০ শতাংশ), আইভরি কোস্ট (৬.৬ শতাংশ), বুরকিনা ফাসো (৬.৪ শতাংশ) ও বেনিন (৬.৩ শতাংশ)।

ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্টের তালিকায় ১১তম স্থানে রয়েছে ভারত। দেশটির প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ। এরপর ১২ থেকে ১৫তম অবস্থানে রয়েছে গাম্বিয়া (৬.২ শতাংশ), ইথিওপিয়া (৬.২ শতাংশ), কম্বোডিয়া (৬.১ শতাংশ), তাঞ্জানিয়া (৬.১ শতাংশ)।

১৬তম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ঠিক নিচে অবস্থান করা জিবুতি ও বুরুন্ডির জিডিপিও হতে পারে বাংলাদেশের সমান অর্থাৎ ৬.০ শতাংশ।

উল্লেখ্য, আইএমএফ বাংলাদেশের ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাস, আগের ৫.৫ শতাংশ থেকে সংশোধন করে ৬ শতাংশ করেছে।