ডিসেম্বরেই মিলবে মাতারবাড়ি’র বিদ্যুৎ

সমুদ্রের তীরে গড়ে উঠা কয়লাভিত্তিক মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৯০ শতাংশের বেশি কাজ এরইমধ্যে শেষ হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরেই এই কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। প্রথম পর্যায়ে এই কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। ফলে এবছরই এই কেন্দ্রের বিদ্যুৎ পাবে দেশবাসী।

সম্প্রতি কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্র ঘুরে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রকল্পের আওয়াতায় গভীর চ্যানেল নির্মাণ, কয়লা ও তেল খালাসের জন্য জেটি নির্মাণ, কোল ইয়ার্ড ২৭৫ মিটার উচ্চতার চিমনি নির্মাণ শেষ হয়েছে। সব কর্মযজ্ঞ এখন শেষের দিকে। বিদেশ থেকে আসা কয়লা খালাস করে মজুদ করা হয়ে হয়েছে। আর ডিসেম্বরেই শুরু হবে বিদুৎ উৎপাদন।

প্রকল্প কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে ও দ্বিতীয় ইউনিট বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হলে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। ৫১ হাজার সাড়ে ৮ শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে পোর্ট ও ভৌত অবকাঠামোর কাজ শেষ পর্যায়ে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পোর্ট ও ভৌত অবকাঠামোর ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আর সার্বিক ভৌত অবকাঠামোর অগ্রগতি ৯০ শতাংশ। প্রথম পর্যায়ের মতো দ্বিতীয় ইউনিট থেকে আরও ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসবে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে।

মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্পের নির্বাহী পরাচালক নাজমুল হক বলেন, ‘আমাদের এই প্রজেক্টের দুইটা অংশ, এর মধ্যে একটা হচ্ছে পাওয়ার প্ল্যান্ট আরেকটা হচ্ছে পোর্ট। পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এখানের পুরো কাজটা ইতিমধ্যে হয়ে গেছে। অউসো মারুসহ ছয়টা জাহাজ এসেছে সেখান থেকে ৮০ হাজার মেট্রিক টন কয়লা অলরেডি অনলোড হয়েছে, এটা আমরা রিজার্ভ করেছি। আগামী মাসে নেক্সট জাহাজ যেটা সেটাও চলে আসবে।’

তিনি বলেন, ‘ডিসেম্বরেই জাতীয় গ্রিডে ৬০০ মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে এবং সেদিনই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উদ্বোধন করবেন।’

নাজমুল হক বলেন, ‘আমাদের যেটা ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে করার কথা (প্রথম ইউনিট), সেটা আমরা আশা করি ডিসেম্বরেই পুরোদমে চালু করতে পারব। আর দ্বিতীয়টি আমরা আগামী জুলাইয়ে চালু করার চিন্তা করছি। এখানে প্রথমটি থেকে ৬০০ মেগাওয়াট এবং দ্বিতীয়টা থেকেও ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। তবে প্রতি ৬০০ থেকে আদার খরচ হিসেবে ৬.৮% বিদ্যুৎ চলে যাবে, বাকিটা যুক্ত হবে।’

এই প্রকল্পে পরিবেশ দূষণ রোধে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রকল্প কর্মকর্তারা জানান, জাহাজ থেকে কয়লা নামানোর সময় মাত্র একবার ওই কয়লা দেখা যাবে। তারপর ওই কয়লা সরাসরি জেটি থেকে প্ল্যান্টে চলে যাবে। এতে পরিবেশ দূষিত হবে না। প্রকল্পটির ফলে স্থানীয় কর্মসংস্থানও তৈরি হয়েছে। বর্তমানে সাত থেকে আট হাজার স্থানীয় লোক এই প্রকল্পে কাজ করছেন।