মেগা ৮ প্রকল্পের অগ্রগতি ৮৩.০৩ শতাংশ

অবকাঠামো উন্নয়নে সরকার আটটি মেগা প্রকল্পকে ফাস্টট্র্যাকভুক্ত করেছে। শুরু থেকে গত জুন মাস পর্যন্ত এসব প্রকল্পের আওতায় ব্যয় হয়েছে দুই লাখ পাঁচ হাজার ৯৫৬ কোটি টাকা।প্রকল্পগুলোর গড় ভৌত অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৮৩ দশমিক ০৩ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ৭১ দশমিক ৪৪ শতাংশ। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে তিন লাখ ছয় হাজার ২৬৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা।

প্রকল্পগুলো হলো-পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ প্রকল্প, পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর, পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ এবং দোহাজারী-রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু-মায়ানমারের নিকটে ঘুমধুম পর্যন্ত সিংগেল লাইন ডুয়েলগেজ ট্র্যাক নির্মাণ প্রকল্প।ইতোমধ্যে পদ্মা সেতু এবং মেট্রোরেল (আংশিক) উদ্বোধন হয়েছে। কিন্তু পুরো প্রকল্প শেষ হতে এখনো বেশ কিছুটা সময় বাকি। গত জুন মাস পর্যন্ত তৈরি করা বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) অগ্রগতি প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। অবকাঠামো উন্নয়নে মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে দেশের প্রবৃদ্ধি আরও বেগবান হবে বলে মত সংশ্লিষ্টদের।

মেগা প্রকল্প প্রসঙ্গে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম সারাবাংলাকে বলেন, মেগা প্রকল্পগুলো আওয়ামী লীগ সরকারের সাহসী পদক্ষেপের ফল। এর সুফল ইতোমধ্যেই পেতে শুরু করেছে দেশবাসী। বেশিরভাগ প্রকল্পের কাজই শেষের পথে। ইতোমধ্যেই পদ্মা সেতু চালু হয়েছে। প্রকল্পগুলোর পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েগেছে। সরকার ফাস্টট্র্যাকের মাধ্যমে মেগা প্রকল্পগুলো নিয়মিত মনিটরিং করছে। বরাদ্দের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে এসব প্রকল্পে।পদ্মা সেতু: গত বছরের ২৫ জুন উদ্বাধন করা হয় পদ্মা সেতু প্রকল্পের। কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রকল্পের কাজ শতভাগ শেষ হয়নি। গত জুন পর্যন্ত প্রকল্পটির আওতায় ব্যয় হয়েছে ২৮ হাজার ৮৮৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। আর্থিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৮৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ। পুরো প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৯৯ দশমিক ৬০ শতাংশ। এটি বাস্তবায়নে মোট ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। প্রকল্পটির কার্যক্রম শুরু হয় ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে। কয়েক দফা মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। এরই মধ্যে সম্প্রতি ব্যয় বাড়ানো হয়েছে ১ হাজার ১১৭ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।

মেট্রোরেল: বহুল প্রত্যাশিত মেট্রোরেল প্রকল্পের উত্তরা-আগারগাঁও অংশ গত বছর ২৮ ডিসেম্বর উদ্বোধন হয়েছে। ২৯ ডিসেম্বর থেকে নির্ধারিত সময়ে জনগণের চলাচলের জন্য খুলে গেছে এ অংশটি। কিন্তু পুরো প্রকল্প শেষ হতে অপেক্ষা করতে হবে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।তবে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন আগামী অক্টোবর মাসের শেষ দিকে মতিঝিল পর্যন্ত দ্বিতীয় অংশ খুলে দেওয়া হতে পারে। শুরু থেকে জুন পর্যন্ত প্রকল্পটির আওতায় ব্যয় হয়েছে ২২ হাজার ৭৩৯ কোটি ২৪ লাখ টাকা। আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ৬৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

এছাড়া ভৌত অগ্রগতি ৭৮ শতাংশ। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সংশোধিত ব্যয়সহ মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার ৪৭১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। ২০১২ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু দ্বিতীয় সংশোধনীতে ব্যয় বাড়ার সঙ্গে মেয়াদ বেড়েছে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। এটির মূল ব্যয় ছিল ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা। মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত বাড়তি অংশ যোগ হওয়ায় এই ব্যয় ও মেয়াদ বৃদ্ধি পেয়েছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প:দেশের সবচেয়ে বেশি ব্যয়ের প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। শুরু থেকে জুন পর্যন্ত প্রকল্পটির ভৌত অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৬০ দশমিক ৪৬ শতাংশ। প্রকল্পের আওতায় এখন পর্যন্ত খরচ হয়েছে ৬৫ হাজার ৮৩০ কোটি ২৭ লাখ টাকা।

এক্ষেত্রে আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ৫৮ দশমিক ২১ শতাংশ। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হচ্ছে এক লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি ৯১ লাখ টাকা। ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে।

চলতি বছরের শেষ নাগাদ এ বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের উৎপাদন লক্ষ্য ছিল। কিন্তু কোভিড মহামারিতে সঞ্চালন লাইনের কাজ দেরি হওয়ায় কেন্দ্রটির উৎপাদন পিছিয়ে যাচ্ছে। এ কারণে ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ রূপপুর প্রকল্পটি উৎপাদনে আসতে পারে। সেই সঙ্গে বর্তমান ঋণ পরিশোধের জটিলতাও এখনো পুরোপুরি কাটেনি।

পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ: পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্পে গত জুন পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ২৯ হাজার ৫৬৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা। প্রকল্পটির আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ৭৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ। এছাড়া ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৮০ শতাংশ। এটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে মোট ৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা। প্রকল্পটি ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে।

মহেশখালী-মাতারবাড়ি সমন্বিত কার্যক্রম:মহেশখালী-মাতারবাড়ি সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম ( ১২ টি প্রকল্পযুক্ত) প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৫১ হাজার ৮৫৪ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। ২০১৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে। গত জুন পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৩৩ হাজার ২৪৯ কোটি ০২ লাখ টাকা। আর্থিক অগ্রগতি ৬৪ দশমিক ১২ শতাংশ এবং সার্বিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৭৬ দশমিক ৮০ শতাংশে।

রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প: এটি বাস্তবায়নে ব্যয় হচ্ছে ১৬ হাজার কোটি টাকা। গত জুন পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১৪ হাজার ৮৪ কোটি টাকা। আর্থিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৮৮ দশমিক ০৩ শতাংশ। ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৯৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর: এ প্রকল্পটি ৪ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে। গত জুন পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে তিন হাজার ৭৫২ কোটি ১৩ লাখ টাকা। আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ৮৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ এবং ভৌত অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৮৯ দশমিক ৮৭ শতাংশে।

দোহাজারী-কক্সবাজার-গুনদুম রেল পথ নির্মাণ: দোহাজারী-রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু-মায়ানমারের কাছে ঘুনধুম পর্যন্ত সিংগেল লাইন ডুয়েলগেজ ট্র্যাক নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হচ্ছে ১৮ হাজার ৩৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। গত জুন পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৭ হাজার ৮৫২ কোটি ২১ লাখ টাকা। প্রকল্পটির আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ৪৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ। এছাড়া ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৮৬ শতাংশ।