পৌনে দুইশ’ বছরের ঈদগা, সাজছে নতুনরূপে

৭০ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করেন

প্রায় পৌনে দু’শ’ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত বগুড়ার প্রাচীন কেন্দ্রীয় ঈদগাহ প্রকৃতির গাছগাছালির মধ্যে ও বাউন্ডারির ভেতরে পুষ্প উদ্যানের ধারে নতুন ভাবে সাজছে। পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপনকে মহিমান্বিত করে তুলতে গত প্রায় তিন মাস ধরে নীরবে নিভৃতে বগুড়া শহরের সূত্রাপুরে কেন্দ্রীয় ঈদগাহকে দৃষ্টি নন্দন করা হচ্ছে। মূল উদ্যোক্তা বগুড়া পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র রুন আলহাজ শেখ। তিনি প্রতিদিন উপস্থিত থেকে উন্নয়ন কাজ দেখাশোনা করেন। গোহাইল রোড থেকে ঈদগাহে প্রবেশের পাকা সংযোগ সড়কটিকে (ঈদগাহ লেন) রড সিমেন্টের ঢালাইয়ে কংক্রিট করে দিচ্ছেন। যাতে শত বছরেও কোনো ক্ষতি না হয়।

তিনি জানান, তার পূর্বসুরীরা বগুড়া শহর গড়ে তোলার পর বছরের দুই ঈদে মাঠে নামাজের জন্য এক খ- ভূমি দান করেন। সেই ভূমি দিনে দিনে সম্প্রসারিত হয়। আলহাজ শেখ জানান, সম্প্রসারিত হয়ে বর্তমানে যে ঈদগাহ সেখানে অন্তত ৭০ হাজার মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করতে পারেন। এই ঈদগাহে উন্নতজাতের ঘাস রোপণ করে রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে। ইতোমধ্যে চার ধারের বাউন্ডারি এবং চারটি ফটকে মুসলিম স্থাপত্যকলায় টাইলস ও স্টিলে সৌন্দর্যবর্ধক করা হয়েছে। আরও কাজ বাকি। বললেন মহাস্থানগড় যে ঐতিহ্য ধারণ করে আছে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ যেন তা ধরে রাখে।

বগুড়ার ইতিহাসবিদগণ জানান প্রায় দুইশ’ বছর আগে বগুড়া জেলা গঠিত হয়। তখন শহর বলতে ছিল সাতটি সড়কের একটি কেন্দ্র সাতমাথা। সেখানে ছিল একটি বটবৃক্ষ। ছিল না পাকা সড়ক। লোকজন আসত গরু ও মহিষের গাড়ি চরে। সাতমাথা ছিল সূত্রাপুর মৌজার। সেখান থেকে একশ’ মিটার দক্ষিণে স্থাপিত হয় অ্যাডওয়ার্ড পার্ক। আরও কিছুটা দক্ষিণে সূত্রাপুর মৌজায় ১৮৬৯ সালে কিছ লোক এক খণ্ড জমি দান করে স্থাপন করেন একটি ঈদগাহ। এই ঈদগাহ কিছুটা সম্প্রসারিত হয় ১৯১০ সালে।

বগুড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র মাহবুবুর রহমান জানান, মেয়র থাকালীন পৌরসভার এক খতিয়ানে কেন্দ্রীয় ঈদগাহের বিষয়টি দৃষ্টিতে আসে। সেখানে বলা হয় পৌনে দুই বিঘা জমি নিয়ে ঈদগাহ গঠিত। যা মিউনিসিপ্যালিটির অধীনে থাকবে। সেই থেকে বগুড়া নগরীর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ সূত্রাপুরে।

জনসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় গত শতকের নব্বইয়ের দশকের শেষে এই ঈদগাহে অধিক মানুষের সংকুলান কঠিন হয়ে পড়ে। বগুড়ার তৎকালীন জেলা প্রশাসক শফিউল আলম ঈদগাহের সামনের পুকুর ভরাট এবং সংলগ্ন বগুড়া সেন্ট্রাল হাই স্কুলের মাঠ একত্রিত করে মাঠ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেন। স্কুল কর্তৃপক্ষ বাধা দেয়। পরে ঈদগাহ কমিটির তৎকালীন সেক্রেটারি ডা. মুশিউর রহমান, জেলা প্রশাসন, স্কুল কর্তৃপক্ষ ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় বছরের দুই ঈদে সম্প্রসারিত মাঠে ঈদের জামাত হবে। তারপর ২০০৩ সালে ঈদগাহ সম্প্রসারিত হয়।

কেন্দ্রীয় ঈদগাহে জনসমাগম বেড়েছে। এই মাঠে ঈদের নামাজের আশা সকলের। সেই দিকে লক্ষ্য রেখে সূত্রাপুর ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আওতায় ঈদগাহ সৌন্দর্যবর্ধকের কাজ হাতে নেন ওয়ার্ড কাউন্সিলর তরুণ আলহাজ শেখ। তিনি এই ওয়ার্ডের বাসিন্দা। সকলের সঙ্গে সৌহার্দ্য গড়ে তুলেছেন। তার বিভিন্ন কর্মকা-ে এলাকার লোকজন খুশি। ঈদগাহের কাজে হাত দেয়ার পর এলাকাবাসী আরও খুশি। বললেন এমন কিছু দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চান যাতে আগামী প্রজন্ম তাকে মনে রাখে।

মূল সড়ক গোহাইল রোড থেকে কংক্রিটের ঈদগাহ লেনে প্রবেশের পর দৃষ্টিতে আসে নন্দিত স্থাপনা বগুড়ার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ। দূরে থেকে মনে হবে প্রকৃতির সান্নিধ্যে গাছগাছালির মধ্যে এই ঈদগাহ। প্রবেশের পর ফুলের বাগান মন জুড়িয়ে দেয়। ঢাকা থেকে গাড়ি নিয়ে এসেছিলেন এক ব্যক্তি। বললেন তিনি অনেক জায়গা ঘুরেছেন। প্রকৃতির মধ্যে ফুলের বাগানের ভেতরে এমন ঈদগাহ দেখেননি।

আলহাজ শেখ জানালেন, এই ঈদগাহের অনেক কাজ বাকি। ওয়ার্ডের লোকজনের কাছে তার দাবি : তিনিসহ সকলে মিলে যেন দৃষ্টিনন্দন এই ঈদগাহ রক্ষণাবেক্ষণ করে। তাহলে তার কর্ম সফল হবে। আর ক’দিন পর এই ঈদগাহে ঈদুল ফিতরের জামাত হবে। সেই লক্ষ্যে যতটা সম্ভব দ্রুত কাজ চলছে।