কূটনৈতিক সাফল্য ও নিরাপত্তা, বাড়ছে জনশক্তি রপ্তানি

ছয় মাসে বিদেশে গেছেন ছয় লাখ

সরকারের নানা উদ্যোগ, কূটনৈতিক সফলতা এবং নিরাপদ অভিবাসনের কারণে বিদেশে জনশক্তি রপ্তানি বেড়ে চলেছে। সারাদেশের মধ্যে বিদেশে কর্মসংস্থানের শীর্ষ অবস্থানে আছে চট্টগ্রাম বিভাগের তিন জেলা। বিগত ছয় মাসে সারাদেশ থেকে ৬ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৬ জন চাকরির জন্য বিদেশে গেছেন। এরমধ্যে শুধু কুমিল্লা, চট্টগ্রাম আর ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকেই পাড়ি দিয়েছেন একলাখ ১১ হাজার ৬৬৯ জন। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা চট্টগ্রাম জেলা থেকে চলতি বছরে আরও উল্লেখ্যযোগ্যসংখ্যক মানুষ বিদেশে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যাবেন বলে আশা করছে জনশক্তি রপ্তানি ব্যুরো। তাদের আশা সরকারের তরফ থেকে যেহেতু বিদেশগমনেচ্ছুদের প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে সেহেতু মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে দক্ষ শ্রমিকের কদর আরও বাড়বে। চলমান ধারা অব্যাহত থাকলে রেকর্ড গড়বে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলা।

জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে গত বছরের তুলনায় এগিয়ে গেছে চট্টগ্রাম জেলা। তবে কুমিল্লা থেকে বিদেশগামী শ্রমিকের হার বাড়ছে। ফলে শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখতে পেরেছে জেলাটি। বিশেষ করে ওই জেলা থেকে বিভিন্ন দেশে কর্মী যাওয়ার সংখ্যা বাড়ছে, যা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। চট্টগ্রামের মানুষ কাজের সন্ধানে সবচেয়ে বেশি পাড়ি জমান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে। আরবের দেশ ছাড়া এ অঞ্চলের বাসিন্দারা অন্য দেশে কাজের সন্ধানে না যাওয়ায় কিছুটা পিছিয়ে পড়ছে জনশক্তি রপ্তানিতে। তবে বিষয়টি মোটেই উদ্বিগ্ন নয় বলছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে সরকারের পররাষ্ট্র নীতির কারণে বাড়ছে নিরাপদ অভিবাসন, যে কারণে শ্রমিক রপ্তানি করোনার পর থেকে ঊর্ধ্বমুখী। সারাদেশে এমন ধারা অব্যাহত থাকলে বিদেশে কাজের সন্ধানে কর্মী যাওয়া অব্যাহত থাকবে।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) চট্টগ্রাম অফিসের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আলী জনকণ্ঠকে জানান, কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস প্রবাসীদের জন্য বিভিন্ন সেবা ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। বিদেশ গমনেচ্ছুদের আরও দক্ষ করে তুলতে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে প্রশিক্ষণ। ফলে বিশ্ব বাজারে চাহিদার ভিত্তিতে যথাযথ কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান এবং সুষ্ঠু অভিবাসনের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি নিশ্চিত করা যাচ্ছে। এতে বাড়ছে রেমিটেন্সও। আশা করছি চলতি বছর চট্টগ্রাম থেকে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি বাড়বে।

সরকারের নানা উদ্যোগ ॥ সরকারের নানামুখী উদ্যোগের কারণে বর্তমানে শ্রমিক রপ্তানি বেড়েছে, বলছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিবাসনের সঙ্গে যুক্ত দপ্তরগুলোর বক্তব্য হলো, শ্রমিকদের দক্ষ করে এখন বিদেশ পাঠানো হচ্ছে, এ ধারা অব্যাহত থাকলে বাড়বে রেমিটেন্স। তারা বলছেন, বৈদেশিক কর্মসংস্থান, প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন, কল্যাণমূলক সেবা প্রদানের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা পালন করে আসছেন বিএমইটি। তবে বর্তমানে বিদেশগামী কর্মীদের নাম বিএমইটির ডাটাবেজে নিবন্ধন কার্যক্রমটির কারণে অনেক কাজ দ্রুত হচ্ছে। কর্মীদের বায়োমেট্রিক ফিঙ্গার ইমপ্রেশান (আগুলের ছাপ) গ্রহণ, কর্মীদের ছাড়পত্র ও স্মার্ট কার্ড প্রদান হওয়ায় বিদেশগমনেচ্ছুদের আগ্রহ বাড়ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একসময় প্রবাসীদের মৃত্যু হলে কিংবা কোনো দুর্ঘটনায় কর্মীর মৃত্যু হলে বিদেশে তা নিয়ে ঝামেলার অন্ত ছিল না। আর এখন কোনো প্রবাসী কর্মী মারা গেলে লাশ দেশে ফেরত আনার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করার শর্তে মৃত ব্যক্তির ওয়ারিশদের নিকট লাশ পরিবহন ও দাফন বাবদ ৩৫ হাজার টাকার চেক মৃতদেহ হস্তান্তরকালীন তাৎক্ষণিকভাবে দেওয়া হচ্ছে। বিদেশে মৃত্যু হওয়া বৈধ প্রবাসী কর্মীর ওয়ারিশদের তিন লাখ টাকা আর্থিক অনুদানের ব্যবস্থা করেছে সরকার।

এছাড়া বিদেশে গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তিকে দেশে ফেরত আনাসহ হাসপাতালে ভর্তি অথবা তার নিজ আবাসস্থলে পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করার মতো কর্মকা- বিস্তৃত পাওয়ায় চট্টগ্রাম জেলা থেকে প্রতিবছরই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ বিদেশে পাড়ি দিচ্ছেন। অপরদিকে প্রবাসী কর্মীর মেধাবী সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান এবং প্রতিবন্ধী সন্তানদেরকে ভাতা প্রাপ্তিতে সার্বিক সহায়তা ও প্রবাসী কর্মীর সন্তানদের সরকারি স্কুলে ভর্তি সংক্রান্ত সহায়তার ব্যবস্থাও করছে চট্টগ্রাম বিএমইটি।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম থেকে বেশিরভাগ কর্মী যান সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, কুয়েত, কাতার, বাহরাইনে। বর্তমানে মালয়েশিয়ায়ও যাচ্ছেন চট্টগ্রামের মানুষ। তবে কাজের সন্ধানে ৬৪ জেলা থেকে সবচেয়ে বেশি মানুষ গেছেন সৌদি আরব। গত ছয়মাসে সারাদেশ থেকে দুই লাখ ২৬ হাজার ১৫০ জন সৌদি গেছেন। এরপরের অবস্থানে রয়েছে মালয়েশিয়ায়। বর্তমানে মালেশিয়ায় শ্রমবাজার উন্মুক্ত হওয়া বেড়েছে প্রবাসী সংখ্যা।