১২শ শয্যার হাসপাতাল ও স্থায়ী ক্যাম্পাস পাচ্ছে এসএমইউ

একনেকে উঠছে আজ

বিভাগীয় শহরে একটি করে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশের চতুর্থ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (এসএমইউ) অনুমোদন দেয় সরকার। ২০১৮ সালে অনুমোদন পেলেও স্থায়ী কোনো ক্যাম্পাস না থাকায় ভাড়া ভবনে এখন পর্যন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেছে এসএমইউ। অবশেষে অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে ১২শ শয্যার একটি হাসপাতালসহ আবাসিক হোস্টেল ও একাডেমিক ভবন পেতে যাচ্ছে এসএমইউ। এরই মধ্যে একটি প্রকল্প প্রস্তাব প্রস্তুত করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ। ২ হাজার ৩৬ কোটি টাকার প্রকল্পটি আজ একনেক সভায় উত্থাপনের কথা রয়েছে।

মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হাসপাতালটির মাধ্যমে সিলেট জেলা ও আশপাশের এলাকার দেড় কোটি মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের সক্ষমতা তৈরি করা হচ্ছে। তাছাড়া নয়টি ফ্যাকাল্টির সমন্বয়ে গঠিত এ ক্যাম্পাসে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য দক্ষ জনবল তৈরি করা হবে। এ বছর কাজ শুরু করে ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করা হবে। সিলেট শহরের সাত কিলোমিটার দূরে দক্ষিণ সুরমায় মহাসড়কের পাশে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্প প্রস্তাব বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রধান কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে, ২২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮০ একর ভূমি অধিগ্রহণ। ভূমি উন্নয়নের জন্য রাখা হয়েছে ৫৩ কোটি টাকা। তবে সবচেয়ে বেশি ৮৬৭ কোটি টাকা ব্যয় হবে ১ লাখ ২০ হাজার বর্গফুটের দুটি আবাসিক ভবন তৈরিতে। ১৫৩ কোটি টাকা ব্যয়ে আরো ১০টি অনাবাসিক ভবন নির্মাণ করা হবে। ২৮৭ কোটি টাকা ব্যয়ে চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয় করা হবে। এসি ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ক্রয়ে ৫৫ কোটি খরচ হবে। ২০টি লিফট কেনার জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৩৮ কোটি টাকা। আসবাব ও অফিস সরঞ্জাম কিনতে রয়েছে ৩৬ কোটি টাকা।

এর আগে ২০২১ সালে ৩ হাজার ২৯৪ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির প্রস্তাব করে পরিকল্পনা কমিশনে প্রেরণ করা হয়েছিল। তবে আর্থিক পরিস্থিতি ও জনবল বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্পটি কয়েকটি ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। প্রথম পর্যায়ের উন্নয়নকাজ করার জন্য ২ হাজার ১৯০ কোটি টাকায় প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়। পরে সাত সদস্যবিশিষ্ট একটি ব্যয় যুক্তিযুক্তকরণ কমিটি গঠন করে পরিকল্পনা কমিশন। যেখানে গণপূর্ত বিভাগ, আইএমইডি এবং বাস্তবায়ন সংস্থাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কমিটি প্রকল্প এলাকা সরজমিনে পরিদর্শন ও আইটেমগুলো বিশ্লেষণ করে এ বছরের মার্চে প্রতিবেদন দাখিল করে।

প্রকল্পটির বিষয়ে গত মে মাসে পরিকল্পনা কমিশনে মূল্যায়ন কমিটির একটি বৈঠক হয়। বৈঠকে প্রকল্প ব্যয় ১৫৩ কোটি টাকা হ্রাস করার সিদ্ধান্ত হয়। সভায় অবকাঠামো নকশার জন্য পরামর্শক ব্যয় বাদ দেয়া হয়। তবুও পরামর্শক বাবদ ৪ কোটি টাকার বেশি সংস্থান রাখা হয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের জন্য তিনতলা একটি হোস্টেল নির্মাণ করে দুটি আলাদা ব্লকে ছাত্র ও ছাত্রীদের থাকার ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত হয়।

বিজ্ঞাপন ব্যয়সহ যানবাহনের তেল ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ কমানো হয়েছে। অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার আলোকে প্রকল্পটি পাসের সুপারিশ করে একনেকে পাঠাচ্ছে পরিকল্পনা কমিশন।

এ বিষয়ে প্রকল্পটি অনুমোদনের দায়িত্বে থাকা পরিকল্পনা কমিশনের আর্থসামাজিক বিভাগের সচিব নাসিমা বেগম বলেন, ‘‌প্রকল্পটির মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ে ১ হাজার ২০০ শয্যার একটি হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। পরবর্তী সময়ে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান থাকবে।’

সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডা. এএইচএম এনায়েত হোসেন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী সব ধরনের সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রকল্পটি অনুমোদন পেতে যাচ্ছে।’ তবে হোস্টেল কিংবা প্রকল্পের কোনো নির্দিষ্ট অংশ নিয়ে তিনি তাৎক্ষণিক কোনো তথ্য জানাতে পারেননি।

প্রকল্পটি তৈরিতে সম্পৃক্ত স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের যুগ্ম সচিব (উন্নয়ন) মো. আব্দুস সালাম খান বলেন, ‘‌সিলেটের জনগণের বিশেষায়িত সেবা এবং গবেষণাকে প্রাধান্য দিয়ে প্রকল্পটি সাজানো হয়েছে, যার মাধ্যমে ১২শ শয্যার হাসপাতালটি এখনই নির্মাণ করা হবে। তবে কজের মান ঠিক রাখার জন্য প্রশাসনিক এবং সব একাডেমিক ভবন এখন পুরোপুরি নির্মাণ না করে ভিত্তি ঠিক রেখে কয়েক তলা নির্মাণ করা হবে। বাকি নির্মাণকাজ মাস্টারপ্ল্যানের আলোকে ধাপে ধাপে করা হবে।’

সিলেটের পর চট্টগ্রামে আরেকটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের জন্য প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। এখন একনেকের জন্য অপেক্ষমাণ অবস্থায় রয়েছে। আর এরপর খুলনায় একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।