হিসাবের চেয়ে বেশি টোল আদায়

দীর্ঘসময় মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ রাখার পরও পদ্মা সেতুতে প্রথম অর্থবছরে ধারণার চেয়ে বেশি টোল আয় হয়েছে। গত বছরের ১ জুলাই থেকে এ পর্যন্ত পদ্মা সেতু থেকে টোল আয় হয়েছে ৭৮৯ কোটি ২০ লাখ টাকার বেশি। চলতি অর্থবছরের শেষদিনে এই অংক ৮শ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। অথচ সেতু বিভাগের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরে সেতু থেকে টোল আদায়ের কথা ৬৫৪ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সময় যত যাবে পদ্মা সেতু থেকে আয় তত বাড়বে।

মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ রাখায় পদ্মা সেতুতে আগাম ধারণার চেয়ে কম যান চলাচল করেছে। গত ২০ এপ্রিল সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচল শুরুর পরের দিন থেকে সর্বোচ্চ ২০ হাজার থেকে সর্বনিম্ন ১৪ হাজার যান চলাচল করেছে। মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ থাকার সময় এ সংখ্যা ১১ হাজারে নেমে যায়।

সেতু বিভাগের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পদ্মা সেতুতে টোল আদায় হবে ৬৫৪ কোটি টাকা। পরের বছরে ৭৮৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। তবে পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরে আয় এর চেয়ে বেশি হয়েছে। প্রক্ষেপণ অনুযায়ী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১ হাজার ১৪১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা টোল আদায় হবে।

জানা গেছে, টোল আয়ে প্রথম বছরেই যমুনার বঙ্গবন্ধু সেতুকে ছাড়িয়ে গেছে পদ্মা সেতু। চলতি অর্থবছর পদ্মা সেতুতে আয় ৮শ কোটি টাকা ছাড়ালেও বঙ্গবন্ধু সেতুতে টোল আয় হবে ৭শ কোটি টাকার কম।

সেতু সচিব মনজুর হোসেন বলেছেন, সময়ের সঙ্গে পদ্মা সেতুতে যান চলাচল বাড়বে। টোল আদায়ও বাড়বে। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আয় হবে পদ্মা সেতু থেকে।

টোলের টাকায় পদ্মা সেতুর ঋণের কিস্তি শোধ ছাড়াও সেতু রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় মেটানো হচ্ছে। টোল আদায়ে অপারেটরের খরচও এ থেকে মেটানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে ঋণের তৃতীয় ও চতুর্থ কিস্তি পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। ২০২২ সালের ২৬ জুলাই সরকারের অর্থ বিভাগের সঙ্গে একটি সংশোধিত ঋণচুক্তিতে স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। ওই চুক্তি অনুযায়ী, ১% সুদে ৩৫ বছরের মধ্যে ঋণের অর্থ পরিশোধ করা হবে।

ঋণ পরিশোধের সময়সূচি অনুসারে, প্রতি অর্থবছরে চার কিস্তিতে মোট ১৪০ কিস্তিতে সুদ পরিশোধ করা হবে। এ ছাড়া সেতুর বিস্তারিত নকশার জন্য এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক থেকে ২% সুদে দুটি ঋণচুক্তির আওতায় ১৫ বছর মেয়াদি মোট ১ কোটি ৭৪ লাখ ৫৩ হাজার টাকার স্পেশাল ড্রয়িং রাইট (এসডিআর) ঋণ নেওয়া হয়েছে। বছরে চার কিস্তি, অর্থাৎ মোট ৬০ কিস্তিতে সুদ ও মূলসহ ২৮ লাখ ৯৯ হাজার ৩৩০ টাকার এসডিআর পরিশোধ করা হবে।

প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ৩৫ বছরে পদ্মা সেতু থেকে টোল আদায় হবে ১ লাখ ১ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা। কিস্তি, ভ্যাট ও আয়কর বাবদ ৬৩ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা নেবে অর্থ বিভাগ। বাকি টাকায় নিয়মিত খরচ ছাড়াও প্রতি ১০ বছর অন্তত বড় সংস্কার করা হবে। তার পরও ৩৫ বছর পর ছয় হাজার কোটি টাকার বেশি মুনাফা দেবে পদ্মা সেতু।

যমুনা নদীর ওপর প্রায় পৌনে চার হাজার কোটি টাকায় নির্মিত বঙ্গবন্ধু সেতুতে প্রথম বছরে টোল আদায় হয়েছিল মাত্র ৬১ কোটি ২৭ লাখ টাকা। চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত ৭ হাজার ৬৯৭ কোটি টাকা টোল আয় হয়েছে।

পদ্মা সেতুতে ২০২২ সালে দৈনিক গড়ে ২৩ হাজার ৯৫৪টি যান চলবে এ রকম তথ্য ছিল সমীক্ষাতে। তবে সেতু বিভাগের তথ্যানুযায়ী, গত বছরের শেষ ছয় মাসে ২৬ লাখ ৯০ হাজার ৬২২টি যানবাহন চলেছে। দৈনিক গড়ে ১৪ হাজার ৭৪৩টি যানবাহন চলেছে। একই সময়ে বঙ্গবন্ধু সেতুতে যানবাহন চলাচল করেছে ৩৫ লাখ ৭৮ হাজার ৯৫টি। গড়ে দিনে ১৯ হাজার ৬০৬টি যানবাহন চলছে বঙ্গবন্ধু সেতুতে। আগের বছরে সেতুটিতে গড়ে দৈনিক ২০ হাজার ৬৬৩টি যানবাহন চলেছে।