নভেম্বরে ঢাকা ও চট্টগ্রামে চলবে বৈদ্যুতিক বাস

প্রথম পর্যায়ে সড়কে নামবে ১০০টি

বিদ্যুৎ চালিত মেট্রোরেলের পর এবাব বিদ্যুৎ চালিত যানবাহনের যুগে প্রবেশ করছে বাংলাদেশ। চলতি বছরের নভেম্বরে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে নামানো হবে ১০০ টি বৈদ্যুতিক যাত্রীবাহী বাস। বায়ু দূষণ রোধ ও সারাদেশের কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ কমিয়ে আনতে চালু করা হচ্ছে বিদ্যুৎ চালিত এই মোটরযান। ২০৩০ সালের মধ্যে সারাদেশে ৩০ শতাংশ মোটরযান বিদ্যুতে রূপান্তরের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

এদিকে বাইসাইকেল বা রিক্সা এবং রিক্সাভ্যানে বৈদ্যুতিক মোটর সংযুক্ত করা যাবে না এই নির্দেশনা দিয়ে চূড়ান্ত করা হয়েছে ‘ইলেকট্রিক মোটরযান রেজিস্ট্রেশন ও চলাচল সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৩’। পাশাপাশি জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটারের চেয়ে কম গতির কোনো বৈদ্যুতিক মোটরযান চলাচল করতে পারবে না বলে নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে। গত ১৮ এপ্রিল এই নীতিমালার গেজেট প্রকাশ করেছে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। এছাড়া মহাসড়কে ১০০ কিলোমিটার দূরত্বে ৫০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন রিচার্জিং স্টেশন স্থাপনের নির্দেশনাসহ বৈদ্যুতিক যান চার্জিং নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

বুধবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ‘এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে বৈদ্যুতিক গতিশীলতায় রূপান্তরকে
ত্বরান্বিত করা’ সংক্রান্ত উপ-আঞ্চলিক সভা এবং সক্ষমতা বৃদ্ধি বিষয়ক কর্মশালায় সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, বাংলাদেশ পরিবহন সেক্টর ২০৩০ সালের মধ্যে ৩ দশমিক ৪ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ শর্তহীনভাবে হ্রাসের অঙ্গীকার করেছে। এ প্রেক্ষাপটে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন খাতে ব্যবহৃত যানবাহনের ন্যূনতম ৩০ ভাগ যানবাহন বৈদ্যুতিক ক্যাটাগরিতে রূপান্তর হবে। সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ এর ১২৪ ধারা মোতাবেক বৈদ্যুতিক মোটরযান চলাচল সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৩ আমরা ইতোমধ্যে করেছি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, এ বছর নভেম্বরের মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রামে ১০০টি বৈদ্যুতিক ডবল ডেকার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস যুক্ত হবে। এর মধ্যে ৮০টি ঢাকা শহরে ও ২০টি চট্টগ্রামে চলাচল করবে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য জেলাতেও এই বাস আমদানির প্রক্রিয়া চলছে।

বিআরটিসি’র সূত্র জানায়, ভারতের এলওসি’র অর্থায়নে ৩৪০ টি বাস আনার জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০০ বিদ্যুত চালিত এসি দ্বিতল বাস আনা হবে। প্রকল্পে ডিপিপি ইতোমধ্যে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান।

এ বিষয়ে বিআরটিসি’র চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ভারতীয় লাইন অব ক্রেডিটের (এলওসি) অর্থায়নে ১০০ টি বিদ্যুৎ চালিত বাস আনা হবে। এসব বাস ঢাকার বিভিন্ন রুটে চলাচল করবে। বাসগুলো চার্জ দেওয়ার জন্য বিআরটিসির বিভিন্ন বাস ডিপোতে ব্যবস্থা থাকবে।

রিক্সাভ্যানে বৈদ্যুতিক মোটর সংযুক্ত করা যাবে না ॥ বাইসাইকেল বা রিক্সা এবং রিক্সাভ্যানে বৈদ্যুতিক মোটর সংযুক্ত করা যাবে না এই নির্দেশনা দিয়ে চূড়ান্ত করা হয়েছে ‘ইলেকট্রিক মোটরযান রেজিস্ট্রেশন ও চলাচল সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৩’। নীতিমালার ভূমিকায় বলা হয়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর মোটরযান থেকে কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ কমিয়ে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন রোধে বিশ্বব্যাপী ইলেকট্রিক ভেহিকল (ইভি) ব্যবহারের গুরুত্ব বেড়েছে।

বৈদ্যুতিক মোটরযানের নিবন্ধন পদ্ধতি ॥ ইঞ্জিনচালিত মোটরযানের প্রচলিত নিবন্ধন পদ্ধতি অনুযায়ী বৈদ্যুতিক মোটরযানের নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। ইঞ্জিনচালিত মোটরযানের ফিটনেস সার্টিফিকেট, ট্যাক্স টোকেন, রুট পারমিট যেভাবে দেওয়া হচ্ছে, বৈদ্যুতিক যানের ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি থাকবে। বাজারজাতকরণ বা নিবন্ধন গ্রহণ, বিশেষ প্রণোদনা নিবন্ধন ছাড়া ডিলার, এজেন্ট, আমদানিকারক, স্থানীয় প্রস্তুতকারী বা উৎপাদনকারী কেউ তিন চাকার বৈদ্যুতিক যান ও মোটরসাইকেল বিক্রি করতে পারবে না।

ইকোনমিক লাইফ ॥ ইকোনমিক লাইফ অনুযায়ী নির্ধারিত মেয়াদে বৈদ্যুতিক মোটরযান নিবন্ধন দেওয়া হবে। এসব মোটরযান বাণিজ্যিকভাবে চলাচলের লাইফটাইম নির্ধারণ করবে সরকার। নির্ধারিত ইকোনমিক লাইফ শেষে এসব যানের নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাবে।

মহাসড়কে চার্জিং স্টেশন ॥ মহাসড়কে ১০০ কিলোমিটার দূরত্বে ৫০ কিলোওয়াট ক্ষমতাবিশিষ্ট চার্জিং স্টেশন স্থাপনের নির্দেশনাসহ বৈদ্যুতিক যান চার্জিং নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এছাড়া সকল বিভাগীয় শহরের কেন্দ্রস্থল এবং গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কসমূহ, যেখানে দ্রুত বৈদ্যুতিক যান প্রচলনের সম্ভাবনা আছে, সেখানে চার্জিং অবকাঠামো স্থাপন করা হবে। প্রাথমিকভাবে পর্যাপ্ত জায়গা ও বিদ্যুৎ সংযোগ সুবিধাসংবলিত সিএনজি/ পেট্রোল রিফুয়েলিং স্টেশনে ফার্স্ট চার্জিং অবকাঠামো স্থাপনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এছাড়া সরকারি ক্রয় কার্যক্রমের আওতায় বৈদ্যুতিক যানবাহন ক্রয় উৎসাহিতকরণের লক্ষ্যে সরকারি প্রাঙ্গণে চার্জিং স্টেশন স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা যাবে বলে বিদ্যুৎ বিভাগের নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।