পদ্মা-যমুনা ত্রিমুখী সেতুর বিকল্প ভাবনা

পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরুর পর যখন সেতুর পাইলগুলো দৃশ্যমান হতে শুরু করে এবং সেতু প্রায় দৃশ্যমান হওয়ার সময় ধরে ২০১৭ সাল থেকে নতুন একটি প্রস্তাব সামনে চলে আসে, যা দীর্ঘদিন ধরে বহুলালোচিত। তা হচ্ছে পদ্মা-যমুনা ত্রিমুখী সেতু। এক্ষেত্রে জনপ্রত্যাশা ও প্রস্তাবে বলা হয়, পাটুরিয়ায় একই পদ্মা নদীতে আরেকটি সেতু নির্মাণ না করে বরং আরিচা থেকে বাম পাশে পদ্মাপাড়ের রাজবাড়ী এবং ডান পাশে ঈশ্বরদীর রাখালগাছি চরকে সংযুক্ত করে ত্রিমুখী একটি স্টিলকম্পোজিট ঝুলন্ত সেতু বা গার্ডার টাইপ সেতু করা যায় কি না। এটি যে সম্ভব সে বিষয়ে নানা যুক্তি ও কৌশলগত দিকও ইউটিউবে পদ্ম-যমুনা ত্রিমুখী সেতুর একটি কল্পিত নকশা ও প্রস্তাবনাও দেখানো হয়েছে। প্রস্তাবটি জনমানুষের কাছে এতটাই গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে যে, বাংলাদেশ ও ভারতের ৭টি ইউটিউব চ্যানেল এর সম্ভাবনা নিয়ে নানাভাবে মত উপস্থাপন করেছে, যার ভিউয়ার সংখ্যা বিশ লাখের ওপরে

দেশী-বিদেশী সব ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে দেশের অর্থে পদ্মা সেতু নির্মাণের সুদৃঢ় সংকল্প ও দূরদর্শিতার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ না জানিয়ে এ লেখার প্রসঙ্গ শুরু করা যায় না। পদ্মা সেতু নির্মাণ সাফল্য এখন দেশে অনেক মেগা প্রকল্প গ্রহণ ও তা বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে যেমন সাহস জুগিয়ে চলেছে, তেমনি দেশের সাধারণ মানুষ অসম্ভবকে সম্ভব করার এ প্রেরণায় ব্যাপকভাবে আস্থাশীল হয়েছে। নেতৃত্বের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তিনি স্বপ্ন দেখান, সামনে ভিশন দেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যেমন বাঙালি জাতিকে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, তেমনি তাঁরই রক্তের উত্তরাধিকারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও দেশবাসীকে একের পর এক নতুন নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছেন এবং তা বাস্তবায়ন করে দেশকে সম্মুখযাত্রায় এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার পর নতুন করে অনেক মেগা প্রকল্পের কথা সামনে আনা হয়েছে। এর মধ্যে পাটুরিয়ায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রসঙ্গটি উঠে এসেছে। এ বাবদ ১২ হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও সহজ করে জীবনমান উন্নয়নে সরকারের নানামুখী পদক্ষেপ রয়েছে। দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মিত হলে এক্ষেত্রে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে এতে সন্দেহ নেই এবং এটি দীর্ঘদিনের দাবিও বটে। তবে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রসঙ্গটি এখনো যেহেতু প্রাথমিক স্তরে তাই এর স্থান ও নির্মাণ কৌশল প্রসঙ্গে বিকল্প চিন্তা করার জন্যও প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন অনেকে। এর কারণ, সরকার যেসব মেগা প্রকল্প গ্রহণ করছে সেক্ষেত্রে পাটুরিয়ায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ কতটা যুক্তিযুক্ত তা ভেবে দেখার অপেক্ষা রাখে।
প্রথমত, একই পদ্মা নদীর মাত্র ৪০ কিলোমিটার উজানে নদীর উৎসমুখে আরেকটি সেতু নির্মাণ করার আগে নানামাত্রিক দিক বিবেচনা করা দরকার। সেগুলো হয়তো হয়েছে বা হবে বলে ধরে নেওয়া যায়। প্রশ্ন উঠেছে, পাটুরিয়ার ভাটিতে যেখানে স্বল্প দূরত্বে বর্তমান পদ্মা সেতু নির্মিত হয়েছে সেখানে নানা প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়েছে। প্রধান কারণ একমুখী নদীর খরস্রোত ও গভীরতা। পাটুরিয়ায়ও একই বিষয় রয়েছে। পদ্মা ও যমুনা নদীর মিলিত স্রোত মিশেছে দৌলতদিয়ায় এবং এখানেই পদ্মা নদীর উৎস। হয়তো নির্মিত পদ্মা সেতুর স্থানের দৈর্ঘ্যরে চেয়ে এখানে প্রায় এক-দেড় কিলোটিার দূরত্ব কম।

এ কারণেও স্থানটি বেছে নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তবে যদি উপকারভোগী ও পশ্চাৎভূমির কানেক্টিভিটির কথা চিন্তা করা হয় তা হলে পদ্মা সেতুর প্রভাব এলাকার বৃহত্তর অংশ দ্বিতীয় পদ্মা সেতুরও সুবিধা পাবে। সেক্ষেত্রে একইভাবে দেশের কেবল দুটি ভূ-খ- নতুন আরেকটি দিক দিয়ে যুক্ত হবে মাত্র। আশির দশকে আরিচা-বাঘাবাড়ী বিদ্যুতের গ্রিডলাইন নির্মাণের পর প্রশ্ন উঠেছিল। যদি টাওয়ারগুলো আরেকটু বড় করে সেতুর ডিজাইন করে তার পাশেই ঝুলন্ত লাইন নেওয়া যেত তা হলে ব্রিজও হতো, বিদ্যুৎ লাইনও পার হতো। সেটা ছিল সে সময়ের ভুল। এখন পাটুরিয়ায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মিত হলে নিকট ভবিষ্যতে ঈশ্বরদী তথা পাবনা-উত্তরবঙ্গের এ অংশে আরেকটি সেতু নির্মাণের সম্ভাবনা থাকবে না। তখন হয়তো এমন কথা উঠতে পারে পদ্মা-যমুনাকে সংযুক্ত করে ত্রিমুখী সেতু না করে পাটুরিয়ায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ যথাযথ হয়নি। ত্রিমুখী এই সেতু নির্মাণ প্রস্তাব নিয়ে অনেক আগে থেকেই জনমানুষের প্রত্যাশা রয়েছে।
পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরুর পর যখন সেতুর পাইলগুলো দৃশ্যমান হতে শুরু করে এবং সেতু প্রায় দৃশ্যমান হওয়ার সময় ধরে ২০১৭ সাল থেকে নতুন একটি প্রস্তাব সামনে চলে আসে, যা দীর্ঘদিন ধরে বহুলালোচিত। তা হচ্ছে পদ্মা-যমুনা ত্রিমুখী সেতু। এক্ষেত্রে জনপ্রত্যাশা ও প্রস্তাবে বলা হয়, পাটুরিয়ায় একই পদ্মা নদীতে আরেকটি সেতু নির্মাণ না করে বরং আরিচা থেকে বাম পাশে পদ্মাপাড়ের রাজবাড়ী এবং ডান পাশে ঈশ্বরদীর রাখালগাছি চরকে সংযুক্ত করে ত্রিমুখী একটি স্টিলকম্পোজিট ঝুলন্ত সেতু বা গার্ডার টাইপ সেতু করা যায় কি না। এটি যে সম্ভব সে বিষয়ে নানা যুক্তি ও কৌশলগত দিকও ইউটিউবে পদ্ম-যমুনা ত্রিমুখী সেতুর একটি কল্পিত নকশা ও প্রস্তাবনাও দেখানো হয়েছে। প্রস্তাবটি জনমানুষের কাছে এতটাই গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে যে, বাংলাদেশ ও ভারতের ৭টি ইউটিউব চ্যানেল এর সম্ভাবনা নিয়ে নানাভাবে মত উপস্থাপন করেছে, যার ভিউয়ার সংখ্যা বিশ লাখের ওপরে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত প্রাজ্ঞসর চিন্তা করেন। তাঁর ভাবনা অনেক সুদূরপ্রসারী, বহুমুখী। পদ্মা সেতু, কর্ণফুলী টানেল, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, গভীর সমুদ্র বন্দরের মতো মেগা প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে যেমন তিনি দেশ ও বিশ্ববাসীর সামনে সরকারের সক্ষমতার প্রমাণ রেখেছেন, সগৌরবে জাতির মাথা উঁচু করেছেন, সেক্ষেত্রে পাটুরিয়ায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতু না করে পদ্মা-যমুনা ত্রিমুখী সেতু নির্মাণ হতে পারে আরও নতুন, আরও চমকপ্রদ ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পদক্ষেপ। কারণ, পদ্মা সেতু নির্মাণের পর পাটুরিয়ায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের বিষয়টি বৃহত্তর পরিসরে তেমন অভিনবত্ব বা তাতে ব্যাপক সুবিধা দেখছেন না পর্যবেক্ষক মহল।

প্রধানমন্ত্রী চ্যালেঞ্জ নিতে জানেন। তিনি নতুন অনেক বড় কিছুর স্বপ্নচারী। তাই আরেকটি দ্বিমুখী সেতু নির্মাণ না করে আরিচা থেকে পদ্মা-যমুনার মিলিত স্থানে ত্রিমুখী সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে উভয় নদীর মিলিত স্থানে স্থিতিশীল চরের পরিমাণ বেশি, যেখানে নদীর গভীরতা ও ¯্রােতের বেগ কম। আরিচা থেকে পশ্চিমে নদীর তিন বা চার কিলোমিটার সোজা গিয়ে মাঝখানে সেতুর একটি অংশ বামে রাজবাড়ীকে এবং অপর একটি অংশ ডানে ঈশ্বরদীর রাখালগাছিকে যুক্ত করতে পারে। ফলে এখান থেকে পাবনা, নাটোর, রাজশাহী তথা উত্তরবঙ্গের বড় একটি অংশে যোগাযোগের বিকল্প সোজা পথ হতে পারে। অর্থাৎ সেতুটি হবে ইংরেজি ণ আকৃতির।

আবার ত্রিমুখী এ সেতুর মধ্যভাগে বা সুবিধাজনক স্থান থেকে ত্রিভুজাকৃতির গতিপথ পাল্টানোর সুযোগ রেখে তিন পাড়ের সঙ্গে যে কোনোদিকে যানবাহনের চলাচলের সুযোগ রাখা যায়। দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ মনে করেন প্রধানমন্ত্রী নতুন নতুন যে মেগা প্রকল্প গ্রহণ করছেন সেখানে পাটুরিয়ায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের চেয়ে পদ্মা-যমুনা ত্রিমুখী সেতু নির্মাণ হবে আরও সময়োপযোগী ও ভবিষ্যৎ প্রয়োজনমুখী। এরূপ একটি সেতু হলে দেশের তিনটি বিশাল ভূ-খ-কে যুক্ত করে যোগাযোগ ইতিহাসের পাতায় যুগান্ত সৃষ্টিকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। যার মধ্যে মূল সেতু অংশের মোট দৈর্ঘ্য হবে ১৫ কিলোমিটার এবং তিন পাড়ের সংযোগ সড়কসহ ৪৫ কিলোমিটার।

এটি বিশ্বের দীর্ঘতম ত্রিমুখী সেতু হিসেবে রেকর্ড গড়বে নিঃসন্দেহে। দেশের বিদ্যমান যোগাযোগ চাহিদার বাস্তবতা এবং ভবিষ্যৎ প্রয়োজনীয়তার নিরিখে এমন একটি বিষয় বিবেচনা করা যায় কি না, সে ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা যেতে পারে। একই পদ্মা নদীতে ৪০ কিলোমিটার দূরত্বে অনুরূপ একটি সেতু নির্মাণ না করে তিনটি ভূ-খ-কে যুক্তকারী ত্রিমুখী সেতু নির্মাণ আর্থ-সামাজিক দিকে বড় ধরনের প্রভাব রাখতে পারবে। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো যমুনায় বঙ্গবন্ধু সেতু থেকে পূর্বতীরে পদ্মা সেতু পর্যন্ত দূরত্ব কমবেশি ১১০ কিলোমিটার। আরিচায় ত্রিমুখী সেতু হলে এ দূরত্ব উভয়দিক থেকে হবে মাঝামাঝি।

পাটুরিয়ায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতু হলে সেখানে ব্যবধান হবে একদিকে ৭০ কিলোমিটার, অন্যদিকে ৪০ কিলোমিটার। ঈশ্বরদী তথা পাবনা বা উত্তরবঙ্গের সঙ্গে নতুন কোনো কানেক্টিভিটি স্থাপন হবে না। পদ্মা-যমুনা ত্রিমুখী সেতু নির্মিত হলে একই সেতু দিয়ে দেশের তিনটি ভূ-খ-ের মধ্যে যাতায়াতের সুযোগ করে দেওয়া যেতে পারে। তাছাড়াও এ সেতুর আরিচা-রাখালগাছি (ঈশ্বরদী) অংশে রেল যুক্ত করার সুবিধাও রাখা যায়। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে যাতে তা বাস্তবায়ন করা যায়।
দ্বিতীয় বিকল্প : পদ্মা-যমুনার তিনটি ভূ-খ-ের কানেক্টিভিটি তৈরিতে আরিচায় যমুনা নদীর মধ্য দিয়ে সোজা পশ্চিমে ঈশ্বরদীর রাখালগাছি চর পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণ করা যেতে পারে। এরপর রাখালগাছি থেকে তিন কিলোমিটার সংযোগ সড়ক করে রাজবাড়ী-ধাওয়াপাড়া পদ্মায় এ সেতুর দ্বিতীয় অংশ ৪ কিলোমিটার নির্মাণ করে ত্রিমুখী যাতায়াত ব্যবস্থাও করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে মোট সেতুর দৈর্ঘ্য হবে ১৩ কিলোমিটার ও খরচ প্রায় ত্রিমুখী সেতুর মতো একই পরিমাণ হতে পারে। রাখালগাছি থেকে বামে রাজবাড়ী এবং ডানে ঈশ্বরদী অংশ সংযোগ সড়কে যুক্ত হলে তিন ভূ-খ-ে যানবাহনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
প্রশ্ন হলো, অর্থের সংস্থান কোথায়? দেশের মানুষ বিশ্বাস করে পদ্মা সেতু নির্মাণের মতো যদি বিদেশী সহায়তা পাওয়া সম্ভব না হয় তবে প্রধানমন্ত্রী দেশীয় অর্থেই এই ত্রিমুখী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিলে তা বাস্তবায়ন সম্ভব। এক্ষেত্রে সহজ উপায় হলো পদ্মা-যমুনা ত্রিমুখী সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাই করে ব্যয় নিরূপণপূর্বক যদি একটি অথরিটি গঠন করা হয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্যারান্টিযুক্ত বন্ড বা শেয়ার ঘোষণা করা যায় তাহলে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশী নাগরিকরা বিনিয়োগে আকৃষ্ট হবেন। কারণ, রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি। এমন একটি মেগা প্রকল্পে বিনিয়োগ আহ্বান করা হলে তাতে কয়েক লাখ মানুষ বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন অবশ্যই।

গ্যারান্টিযুক্ত এমন একটি পথ উদ্ভাবন এবং ত্রিমুখী সেতুর প্রথম বিশ বা পঁচিশ বছর পর্যন্ত আয়ের অংশ যদি বণ্টন করা যায় তা হলে বিপুলসংখ্যক মানুষ এ মেগা প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে সম্মত হবেন। ধরা যাক, এ সেতুর প্রাক্কলিত ব্যয় ত্রিশ হাজার কোটি টাকা। তা হলে সর্বনি¤œ এক লাখ টাকা বিনিয়োগ আহ্বান করা হলে দশ লাখ মানুষের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। যারা এক লাখ থেকে এক কোটি টাকা পর্যন্ত বা তদূর্ধ্ব বিনিয়োগে সক্ষম হবেন। এ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যদি কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া যায় তা হলে ত্রিশ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ কোনো বিষয় হবে না।

উপরন্তু যদি রেমিটেন্সের একটি অংশ ব্যবহার করা হয় তাতেও পদ্মা-যমুনা ত্রিমুখী সেতুর মতো দেশের এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় এবং অভিনব মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব। এই ত্রিমুখী সেতু নির্মিত হলে তা দিয়ে পদ্মা সেতুর দ্বিগুণ যানবাহন পারাপার হতে পারে। কারণ, এটা দেশের তিনটি ভূ-খ-কে যুক্ত করে নতুন কানেক্টিভিটি তৈরি করবে। তা হবে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রভাবক। এমন একটি মেগা প্রকল্প নেওয়া হলে ২০২৯-২০৩০ সালের মধ্যে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব। কারণ, পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে গিয়ে এ দেশীয় প্রকৌশলী তথা অন্যান্য বিশেষজ্ঞ ক্যাটাগরির মানুষের যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, শ্রমিকের যে দক্ষতা বেড়েছে, সেটাও বড় সম্পদ।

এমন একটি ত্রিমুখী সেতুর মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে দেশীয় সিমেন্ট, রড, স্টিলসহ অন্য যেসব সামগ্রী ব্যবহার করা হবে তাতে দেশীয় এসব শিল্প প্রতিষ্ঠানেও ব্যাপক কর্মযজ্ঞ শুরু হবে। একই সঙ্গে এই মেগা প্রকল্প এলাকায় লাখো মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানে প্রাণচাঞ্চল্য আসবে তিন তীর ঘিরেই। এমন একটি নতুন ধারণা আমাদের প্রাগ্রসর, দূরদর্শী, সাহসী ও দৃঢ়চেতা প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করা যেতে পারে। বিশ্বাস করা যায় তিনি দেশের তিনটি ভূ-খণ্ডকে যুক্ত করতে পারে এমন একটি অধিকতর উপযোগী প্রস্তাবের বিষয় সক্রিয় বিবেচনায় নিতে পারেন। কারণ, একচল্লিশ সালে উন্নত স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে তা অন্যতম প্রভাবকের ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। অন্তত পাটুরিয়ায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের আগে পদ্মা-যমুনা ত্রিমুখী সেতু নির্মাণের বিকল্প প্রস্তাবের সম্ভাব্যতা যাচাই করার নির্দেশনা তিনি দেবেন- এমনটাই প্রত্যাশা।

লেখক : এস এম আতিয়ার রহমান
পরিচালক (পিআরএল), খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়