জুলাইয়ে অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ২৪ শতাংশ

দেশে জ্বালানিসংকট এবং বিশ্ববাজারে চাহিদা কমে আসার মতো প্রতিকূলতার মধ্যেও রপ্তানি আয়ে বড় অবদান রাখছে অপ্রচলিত বা নতুন বাজার।

বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম মাসে (জুলাই) ইউরোপের বাজারে পোশাক রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের ১.৬৬ বিলিয়ন থেকে ১৭.৪০ শতাংশে বেড়ে ১.৯৫ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। এই সময়ে স্পেন, ফ্রান্স, ইতালি, নেদারল্যান্ডস এবং পোল্যান্ডের মতো দেশে রপ্তানি ৩৬.৩৫ শতাংশ, ২২.৭১ শতাংশ, ৩৬.৭৫ শতাংশ, ২৩.০৩ শতাংশ ও ১৮.০৭ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানি ২৩.৭৫ শতাংশ বেড়ে ৬৭৪.৮২ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। প্রধান অপ্রচলিত বাজারের মধ্যে জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ভারত এবং দক্ষিণ কোরিয়াতে যথাক্রমে ৪৯.৯৯ শতাংশ, ৫৫.৭৩ শতাংশ, ২.৬০ শতাংশ ও ১৯.৫৯ শতাংশ রপ্তানি বেড়েছে।

গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে অপ্রচলিত বাজারগুলোতে পোশাক রপ্তানি আগের একই সময়ের চেয়ে ৩১ শতাংশেরও বেশি হয়েছে। যেখানে ২৭ দেশের জোট ইইউতে রপ্তানি বেড়েছে ১০ শতাংশেরও কম। জোটের প্রধান বাজার জার্মানিতে রপ্তানি কমেছে প্রায় ৭ শতাংশ। অন্যদিকে একক দেশ হিসেবে প্রধান বাজার যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি কমেছে ৬ শতাংশের মতো।

তৈরি পোশাক উদ্যোক্তারা জানান, প্রচলিত বাজারের ওপর অতিনির্ভরতা কমিয়ে আনতে চান তারা। মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা অঞ্চলের দেশগুলোকে লক্ষ্য করে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব বাজারে কী ধরনের পোশাকের চাহিদা বেশি, কোন মৌসুমে কী ধরনের পোশাকের কদর রয়েছে—এসব বিষয়ে গবেষণা করা

হচ্ছে। ব্যবসায়ী ও কূটনীতিকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে অপ্রচলিত বাজারের রপ্তানি আরও বাড়বে বলে মনে করেন তারা।

গত অর্থবছরে অপ্রচলিত বাজারগুলোতে মোট ৮৩৭ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে, যা গত তিন অর্থবছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। আগের দুই অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৬৩৭ ও ৫০৮ কোটি ডলার। বড় অঙ্কে রপ্তানি বাড়ার ফলে পোশাকের মোট রপ্তানিতে অপ্রচলিত বাজারের হিস্যাও বেড়েছে। অপ্রচলিত বাজারের অংশ গত অর্থবছরে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৮ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরে ছিল ১৫ শতাংশেরও কম। অপ্রচলিত রপ্তানি বাজারের হিস্যা বেড়ে যাওয়ার কারণে কমেছে প্রচলিত বাজারের হিস্যা। গত অর্থবছর শেষে ইইউর হিস্যা এখন ৫০ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ, যা আগের অর্থবছর পর্যন্ত ছিল ৫০ দশমিক ২২ শতাংশ। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হিস্যা কমে হয়েছে ১৮ শতাংশ, যা আগের অর্থবছর পর্যন্ত ছিল ২১ শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ, যুক্তরাজ্য ও কানাডাকে প্রচলিত বাজার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর বাইরের অন্য দেশগুলোকে অপ্রচলিত বাজার হিসেবে ধরা হয়। অপ্রচলিত বাজারের মধ্যে ১৫টি দেশ উল্লেখযোগ্য। চীন, জাপান, ভারত, রাশিয়া, তুরস্ক, অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশ রয়েছে এ তালিকায়। বৈচিত্র্য আনতে নতুন বাজারে রপ্তানিতে ৪ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে।

অপ্রচলিত বাজারের মধ্যে প্রতিবেশী ভারতকে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গত অর্থবছরে প্রথমবারের মতো দেশটিতে রপ্তানি ১০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। রপ্তানি হয়েছে ১০১ কোটি ডলারের পোশাক, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ৪২ শতাংশ বেশি। ঐ অর্থবছর রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৭২ কোটি ডলারের কিছু কম। অপ্রচলিত বাজারের মধ্যে জাপান সবচেয়ে বড়। গত অর্থবছর দেশটিতে রপ্তানি বেড়েছে ৪৬ শতাংশ। ১৬০ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে দেশটিতে, যা আগের অর্থবছর ছিল ১১০ কোটি ডলার। অস্ট্রেলিয়াতে রপ্তানি বেড়েছে ৪২ শতাংশ। ১১৬ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৮১ কোটি ডলার। রাশিয়া এবং চিলি ছাড়া অপ্রচলিত সব বাজারেই রপ্তানি বেড়েছে।