জ্বালানি তেল মজুত সক্ষমতা বাড়ছে, বিস্তার ঘটছে পাইপলাইনেও

দেশে এখন যে পরিমাণ জ্বালানি তেল মজুত করে রাখার ব্যবস্থা আছে, তাতে সবমিলিয়ে ৪৫ দিন পর্যন্ত সারা দেশের চাহিদা পূরণ সম্ভব। এই সক্ষমতা আরও পাঁচ দিনের বাড়ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। একইসঙ্গে জ্বালানি পরিবহনেও যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন পাইপলাইন। এই প্রকল্পগুলো সম্পন্ন হলে দেশের জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যবস্থা বদলে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সম্প্রতি জানিয়েছে, দেশে গড়ে আরও পাঁচ দিনের জ্বালানি তেল মজুত ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি দ্রুত এগিয়ে চলছে ঢাকা-চট্টগ্রাম পাইপলাইন নির্মাণ কাজ। পাইপ লাইনটি উদ্বোধন হলে জ্বালানি তেল পরিবহনে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে।

সংস্থাটি সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৩ সাল, এই ১৫ বছরে জ্বালানি তেলের মজুত ক্ষমতা ৯ লাখ মেট্রিক টন থেকে ১৩ লাখ ৯০ হাজার মেট্রিক টনে পৌঁছেছে। অর্থাৎ ৪ লাখ ৯০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানির মজুত বেড়েছে।

বিপিসি বলছে, এখন যে মজুত ক্ষমতা রয়েছে এতে ৪০ থেকে ৪৫ দিনের জ্বালানি চাহিদা পূরণে সক্ষম। বিপিসি এই মজুত ক্ষমতা ৫০ দিনের উন্নীত করা হয়েছে।

এছাড়াও চট্টগ্রামের প্রধান স্থাপনা হতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিশ্চিতকরণে কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় নিরবছিন্ন, দ্রুত ও সাশ্রয়ী পরিবহনের জন্য চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা পর্যন্ত ২৪৯ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার তেল পাইপলাইন নির্মাণের কাজ চলছে। এ পর্যন্ত প্রকল্পের ২২৮ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে।

আবার দেশের উত্তরাঞ্চলে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ নির্বিঘ্ন করতে ভারতের নুমালীগড় রিফাইনারির শিলিগুড়ি টার্মিনাল থেকে বাংলাদেশের পার্বতীপুর, দিনাজপুর পর্যন্ত ১৩১ দশমিক ৫০ কিলেমিটার দীর্ঘ ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন নির্মাণ করা হয়েছে।

এছাড়া নারায়ণগঞ্জে গোদনাইল হতে বিমানবন্দর পর্যন্ত পাইপলাইন নির্মাণ করা হচ্ছে। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নিরবচ্ছিন্ন জেট ফুয়েল সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এতে জেট ফুয়েল সরবরাহ নির্বঘ্ন হবে।

সবমিলিয়ে তেল সরবরাহের জন্য সারা দেশে প্রায় ৬২৪ কিলোমিটার তেল পাইপলাইন স্থাপন করা হচ্ছে। এরমধ্যে ৫৯০ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপনের কাজ ইতোমধ্যে শেষও হয়েছে।

অপরিশোধিত ক্রড অয়েল ও পরিশোধিত ডিজেল স্বল্প সময়ে খালাস ও পরিবহনের জন্য ‘ইনস্টলেশন অব সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) উইথ ডাবল পাইপলাইন’ প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজও শেষ হয়েছে।

এসব উদ্যোগের ফলে জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যাপক একটি পরিবর্তন আসবে এবং একই সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ব প্রতিষ্ঠান বিপিসিও লাভবান হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সংস্থাটির চেয়ারম্যান এবিএম আজাদ সম্প্রতি বলেন, জ্বালানি তেলের মজুত ক্ষমতার পাশাপাশি পরিবহন ব্যবস্থা উন্নত করা হচ্ছে। এতে সিস্টেম লস কমে আসায় বিপিসির মুনাফা বাড়বে। একই সঙ্গে পরিবহন খরচ কমে যাবে।

ইতোমধ্যে সাগরের মধ্যের অপরিশোধিত তেল এবং ডিজেল খালাস করার জন্য প্রকল্পর কাজ শেষ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শিগগিরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রকল্পটি উদ্বোধন করবেন বলে আশা করছি।’