সমুদ্র থেকে ১০ হাজার হেক্টর ভূমি পুনরুদ্ধারে প্রকল্প

নোয়াখালী জেলার মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে উড়িরচর। এজন্য সমুদ্র থেকে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর ভূমি পুনরুদ্ধারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কোম্পানীগঞ্জ ও সুবর্ণচর উপজেলায় সাত কিলোমিটারেরও বেশি লম্বা ক্রস ড্যাম ও টাই বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে এ যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হবে। এ লক্ষ্যে প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, “ভূমি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে উড়িরচর-নোয়াখালী ক্রস ড্যাম নির্মাণ” প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উড়িরচরের সঙ্গে নোয়াখালীর মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ স্থাপন, কৃষি জমি ভাঙ্গনের কবল থেকে রক্ষার মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বাড়ানো, স্থানীয় পর্যায়ে খাদ্য নিরাপত্তা বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রকল্প এলাকার দারিদ্র হ্রাস করা সম্ভব হবে। জানা গেছে, ১৯৭০-৭১ সালের দিকে সন্দ্বীপের উত্তর-পশ্চিম দিকে মেঘনা নদীর মোহনায় উড়িরচর দ্বীপটি জেগে উঠে। এটি চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ উপজেলার একটি ইউনিয়ন। ২০০৭ সালের তথ্যমতে, উড়িরচর ইউনিয়নের আয়তন ২৬ হাজার একর বা ১০৫ দশমিক ২৩ বর্গ কিলোমিটার।

২০১১ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, উড়িরচরের লোকসংখ্যা ১১ হাজার ৯২৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ হাজার ৪২৫ জন এবং মহিলা ৫ হাজার ৪৯৮ জন। সন্দ্বীপ ইউনিয়নের দক্ষিণ-পূর্বে সন্দ্বীপ চ্যানেল ও সন্তোষপুর ইউনিয়ন। পূর্বে সন্দ্বীপ চ্যানেল ও মীরসরাই উপজেলার সাহেরখালী ইউনিয়ন। উত্তরে সন্দ্বীপ চ্যানেল ও নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়ন। পশ্চিমে নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরএলাহী ইউনিয়ন, সন্দ্বীপ চ্যানেল ও সুবর্ণচর উপজেলার চর ক্লার্ক ইউনিয়ন এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর।

সূত্র জানিয়েছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ৫৮৮ কোটি ৯৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নেওয়া প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি একনেকের অনুমোদন পেয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন করা হয়।

জানা গেছে, পরিকল্পনা কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী চলতি ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ২০২৬ সালের জুন নাগাদ শতভাগ বাস্তবায়িত হবে।

এদিকে পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় সাত দশমিক ৫৫ কিলোমিটার ক্রস ড্যাম ও টাই বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে উড়িরচরের সঙ্গে নোয়াখালীর মূল ভূ-খণ্ডের স্থায়ী যোগাযোগ স্থাপন করা, সমুদ্র হতে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর ভূমি পুনরুদ্ধার করা, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার নদী তীরবর্তী প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকা নদী ভাঙ্গন হতে রক্ষা করা এবং ভূমি পুনরুদ্ধারের ফলে আবাদযোগ্য ৬ হাজার হেক্টর জমিতে অতিরিক্ত ২ হাজার ৭৩৬ মেট্রিক টন শস্য উৎপাদন বৃদ্ধি করার উদ্দ্যেশেই প্রকল্পটি গ্রহণ করেছে সরকার।

কমিশন জানিয়েছে, প্রকল্পের আওতায় ১ দশমিক ৮০ কিলোমিটার ক্রস ড্যাম নির্মাণ, ৫ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার টাই বাঁধ নির্মাণ, ২৯ দশমিক ২৩ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণ বা ক্রয় করা এবং ২ কিলোমিটার প্রতিরক্ষামূলক কাজ করা হবে। প্রকল্পটি ২০২২-২৩ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি)-তে বরাদ্দবিহীন অননুমোদিত নতুন প্রকল্প তালিকায় অন্তর্ভুক্ত আছে।

পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, সরকারের ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০-তে নদী তীর সংরক্ষণ, নদী ও খাল খনন, পুনঃখননের মাধ্যমে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নদী ভাঙ্গন রোধ করে দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমন, জানমালের নিরাপত্তা ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির উপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এ বিবেচনায় প্রকল্পটি সরকারের অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

এমন পরিস্থিতিতে প্রকল্পটি বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০-এর বিনিয়োগ পরিকল্পনার ৮০টি প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত একটি প্রকল্প। এছাড়াও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা এসডিজি’র নির্দেশক ৬.৫.১ সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনার সঙ্গেও সংগতিপূর্ণ।

জানতে চাইলে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম জানিয়েছেন, প্রকল্পটি সরকারের অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ওই এলাকার গ্রামীণ আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতি সাধিত হবে।

উল্লেখ্য, উড়িরচর ইউনিয়ন সন্দীপ উপজেলার আওতাধীন ১নং ইউনিয়ন পরিষদ। এটি জাতীয় সংসদের ২৮০নং নির্বাচনি এলাকা চট্টগ্রাম-৩ এর অংশ। এ ইউনিয়নের প্রশাসনিক কার্যক্রম সন্দ্বীপ থানার আওতাধীন। ইউনিয়নটি ৩টি মৌজায় বিভক্ত। উড়িরচরে সাক্ষরতার হার ২৬ দশমিক ৪০ শতাংশ। ইউনিয়নে ১টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১টি আনন্দ স্কুল ও ৫টি ইবতেদায়ী ও দাখিল মাদ্রাসা রয়েছে।