বাংলাদেশের ধনী রাষ্ট্র হওয়া অসম্ভব কিছু নয়

স্বাধীনতা অর্জনের ৫২ বছরে বিশ্বের দরবারে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বব্যাপী দেশের ভাবমূর্তিও উজ্জ্বল হয়েছে। বিভিন্ন বৈশ্বিক ফোরামে বাংলাদেশ এখন নেতৃত্ব দিচ্ছে। একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর পররাষ্ট্রনীতি- সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয় অনুযায়ী এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। আয়তনে ছোট ও সীমিত সম্পদ নিয়ে ৫১ বছরের মাথায় অর্থনৈতিক ভিত মজবুত করেছে। উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় যাওয়ার সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছে। এ ছাড়া বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর চাপ উপেক্ষা করে পরমাণু অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ চুক্তিতে সই করেছে বাংলাদেশ। ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা- ওআইসিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশ্বের অন্যতম মুসলিম দেশ হিসেবে মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে গভীর বন্ধুত্ব গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে। ৫২ বছরে বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর সঙ্গেও কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করে চলেছে। বাংলাদেশ এখন রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলা করছে। ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বিশ্বে মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। দেশটি বর্তমানে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরাতে কূটনীতি চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ বর্তমানে উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তির দেশ। অর্থনীতির গতিময়তায় দক্ষিণ এশিয়ার গণ্ডি ছাড়িয়ে এখন সারা বিশ্বে তার পরিচিতি। গত বছর শ্রীলঙ্কার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের ২০০ মিলিয়ন ডলার সহায়তামূলক ঋণ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ। একটি দরিদ্র সাহায্যপ্রার্থী দেশ থেকে আঞ্চলিক প্রভাবশালী দেশ হওয়ার পথে এটি বাংলাদেশের জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট। ১৯৭১-এ পাকিস্তান থেকে স্বাধীনতা অর্জনের সময় বাংলাদেশ ছিল আপাত সম্ভাবনাহীন পৃথিবীর দরিদ্রতম একটি দেশ, যাকে হেনরি কিসিঞ্জার তলাবিহীন ঝুড়ি হিসেবে উল্লেখ করেন। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশ ১৮ কোটি মানুষের একটি সমৃদ্ধ দেশ।

যাদের আছে রপ্তানিনির্ভর এক বিশাল অর্থনীতি। দারিদ্র্য দূর করায় তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতির স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ ২০১৩ সালে ‘সাউথ-সাউথ অ্যাওয়ার্ড’ পায়। যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান পিডব্লিউসির পূর্বাভাস অনুযায়ী, বাংলাদেশ ২০৫০-এর মধ্যে বিশ্বের ২৩তম বৃহৎ অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হবে। এ ছাড়া, দ্য গোল্ডম্যান স্যাচ পূর্বাভাস দিয়েছে, ব্রিকসের পর যে ১১টি দেশ আগামী পৃথিবীর অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করবে বাংলাদেশ তার একটি। এদিকে ভারতের অর্থনীতির চেয়ে চীনের অর্থনীতি কয়েক গুণ বড়। প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ হওয়ার পরও কখনোই কোনো সূচকে চীনকে টপকাতে পারেনি ভারত। বাংলাদেশের অর্থনীতির ১০ গুণ বড় ভারতের অর্থনীতি। অথচ কয়েকটি সূচকে ভারতকে পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ। নারীর ক্ষমতায়ন, নারী শিক্ষার হার, নবজাতক ও ৫ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর হার কমিয়ে আনায় বাংলাদেশের সূচক ভারতের চেয়ে অনেক ওপরে। বিভিন্ন সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে দুরবস্থা কাটিয়ে ওঠা এবং করোনাকালে উন্নয়নধারাকে অব্যাহত রাখার পারদ ভারতের চেয়ে বাংলাদেশ ওপরে। এর মধ্যেই আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাস দিয়েছে মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ভারতকে পেছনে ফেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ এবং ২০০৯ সাল থেকে বিচক্ষণ আর্থিক ও ঋণ ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী ও অবকাঠামো প্রকল্পে বিনিয়োগের মাধ্যমে সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশে গত চার দশকে অর্থনৈতিক অগ্রগতি ছিল সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এ ধারা অব্যাহত রয়েছে। মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের চেয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে। ২০২০ সালে দক্ষিণ এশিয়ার গড় জিডিপি ৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছিল। অথচ সে বছর বাংলাদেশে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। বাংলাদেশ এখন ভারতের তুলনায় রাজস্ব ঘাটতি, বাণিজ্য ভারসাম্য, ঋণ ও জিডিপির সঙ্গে আনুপাতিক বিনিয়োগ হারের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে এগিয়ে।

বাংলাদেশের জিডিপিতে সাধারণ কৃষি খাতের অবদান ছিল এক-তৃতীয়াংশ। তবে ২০১০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে তা কমে জিডিপির ১৫ শতাংশের নিচে নেমে গেছে। অন্যদিকে একই সময় জিডিপিতে শিল্প খাতের অবদান এক-পঞ্চমাংশের কম থেকে বেড়ে এক-তৃতীয়াংশ হয়েছে। ১৯৮০ সাল থেকে জিডিপিতে উৎপাদন খাতের অবদান দ্বিগুণ হয়েছে। অন্যদিকে নব্বইয়ের দশক থেকে রপ্তানি ২০ গুণ বেড়ে ৪ হাজার কোটি মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। অধিক রেমিট্যান্স থেকে কম মজুরির শ্রমিকরাও দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন। ২০১৯ সালে রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৬৪০ কোটি ডলার। এ ছাড়া শক্তিশালী রেমিট্যান্স, রপ্তানি ও কৃষির কল্যাণে বাংলাদেশ ২০২৬ সাল পর্যন্ত মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতের চেয়ে এগিয়ে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০২০ সালে ভারতের মাথাপিছু জিডিপি ২ হাজার ৯৮ ডলার থেকে কমে হয় ১ হাজার ৯২৯ ডলার। অর্থনীতির আকার ২ লাখ ৮৭ হাজার কোটি থেকে কমে দাঁড়ায় ২ লাখ ৬৬ হাজার কোটি ডলারে। একই বছর মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতকে ছাড়িয়ে যায় বাংলাদেশ। টানা ১৫ বছর ধরে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধিতে ওই বছর বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার ছিল ৩৫ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। আর মাথাপিছু জিডিপি ১ হাজার ৯৬১ ডলার। ২০০৪ সাল থেকে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি এভাবে বাড়তে থাকে। এর আগে শুধু ২০১৭ সালে যখন ভারতের প্রবৃদ্ধি কমতে থাকে, তখন ভারতের চেয়ে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। ২০০৮ সালের বৈশ্বিক মন্দার আগে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি ছিল ভারতের অর্ধেক। তবে ২০১৪ সালের মধ্যে তা ৭০ শতাংশ বাড়ে। ২০২০ সালে করোনার কারণে ভারতের অর্থনীতির ৭ দশমিক ৩ শতাংশ সংকুচিত হয়েছিল। তবে একই বছর বাংলাদেশর অর্থনীতির আকার বাড়ে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ।

বাংলাদেশের মানব উন্নয়ন কর্মসূচি, বিশেষত মেয়েদের শিক্ষার হার বৃদ্ধিতে জন্মহার ও বাল্যবিবাহ হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ শিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নে বিনিয়োগের মাধ্যমে মাতৃমৃত্যুর হার কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে সফল হয়েছে। গড় আয়ু, জন্মহার ও শিশুপুষ্টির মতো মানব উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশ ভারতের চেয়ে অনেক এগিয়ে গেছে। বাংলাদেশের মানুষ এই অর্থনৈতিক অগ্রগতির ব্যাপক সুফল পাচ্ছে। সেই তুলনায় ভারত অনেকটা পিছিয়ে। বাংলাদেশের এই অর্থনৈতিক অগ্রগতির ফলে এ দেশের জনগণের জীবনমান বৃদ্ধি পেয়েছে, যা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার বিগত ৫০ বছরে প্রায় ২৭০ গুণ বেড়েছে। বাংলাদেশের বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৫ শতাংশ অথবা এর কম থাকছে। বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। রপ্তানিভিত্তিক শিল্প-কলকারখার সংখ্যা বৃদ্ধির কল্যাণে বাংলাদেশ এমন অবস্থানে উঠে এসেছে। বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের অধিকাংশই বস্ত্র, তৈরি পোশাক ও পাদুকা পণ্য (ফুটওয়্যার)। তবে এসব শিল্পের অধিকাংশ শ্রমিক অদক্ষ বা আধা দক্ষ।

বাংলাদেশের অধিকাংশ রপ্তানিপণ্য মুক্তবাণিজ্য চুক্তির সুবিধা ভোগ করছে। উদ্ভাবন ও স্বল্প বেতন হওয়ায় প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক বাজারে অনেক ক্রেতা ভারতের বদলে বাংলাদেশকে বেছে নিচ্ছে। ভারতের ষষ্ঠ বৃহৎ বাণিজ্য অংশীদার বাংলাদেশ। দুই দেশের মধ্যে ২০২০-২১ অর্থবছরে ১ হাজার ৮০ কোটি ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য হয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে এই বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৯৫০ কোটি ডলার। ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির আলোকে বাণিজ্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের যে বাণিজ্য সম্ভাবনা রয়েছে, তার সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করছে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর। সম্প্রতি নিত্যপণ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধি, সেবা ও জ্বালানি, অবকাঠামো উন্নয়ন ও আন্তসীমান্ত বিনিয়োগ উৎসাহিত করাসহ দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

ভারতের ছোট প্রতিবেশী হয়েও বাংলাদেশ এভাবে উন্নতি করছে। তবে উন্নতি করার মতো আরও অনেক বিষয় রয়েছে। বাংলাদেশ এখন দক্ষিণ এশিয়ায় অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার তারকার খ্যাতি উপভোগ করছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সামরিক সক্ষমতাও বৃদ্ধিতেও সহায়তা করছে। চীন-রাশিয়ার মতো পুরোনো উৎস বাদ দিয়ে বাংলাদেশ সামরিক বাহিনী কিছু বড়সড় কেনাকাটা করতে যাচ্ছে। তারা ইতোমধ্যে তুরস্ক থেকে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের সামরিক যান কিনেছে। বাংলাদেশ বিমানবাহিনী আমেরিকান এফ-১৬ অথবা ইউরো ফাইটার টাইফুন কেনার চিন্তা করছে।

এদিকে ধীরে ধীরে দক্ষিণ এশিয়ায় অর্থনৈতিক হাব হয়ে উঠছে বাংলাদেশ। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বড় বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রস্তুত করা হচ্ছে। এর ফলে লাখো মানুষের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অর্থনীতির উন্নতি হবে। এতে বদলে যাবে দেশের সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক অবস্থা। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে ২০১৮ সালে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস আইন প্রণীত হয়েছে, ফলে বিনিয়োগকারীরা একই পয়েন্ট থেকে সব ধরনের সেবা পাবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার টানা তিন মেয়াদের সরকার ও জনগণের দূরদর্শী পরিকল্পনা, তা বাস্তবায়নে পদক্ষেপ ও কঠোর পরিশ্রম বাংলাদেশের জন্য এ ধরনের সাফল্য এনে দিয়েছে। তবে বাংলাদেশ ভারতকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয় বরং বন্ধুপ্রতিম দেশ বলেই গণ্য করে। প্রতিবেশী এ দেশসহ অন্যান্য ক্ষমতাধর দেশের সঙ্গে গঠনমূলক সুসম্পর্ক বজায় রাখার ব্যাপারে বাংলাদেশ আস্থাশীল। দেশের সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এ দেশগুলোকে অংশীদার হিসেবে মনে করে। এমন প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে বাংলাদেশের এই উত্থানের কারণ বিশ্লেষণ করে দেখা জরুরি হয়ে পড়েছে। এটি বুঝতে হলে পেছন ফিরে তাকাতে হবে।

তবে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা কুটিরশিল্পগুলোকে বিকশিত হওয়ার সুযোগ দিলে দেশের মানুষ বহুমুখী কর্মযজ্ঞে সচল রাখবে দেশের অর্থনীতির চাকা। গ্রামের জিনিস শহরে আসবে-যাবে দেশ ছাড়িয়ে বিদেশে। সমৃদ্ধ হবে বাংলাদেশের অর্থনীতি। বিভিন্ন বিশ্লেষণ থেকে দেখা যায়, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সিঙ্গাপুরের চেয়ে বাংলাদেশের ধনী দেশ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আশপাশের দেশগুলোকে তাদের যোগাযোগ রক্ষা করতে হলে বাংলাদেশকে মাধ্যম হিসেবে নেয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। অথচ আমরা জানি মাত্র ৫০ বছর আগেও সিঙ্গাপুর ছিল একটি হতদরিদ্র দেশ। সে সময় সিঙ্গাপুরকে কলোনি অব কুলিজ বলে উপহাস করত। সিঙ্গাপুরের প্রতিষ্ঠাতা প্রধানমন্ত্রী লি কুয়ান নিজের লেখা বইতে বলেছেন, মালয়েশিয়া যখন সিঙ্গাপুরকে পৃথক করে দিল, তখন মনে হলো ইট বিকাম এ হার্ট উইদাউট বডি। কিন্তু সেই অনিশ্চিত সিঙ্গাপুর দরিদ্র অবস্থান থেকে কতটা ওপরে উঠে এসেছে, তা রীতিমতো অভাবনীয়। এখন দুনিয়ায় সিটি স্টেট বলতে সিঙ্গাপুরকেই বোঝায়। সিঙ্গাপুরের এমন ঈর্ষণীয় সাফল্যের মূলে রয়েছে ব্যবসাকেন্দ্র, যার দুনিয়াজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি। বলা যায়, সিঙ্গাপুরের সমৃদ্ধির নেপথ্য মূলত বন্দরকে কেন্দ্র করেই। আমাদের বাংলাদেশেরও সমুদ্র বন্দর আছে। আমরা চাইলে এই বন্দরগুলোকে বিশ্ববাণিজ্যের ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারি। আর সত্যিই যদি তা পারা যায় তাহলে সিঙ্গাপুরের চেয়ে বাংলাদেশের ধনী রাষ্ট্র হওয়া অসম্ভব কিছু নয়।

লেখক: রায়হান আহমেদ তপাদার
গবেষক ও কলামিস্ট