ডেথ ওভারে দুর্দান্ত বোলিংয়ে সিরিজ বাংলাদেশের

বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড তৃতীয় ওয়ানডে

তৃতীয় ওয়ানডের সংক্ষিপ্ত স্কোর: আয়ারল্যান্ড ৫০ ওভারে ২৭০/৯ (ইয়াং ৩*, লিটল ১*;ম্যাকব্রাইন ৪, অ্যাডায়ার ২০ টাকার ৫০, ডকরেল ৩, ক্যাম্ফার ১, টেক্টর ৪৫, স্টার্লিং ৬০, বালবির্নি ৫৩, ডোহেনি ৪)

বাংলাদেশ ৪৮.৫ ওভারে ২৭৪/১০ (হাসান মাহমুদ ১, মোস্তাফিজুর রহমান ০, মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী ৮, মেহেদী হাসান মিরাজ ৩৭, মুশফিকুর রহিম ৪৫, তামিম ইকবাল ৬৯, তাওহীদ হৃদয় ১৩, লিটন দাস ৩৫, নাজমুল হোসেন শান্ত ৩৫, রনি তালুকদার ৪)।

ফল: বাংলাদেশ জয়ী ৪ রানে।

সিরিজ: তিন ম্যাচের সিরিজ ২-০ তে জয়ী বাংলাদেশ।

ম্যাচসেরা: মোস্তাফিজুর রহমান, ৪/৪৪।

সিরিজ সেরা: নাজমুল হোসেন শান্ত, ১৯৬ রান ও ১ উইকেট।

২৭৪ রান করেও তামিম ইকবালের দক্ষ নেতৃত্বে আয়ারল্যান্ডের হোম সিরিজ জিতে নিলো বাংলাদেশ। তৃতীয় ম্যাচে উত্তেজনা ছড়িয়ে শেষ ওভারে ৪ রানের রোমাঞ্চকর জয়ে ২-০ তে সিরিজ নিশ্চিত করলো তারা।

২০১৯ সালের পর প্রথমবার বাংলাদেশের পাঁচ ব্যাটারের কাছে ৩৫-এর বেশি রানের দেখা মিলেছিল রবিবার। তামিম ইনিংস সেরা ৬৯ রান করেন। ৪৫ রান আসে মুশফিকের ব্যাটে। এছাড়া নাজমুল হোসেন শান্ত (৩৫), লিটন দাস (৩৫) ও মেহেদী হাসান মিরাজ (৩৭) গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ৪৮.৫ ওভারে সব উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

জবাব দিতে নেমে দ্রুত স্টিফেন ডোহেনিকে ফেরান মোস্তাফিজুর রহমান। তারপর পল স্টার্লিং ও অ্যান্ডি বালবির্নি চেপে বসেন বাংলাদেশের বোলারদের ওপর। দুজনের ১০৯ রানের জুটিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় আয়ারল্যান্ড।

দুজনেই ফিফটি হাঁকান। এবাদত হোসেনের কাছে এই জুটি ভেঙে যায়। ৫৩ রানে বালবির্নি ও স্টার্লিং ৬০ রানে কাছাকাছি সময়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন।

এরপর ক্রিজে জমে যান লরকান টাকার ও হ্যারি টেক্টর। কিছুতেই তাদের নড়ানো যাচ্ছিল না। শান্তকে বল তুলে দেন তামিম। নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম আন্তর্জাতিক উইকেট নিয়ে দুর্দান্ত ব্রেকথ্রু আনেন এই খণ্ডকালীন স্পিনার। শান্ত টেক্টরকে ফেরানোর পরের ওভারে মোস্তাফিজের বলে কার্টিস ক্যাম্ফার মাত্র ১ রান করে তামিম ইকবালের ক্যাচ হন।

ওই ওভারে মাত্র ২ রান দিয়ে ১ উইকেট নেওয়া বাঁহাতি পেসার তার পরের ওভারে জর্জ ডকরেলকে (৩) বদলি ফিল্ডার ইয়াসির আলী রাব্বির ক্যাচ বানান। আরেক ওভারে এসে হাফ সেঞ্চুরিয়ান লরকান টাকারকে বোল্ড করেন কাটার মাস্টার। ৫৩ বলে চার চার ও ১ ছয়ে ৫০ রানে থামেন আইরিশ ব্যাটার।

মোস্তাফিজুর রহমানের দারুণ বোলিংয়ে কোণঠাসা ছিল আয়ারল্যান্ড। ১২ বলে দরকার ছিল ২৪ রান। কিন্তু মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী ১৪ রান দিলে উত্তেজনা বাড়ে। শেষ ওভারে ১০ রান ঠেকাতে হতো। হাসান মাহমুদ প্রথম বলে বোল্ড করেন মার্ক অ্যাডায়ারকে। তৃতীয় বলে মৃত্যুঞ্জয়ের ক্যাচ বানান অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইনকে। শেষ তিন বলে ৪ রানের বেশি নিতে পারেনি আয়ারল্যান্ড। ৯ উইকেটে ২৭০ রানে থামে তারা।

১০ ওভারে ৪৪ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা মোস্তাফিজ। সিরিজের সেরা হয়েছেন শান্ত।

হাসানের জোড়া আঘাত

মোস্তাফিজুর রহমানের দারুণ বোলিংয়ে কোণঠাসা ছিল আয়ারল্যান্ড। ১২ বলে দরকার ছিল ২৪ রান। কিন্তু মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী ১৪ রান দিলে উত্তেজনা বাড়ে। শেষ ওভারে ১০ রান ঠেকাতে হতো। হাসান মাহমুদ প্রথম বলে বোল্ড করেন মার্ক অ্যাডায়ারকে। তৃতীয় বলে মৃত্যুঞ্জয়ের ক্যাচ বানান অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইনকে।

শান্তর ব্রেকথ্রু পর মোস্তাফিজের আগুন বোলিং

ম্যাচ ঘুরে গেলো। নাজমুল হোসেন শান্তর ব্রেকথ্রুর পর মোস্তাফিজুর রহমান তার পরের তিন ওভারে ৩ উইকেট তুলে নিলেন। শান্ত টেক্টরকে ফেরানোর পরের ওভারে মোস্তাফিজের বলে কার্টিস ক্যাম্ফার মাত্র ১ রান করে তামিম ইকবালের ক্যাচ হন।

ওই ওভারে মাত্র ২ রান দিয়ে ১ উইকেট নেওয়া বাঁহাতি পেসার তার পরের ওভারে জর্জ ডকরেলকে (৩) বদলি ফিল্ডার ইয়াসির আলী রাব্বির ক্যাচ বানান। আরেক ওভারে এসে হাফ সেঞ্চুরিয়ান লরকান টাকারকে বোল্ড করেন কাটার মাস্টার। ৫৩ বলে চার চার ও ১ ছয়ে ৫০ রানে থামেন আইরিশ ব্যাটার।

ক্যারিয়ারের প্রথম উইকেট নিয়ে শান্তর ব্রেকথ্রু

মেহেদী হাসান মিরাজ ও এবাদত হোসেনের সামনে সাবলীল ছিলেন হ্যারি টেক্টর ও লরকান টাকার। তাদের ব্যাটে পরাজয়ের চোখ রাঙানি বাংলাদেশের সামনে। তামিম ইকবাল বোলিংয়ে পরিবর্তন আনলেন।

ওয়ানডে ক্যারিয়ারে তৃতীয়বার বল হাতে নেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তিন ফরম্যাটে মাত্র ১৪০ বল করা এই স্পিনার এনে দিলেন ব্রেকথ্রু।

৪২তম ওভারে তার পঞ্চম বলে টেক্টর লং অনে লিটন দাসের দারুণ ক্যাচ হন। শান্ত পান তার প্রথম আন্তর্জাতিক উইকেট। ৬৫ বলে ৭৯ রানের জুটি ভেঙে যায়। টেক্টর ৪৮ বলে ৪৫ রানে থামেন।

টাকার-টেক্টরে চাপে বাংলাদেশ

দুই সেট ব্যাটার অ্যান্ডি বালবির্নি ও পল স্টার্লিং আউট হলেও চতুর্থ উইকেট জুটি ক্রিজে জমে গেছে। লরকান টাকার ও হ্যারি টেক্টরের পঞ্চাশ ছাড়ানো জুটিতে বিপদে বাংলাদেশ। ২৭৫ রানের লক্ষ্যে ছুটছে আইরিশরা।

রিভিউয়ে মৃত্যুঞ্জয়কে হতাশ করলেন টাকার

নিজের ষষ্ঠ ওভারের শেষ বলে লরকান টাকারের বিরুদ্ধে এলবিডব্লিউর আবেদন করে উদযাপনে মেতে উঠেছিলেন মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী। কিন্তু আইরিশ ব্যাটার রিভিউ নেন। আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত পাল্টে যায়। প্রথম ওয়ানডে উইকেট থেকে বঞ্চিত হলেন বাংলাদেশি পেসার। মৃত্যুঞ্জয় তার পরের ওভারে ২১ রান দেন, জীবন পাওয়া টাকার তিন চার মারেন। তাতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আয়ারল্যান্ডের হাতে।

-

মৃত্যুঞ্জয়ের দুর্দান্ত ক্যাচে প্যাভিলিয়নে স্টার্লিং

এবাদত হোসেনের কাছে অ্যান্ডি বালবির্নি উইকেট হারানোর পর পল স্টার্লিং সতর্ক ব্যাটিং করতে থাকেন। তবে বেশিদূর যেতে পারলেন না তিনি। ৩২তম ওভারে মেহেদী হাসান মিরাজের প্রথম বলে শর্ট থার্ডে অভিষিক্ত মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরীর দুর্দান্ত ক্যাচে ফিরে গেলেন স্টার্লিং। ৭৩ বলে ৪ চার ও ২ ছয়ে ৬০ রান করেন তিনি। লাফিয়ে এক হাতে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন মৃত্যুঞ্জয়।

বালবির্নিকে বিদায় করলেন এবাদত

যত সময় বাড়ছিল, বাংলাদেশের অস্বস্তি বাড়াচ্ছিলেন পল স্টার্লিং ও অ্যান্ডি বালবির্নি। দুজনের জুটি একশ ছাড়ানোর পথে হাফ সেঞ্চুরি করেন তারা। অবশেষে এই জুটি ভেঙে স্বস্তি ফেরালেন এবাদত হোসেন। ২৭তম ওভারের প্রথম বলে বালবির্নি ডিপ মিডউইকেটে রনি তালুকদারের ক্যাচ হন। দলীয় ১২৬ রানে দ্বিতীয় উইকেট পেলো বাংলাদেশ।

১০৯ রানের জুটি গড়ার পথে বালবির্নি ৭৮ বল খেলে করেন ৫৩ রান। তার ইনিংসে ছিল ৬ চার।

Untitled-1

স্টার্লিং ও বালবির্নি হাফ সেঞ্চুরি

১৭ রানে ওপেনার স্টিফেন ডোহেনির বিদায়ের পর জুটি বাঁধেন পল স্টার্লিং ও অ্যান্ডি বালবির্নি। তাদের জুটি একশ ছাড়িয়েছে।

এর আগে ২৪তম ওভারের দ্বিতীয় বলে মেহেদী হাাসন মিরাজের কাছ থেকে সিঙ্গেল নিয়ে ফিফটি করেন স্টার্লিং। এজন্য তিনি খেলেছেন ৫৮ বল, ছিল ৩ চার ও ২ ছয়। পরের ওভারে এবাদত হোসেনকে ষষ্ঠ চার মেরে ৭১ বলে হাফ সেঞ্চুরি উদযাপন করেন বালবির্নিও।

বাংলাদেশের সামনে বালবির্নি-স্টার্লিংয়ের প্রতিরোধ

দলীয় ১৭ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর অ্যান্ডি বালবির্নি ও পল স্টার্লিং উইকেট ধরে রেখে লক্ষ্যে ছুটছেন। তাদের জুটি পঞ্চাশ ছাড়িয়েছে।

পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশের দারুণ বোলিং

পাওয়ার প্লের প্রথম ১০ ওভারে দারুণ বোলিং করলো বাংলাদেশ। মাত্র ৪৯ রান দিয়েছে তারা, উইকেট একটি। আয়ারল্যান্ডকে ২৭৫ রানের লক্ষ্য দিয়ে চাপে রেখেছেন বোলাররা।

do

উদ্বোধনী জুটি ভাঙলেন মোস্তাফিজ

২৭৫ রানের লক্ষ্য দিয়ে ষষ্ঠ ওভারে ১৭ রানে আয়ারল্যান্ডের উদ্বোধনী জুটি ভাঙলো বাংলাদেশ। মোস্তাফিজুর রহমানের বলে স্লিপে লিটন দাসের ক্যাচ হন স্টিফেন ডোহেনি।

প্রথম ২ ওভারে এক মেডেনে মাত্র ৪ রান দেওয়া মোস্তাফিজ নিজের তৃতীয় ওভারে পেলেন সাফল্য। ১৬ রান বল খেলে ৪ রান করেন ডোহেনি।

মোস্তাফিজ-হাসানের আঁটসাঁট বোলিং

মোস্তাফিজুর রহমান ও হাসান মাহমুদের আঁটসাঁট বোলিংয়ে আয়ারল্যান্ডকে অসুবিধায় রেখেছে বাংলাদেশ। তিন ওভারে দুই পেসার মিলে মাত্র ৬ রান দেন।

২৭৪ রানেই শেষ বাংলাদেশ

সিরিজ নিশ্চিত করতে শেষ ও তৃতীয় ওয়ানডেতে বেশি বড় স্কোরবোর্ড পায়নি বাংলাদেশ। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে সফরকারীরা ২৭৪ রানেই অলআউট হয়েছে।

একটা সময় তিনশ রানও সম্ভব বলে মনে হচ্ছিল। টপের ব্যাটাররা ইনিংস লম্বা করতে না পারলেও প্রান্ত আগলে খেলছিলেন তামিম ইকবাল। মাঝে নাজমুল হোসেন (৩৫), লিটন (৩৫) স্কোরবোর্ড সচল রেখে আউট হয়েছেন। তামিম ৬৯ রানে যখন ফেরেন, তখনও স্কোরবোর্ডের অবস্থা খারাপ ছিল না। ৩৩.৩ ওভারে ৫ উইকেটে ১৮৬। ফলে শেষটা বিস্ফোরক ব্যাটিং দিয়ে করতে পারলেই হতো। কিন্তু ওই সময় বড় স্কোরের আশা জাগিয়েও তা মেটাতে পারেননি মুশফিক-মিরাজ জুটি। অথচ তাদের ৭৫ রানের জুটিতেই স্কোর আড়াইশ ছাড়িয়েছে। শেষ দিকে এই সেট দুই ব্যাটার আউট না হলে স্কোর আরও বড় হতে পারতো। সেটি না হওয়ায় তারা আউট হতেই ইনিংস শেষ হয়েছে ২৭৪ রানে।

মুশফিকের পর সাজঘরে মিরাজও

দুর্দান্ত জুটিতে ইনিংসের শেষটা সামাল দিচ্ছিলেন মুশফিক-মিরাজ। তাদের জুটি বড় স্কোরের আশাও দেখাচ্ছিল। দুর্ভাগ্য মুশফিকের বিদায়ে ৭৫ রানে থেমেছে জুটি। সঙ্গীর বিদায়ে মিরাজের ওপরই স্কোরবোর্ড এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব ছিল। কিন্তু শেষ স্বীকৃত ব্যাটার হিসেবে প্রত্যাশা মেটাতে পারেননি। মুশফিকের পরের ওভারে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরেছেন তিনি। তাতে ৩৯ বলে ৩৭ রানে থেমেছেন মিরাজ। তার ইনিংসে ছিল ৩টি চার।

মুশফিকের বিদায়ে ভাঙলো ৭৫ রানের জুটি

হাফসেঞ্চুরিয়ান তামিম ইকবালের ফেরায় চাপ তৈরি হয়েছিল ইনিংসে। সেই চাপটা ভালোভাবেই সামাল দিয়েছেন মুশফিক-মিরাজ। জুটি গড়ে রানের চাকা সচল রাখছিলেন তারা। কিন্তু যে মুহূর্তে রানের গতি আরও বাড়ানো প্রয়োজন ঠিক সেই সময়েই স্লগ সুইপে কপাল পোড়ে মুশফিকের। ম্যাকব্রাইনের বলে এলবিডাব্লিউতে ফিরেছেন তিনি। শুরুতে আম্পায়ার আউট দিলে তিনি রিভিউ নিয়েছিলেন। আম্পায়ার্স কলে সেখানে সাফল্য আসেনি যদিও। তাতে ৫৪ বলে ৪৫ রানে শেষ হয়েছে মুশফিকের ইনিংস। তাতে ছিল ৩টি চার। অবশ্য এই জুটি ইনিংস সমৃদ্ধ করছিল। দুজনে মিলে যোগ করেছেন সর্বোচ্চ ৭৫ রান! দুর্ভাগ্য বড় স্কোরের আশা জাগানো জুটি ভেঙেছে মুশফিকের বিদায়েই।

ইনিংসের একমাত্র হাফসেঞ্চুরিটি আসে তামিমের ব্যাটে। ৬৯ রানে তামিমকে থামালেন ডর্করেল

লিটনের পর হৃদয়ও দ্রুত ফিরলে চাপ বেড়ে গিয়েছিল ইনিংসে। প্রান্ত আগলে তামিম ইকবাল অবশ্য খেলে যাচ্ছিলেন। সচল রাখছিলেন রানচাকা। ৩৪তম ওভারে তার আউটে চাপটা আরও বেড়েছে। এই মুহূর্তে স্কোরবোর্ড সমৃদ্ধ করতে একজন সেট ব্যাটারই অবদান রাখতে পারতেন। সেই জায়গায় তামিমকে ৬৯ রানে থামিয়েছেন আইরিশ স্পিনার জর্জ ডকরেল। ১ রানে জীবন পাওয়া বাংলাদেশ অধিনায়ক বেপরোয়া শট খেলতে গিয়ে লিডিং এজ হয়ে তালুবন্দি হয়েছেন। তার ৮২ বলের ইনিংসে ছিল ৬টি চার।

লিটনের পর সাজঘরে হৃদয়ও

লিটনের ফেরায় ভাঙে প্রতিষ্ঠিত একটি জুটি। ছন্দপতন ঘটায় আগের ম্যাচে বিস্ফোরক ইনিংস উপহার দেওয়া তাওহীদ হৃদয়ের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছিল। দুর্ভাগ্য ইনিংস লম্বা করতে পারেননি। তার বিদায়ে চাপে পড়েছে সফরকারী দল। বামহাতি স্পিনার জর্জ ডকরেলের বলে হৃদয় সরে শট খেলতে গিয়েছিলেন। কিন্তু বল নিচু হওয়ায় বোল্ড হয়েছেন তিনি। ১৬ বলে ১৩ রান করেছেন হৃদয়। তাতে ছিল ১টি চার।

৯ ইনিংস পর তামিমের ফিফটি

সর্বশেষ গত বছরের আগস্টে তামিম ফিফটির দেখা পেয়েছিলেন। প্রতিপক্ষ ছিল জিম্বাবুয়ে। তার পর কেটে গেছে ৯টি ইনিংস। এই সময়ে ইনিংস সেভাবে লম্বা করতে পারেননি। পাননি হাফসেঞ্চুরির দেখাও। অবশেষে ৯ ইনিংস পর চেমসফোর্ডে দেখা মিললো অর্ধশতক। এটি তার ৫৬তম হাফসেঞ্চুরি।

লিটনের বিদায়ে ভাঙলো ৭০ রানের জুটি

দারুণ জুটিতে স্কোরবোর্ড সমৃদ্ধ করছিলেন লিটন-তামিম। তাদের ব্যাটে রান রেট ৬ এর কাছেই থেকেছে। আইরিশদের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ানো এই জুটি ভাঙে লিটনের বিদায়ে। অফস্পিনার ম্যাকব্রাইনের বলে মারতে গিয়েছিলেন। কিন্তু মিড অফেই তালুবন্দি হয়েছেন তিনি। তাতে ভাঙে ৭০ রানের দারুণ একটি জুটি। লিটন ৩৯ বলে ৩ চারে ৩৫ রান ফিরেছেন।

তামিম-লিটনের প্রতিরোধে স্কোর একশ ছাড়ালো

৬৭ রানে শান্তর উইকেট পড়ার পর দলকে এগিয়ে নিচ্ছিলো তামিম-লিটন জুটি। এই জুটিতেই স্কোর একশ ছাড়িয়েছে।

শান্তর বিদায়ে ভাঙলো ৪৯ রানের জুটি

দলের ১৮ রানে পড়ে প্রথম উইকেট। তার পরেও সমস্যা হয়নি সফরকারীদের। নতুন নেমে গত দিনের মতো আগ্রাসী ব্যাটিংকেই মন্ত্র বানিয়েছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তামিম দেখে শুনে খেললেও শান্ত স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে বাউন্ডারিতে রান তুলছিলেন। তার ব্যাটেই ৯ ওভারে স্কোর পঞ্চাশ ছাড়িয়েছে। ১১তম ওভারে উইল ইয়াংয়ের বলেও বাউন্ডারিতে সচল রাখেন রানের চাকা। কিন্তু পঞ্চম বলটিতে ভুল করে বসেন তিনি। ফুলার লেংথের বলটিতে খোঁচা মারতে গিয়ে উইকেটের পেছনে স্লিপে ক্যাচ দিয়েছেন। তাতে ৩২ বলে ৩৫ রানে থেমেছেন তিনি। শান্তর ইনিংসে ছিল ৭টি চার। তাতে ভেঙে যায় ৪৯ রানের সম্ভাবনাময় জুটি।

অভিষেকে প্রত্যাশা মেটাতে পারেননি রনি।অভিষেকে মাত্র ৪ রানে আউট রনি

তৃতীয় ওভারে তামিম জীবন পেলেও পরের ওভারে মার্ক অ্যাডায়ারের বলে বাজে শট সিলেকশনের বলি হয়েছেন অভিষিক্ত রনি তালুকদার। অফস্টাম্পের বাইরের সুইং করা বলে বড় শট খেলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বল ব্যাটের কানায় লেগে জমা পড়ে টাকারের গ্লাভসে। তাতে ১৪ বল খেলে অভিষেকে মাত্র ৪ রানেই ফিরেছেন রনি।

জীবন পেলেন তামিম

চেমসফোর্ডে সিরিজ জয়ের মিশনে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টস হেরে ব্যাট করছে বাংলাদেশ। তামিম ইকবালের সঙ্গে ওপেনিং পার্টনার হয়েছেন অভিষেক করা রনি তালুকদার। শুরুতেই জীবন পান তামিম। তৃতীয় ওভারে জশ লিটলের বলে খোঁচা মারতে গিয়ে ক্যাচ দিয়েছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় স্লিপে থাকা বালবির্নি তা হাতে জমাতে পারেননি। তাহলে ১ রানেই আউট হতেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

টস হেরেছে বাংলাদেশ

দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টস হারলেও সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে টস জিতেছে আয়ারল্যান্ড। চেমসফোর্ডে শুরুতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানিয়েছে তারা।

প্রথম ওয়ানডে বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ায় দ্বিতীয় ওয়ানডে জিতে সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। তৃতীয় ম্যাচ জিতলেই তারা সিরিজ ২-০ তে নিশ্চিত করবে। অপরদিকে আয়ারল্যান্ড চাইবে সিরিজ হার এড়াতে।

অবশ্য বৃষ্টি বিঘ্নিত দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মনে হচ্ছিল আয়ারল্যান্ড তাদের কাজটা ঠিকমতো করেছে। ভালো প্রতিদ্বন্দ্বতাপূর্ণ ম্যাচ উপহার দিয়েছে তারা। হ্যারি টেক্টরের অসাধারণ এক সেঞ্চুরিতে (১১৩ বলে ১৪০) ৪৫ ওভারের ম্যাচে ৬ উইকেটে ৩১৯ রানের সংগ্রহ পায় আইরিশ দল। সঙ্গে জর্জ ডকরেলের বিস্ফোরক ইনিংসে (৪৭ বলে ৭৪ রান) ফুলেফেঁপে ওঠে স্কোরবোর্ড। জবাবে দ্রুত তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসানদের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটার আউট হয়ে গেলেও ম্যাচ জিততে বড় রেখেছে নাজমুল হোসেন শান্ত ও তাওহীদ হৃদয়ের ঝড়ো ব্যাটিং। ১১৭ রান করেছেন শান্ত। হৃদয় করেছেন ৬৮ রান। তাদের গড়ে দেওয়া মঞ্চেই পরে জয় ছিনিয়ে আনেন মুশফিকুর রহিম (৩৬*)। ৪৪.৩ ওভারে বাংলাদেশ জেতে ৩ উইকেটের ব্যবধানে।

একাদশে পরিবর্তন ৩টি, রনি-মৃত্যুঞ্জয়ের অভিষেক 

বাংলাদেশের একাদশে তিনটি পরিবর্তন এসেছে। চোট আক্রান্ত সাকিব যে খেলবেন না সেটা অনুমিতই ছিল। তাছাড়া জায়গা হয়নি পেসার শরিফুল ইসলাম ও বামহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলামের। তাদের জায়গায় অভিষেক হয়েছে রনি তালুকদার ও পেসার মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরীর। ফিরেছেন মোস্তাফিজুর রহমানও। আইরিশ একাদশে একটি পরিবর্তন। হিউমের জায়গায় এসেছেন উইল ইয়াং।

বাংলাদেশ একাদশ: তামিম ইকবাল (অধিনায়ক), লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিম, রনি তালুকদার, তৌহিদ হৃদয়, মেহেদী হাসান মিরাজ, মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী, হাসান মাহমুদ, মোস্তাফিজুর রহমান ও এবাদত হোসেন।

আয়ারল্যান্ড একাদশ: পল স্টার্লিং, স্টিফেন ডোহেনি, অ্যান্ড্রু বালবির্নি (অধিনায়ক), হ্যারি টেক্টর, লরকান টাকার, কার্টিস ক্যাম্ফার,  জর্জ ডকরেল, অ্যান্ড্রু ম্যাকব্রাইন, মার্ক অ্যাডেয়ার, উইল ইয়াং ও জশ লিটল।

তৃতীয় ওয়ানডে দেখা যাবে আইসিসি টিভি ও বিসিবির ইউটিউব চ্যানেলে

সিরিজটি বাংলাদেশের কোনও টিভি প্রচার করছে না। আইসিসির ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম আইসিসি টিভি ও বিসিবির ইউটিউব চ্যানেল সেটি সম্প্রচার করছে।