১২ হাজার কোটি টাকার চামড়া ও চামড়াপণ্য রফতানি

বছর ঘুরে আবারও দোরগোড়ায় চলে এসেছে কুরবানির ঈদ। এই ঈদে দেশের চামড়া শিল্পের ৬০ ভাগেরও বেশি কাঁচা চামড়া মেলে। এই সময়ে দেশের বাজারে চামড়ার ন্যায্যমূল্য পান না সাধারণ মানুষ। অথচ সারা বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানি ভালো হয় এবং বিদেশে ভালো মূল্যে রফতানি করেন ট্যানারি মালিকরা।

চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের ১১ মাসে দেশ থেকে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য থেকে রফতানি আয় হয়েছে ১২ হাজার ৯৮ কোটি ৫৯ লাখ ২০ হাজার টাকা। এই ১১ মাসে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রফতানিতেও বেশ ভালো প্রবৃদ্ধিও আছে। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, চলতি অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানিতে মোট লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ হাজার ৪৪০ কোটি ডলার। এর মধ্যে ১১ মাসে (জুলাই-মে) রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ১ হাজার ৩০১ কোটি ডলারের। এর বিপরীতে রফতানি হয়েছে ১ হাজার ১২০ কোটি ডলারের। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এই ১১ মাসে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানি কম হয়েছে ১৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম হলেও এই ১১ মাসে রফতানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে শূন্য দশমিক ৪২ শতাংশ। এ সময় চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য থেকে রফতানি আয় হয়েছে ১ হাজার ১১৫ কোটি ডলার। এক ডলার ১০৮ টাকার হিসাবে আয় এসেছে ১২ হাজার ৯৮ কোটি ৫৯ লাখ ২০ হাজার টাকার।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহীন আহমেদ বলেন, বিশ্ববাজারে আমাদের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের চাহিদা রয়েছে বেশ ভালো। তবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিগত কয়েক মাস ইউরোপ থেকে রফতানি আদেশ আসছে কম। এ জন্য চলতি অর্থ বছরের ১১ মাসে রফতানির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা যায়নি। তবে আসছে কুরবানি ঈদের নতুন চামড়া আসার পর রফতানি বাড়বে বলে আমরা আশা করছি।

এদিকে চলমান অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে বেশ ভালো সুখবর এলো রফতানি আয় থেকে। গত মে মাসে রফতানিতে ২৬ দশমিক ৬১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এই মাসে ৪৮৫ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে, যা দেশীয় মুদ্রায় ৫১ হাজার ৮৯৫ কোটি টাকা। এই রফতানি গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২৬ দশমিক ৬১ শতাংশ বেশি। গত বছরের মে মাসে ৩৮৩ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি হয়। অবশ্য চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের ১১ মাসের হিসাবে মোট রফতানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ১১ শতাংশ।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)। এতে দেখা যায়, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) ৫ হাজার ৫২ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি হয়। এই রফতানি গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ১১ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে রফতানি হয়েছিল ৪ হাজার ৭১৭ কোটি ডলারের পণ্য।

এ ছাড়া চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে ৪ হাজার ২৬৩ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি হয়েছে। এই আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক ৬৭ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রফতানি চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য। রফতানি হয়েছে ১১২ কোটি ডলারের পণ্য। এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি দশমিক ৪২ শতাংশ। অন্যদিকে তৃতীয় সর্বোচ্চ ১০২ কোটি ডলারের হোম টেক্সটাইল পণ্য রফতানি হয়েছে। এ খাতের রফতানি কমেছে ৩০ শতাংশ।