মুন্সীগঞ্জের কপির চারা যাচ্ছে সারাদেশে

কৃষকের সূক্ষ্ম-নিবিড় পরিচর্যায় বেড়ে উঠছে শীতকালীন সবজি কপির চারা, বিক্রিও হচ্ছে প্রতিদিন। যা চলবে কার্তিক পর্যন্ত। আগামী শীত মৌসুমের শুরুতে চারা থেকে পূর্ণাঙ্গ রূপ নিয়ে দেশী জাতের এই কপি বিক্রি হবে খুচরা বাজারে। মুন্সীগঞ্জের দেশী জাতের আগাম কপিচারার আলাদা সুনাম-বৈশিষ্ট্য রয়েছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে যা চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। উন্নত মান ও ফলনের কারণে প্রতিবছর আষাঢ়-কার্তিক মৌসুমে একদফায় দেশী জাতের এবং অগ্রহায়ণ-ফাল্গুন পর্যন্ত আরেক দফায় বিদেশী জাতের দানা থেকে কপি চারা উৎপাদন হয় জেলা সদর ও টঙ্গীবাড়ি উপজেলার প্রায় ১২ হেক্টর জমিতে। যা থেকে কৃষকের আয় কোটি টাকার ওপরে।

সম্প্রতি সরেজমিনে সদর ও টঙ্গীবাড়ি উপজেলার বেশ কয়েকটি কপির বীজতলা ঘুরে দেখা যায়, কপির চারা পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক। কপিখেতের পাশেই ছোট খুপরি ঘর তৈরি করে ২৪ ঘণ্টা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন তারা। এর মধ্যে গেল রবি-সোমবারের টানা দুইদিনের বর্ষণে চিন্তার ভাঁজ পড়েছিল কৃষকের কপালে। তবে, বৃষ্টি কাটিয়ে আবহাওয়া স্বাভাবিক হওয়ায় ক্ষতির ঝুঁকি কমেছে- বলছেন কৃষক।

ভট্টাচার্যের বাগ এলাকার চারাচাষি মাসুদ ঢালী জানান, প্রতিবছর শীতের আগে দুই একর জমিতে কপির দানা বপন করেন তিনি। ৩০-৩৫ বছর যাবৎ এ পেশায় জড়িত তার পরিবার। এ বছরও ১২ হাজার টাকায় প্রতিকেজি কপিদানা কিনে জমিতে বুনেছেন। প্রতিকেজি দানা থেকে এক লাখের ওপর কপিচারা জন্ম নিয়েছে। যার পেছনে সর্বমোট ব্যয় হয়েছে ৫ হাজার টাকা। আর এক টাকা পিস হিসাবে বিক্রি করলে ব্যয়ের সমপরিমাণ লাভের আশা তার। তবে, লোকসানের কোনো আশঙ্কা নেই।

সদর উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জাকির হোসাইন জানান, মুন্সীগঞ্জ সদর ও টঙ্গীবাড়ির ১০-১২ হেক্টর জমিতে প্রতিবছর দুই দফায় কপিচারা উৎপাদন করে ১০-১৫ জন কৃষক। দুই মৌসুমে কোটি টাকার ওপরে কপিচারা বিক্রি করেন তারা। শীতকাল সামনে রেখে দেশী জাতের কার্তিকা, আইট্টা, কাইট্টা, ষাইটশা ও চালানি ষাইটশা জাতের কপির চারা উৎপাদন হয় এখানে। অন্যদিকে শীতের শুরুতে তাইওয়ান, জাপানিজ জাতের (হাইব্রিড) কপিচারা উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে রয়েছে সিরাজি, হেমাজি, ফ্রেশ, ¯েœা হোয়াইট, লিনজা।

দেশী জাতের দানার তুলনায় বিদেশী জাতের দানার দাম কয়েকগুণ বেশি। ফলে এর উৎপাদন ব্যয়ও বেশি। অন্যদিকে বিদেশী হাইব্রিড জাতের কপি দেখতে হৃষ্টপুষ্ট হলেও দেশী জাতের কপি খেতে সুস্বাদু হওয়ায় এর চাহিদা ক্রেতাপর্যায়ে বেশি। তিনি বলেন, কপির দানা থেকে চারা উৎপাদনের প্রক্রিয়া অত্যন্ত নিবিড়ভাবে সম্পন্ন করতে হয়। এ সময় আবহাওয়ার তাপমাত্রা ওঠানামা করলে রোগে আক্রান্তের ঝুঁকি থাকে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. আব্দুল আজিজ বলেন, সবজির জন্য সারাদেশে মুন্সীগঞ্জের সুনাম রয়েছে। এ জেলায় প্রচুর উর্বর কৃষি জমি থাকায় কৃষক সকল মৌসুমেই বিভিন্ন কৃষি পণ্য উৎপাদন করে থাকেন। তবে কপির চারা এটি ‘মুন্সীগঞ্জ স্পেশাল’। দেশের কোথাও এই চারা এমনভাবে তুলতে পারে না। কারণ স্পর্শকাতর এই চারা তোলা এক বিশেষ যোগ্যতা। তাছাড়া মাটি ও আবহাওয়া একটি বিষয়। এখানে উৎপাদিত কপি বীজের মান খুব ভালো। যা স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে সারাদেশে চলে যাচ্ছে। কৃষকের প্রতি পরামর্শ থাকবে তারা যেন এই মান ও সুনাম ধরে রাখেন। মাঠকর্মীরা সর্বদা কৃষকদের এই ব্যাপারে সুপরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।

Views: 25