রমজানে অর্ধেক দামে চাল-ডাল-তেল-খেজুর বিক্রি করছেন তারা

রমজান এলেই বাজার অস্থির। অধিক মুনাফার জন্য ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে বাড়িয়ে দেন পণ্যের দাম। এর বিপরীতে ব্যতিক্রমী বাজার চালু করেছে যশোরের আইডিয়া সমাজকল্যাণ সংস্থা নামে একটি সংগঠন।

তারা বাজার দরের অর্ধেক দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় ৯টি পণ্য মানুষের হাতে তুলে দিচ্ছে। পাঁচ শতাধিক নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ এই বাজারের সুবিধা পাবেন। রমজান মাসে চার দফায় ৫৫০ টাকার প্যাকেজে ৯টি পণ্য পাবেন উপকারভোগীরা।

বৃহস্পতিবার (২৩ মার্চ) দুপুরে যশোর শহরের খড়কিতে আইডিয়া সমাজকল্যাণ সংস্থার চত্বরে আয়োজন করা হয়েছে এই বাজারের। রমজান মাসব্যাপী ব্যবসায় ‘লস’ দেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে বাজার বসিয়েছেন তরুণ স্বেচ্ছাসেবীরা।

একজন ক্রেতা ৫৪ টাকা কেজি দরের চাল ২৫ টাকা করে ৫ কেজি, ২৫ টাকা কেজি দরের আলু ১০ টাকা করে দুই কেজি ও বাকি সাতটি পণ্য এক কেজি করে বাজারের অর্ধেক দামে কিনতে পারবেন। অর্থাৎ ১৪০ টাকা দরের ডাল ৪০ টাকায়, ১২০ টাকা দরের চিনি ৪৫ টাকায়, ১৯০ টাকা লিটারের তেল ১২০ টাকায়, ৪৫ টাকা দরের পেঁয়াজ ২০ টাকায়, ৯৫ টাকা দরের ছোলা ৬০ টাকায়, ৬০ টাকা দরের চিড়া ২০ টাকায়, ৩২০ টাকা দরের খেজুর ১০০ টাকায় বিক্রি করছেন তারা। এই ৯টি পণ্য একজনের কিনতে প্রয়োজন এক হাজার ২৮৭ টাকা, যা ৫৫০ টাকায় দিচ্ছে আইডিয়া লস প্রজেক্টের বাজার।

প্রজেক্টের সমন্বয়ক হারুন অর রশীদ বলেন, ‘আমাদের স্বেচ্ছাসেবকরা এক মাস জরিপ করে ৫৩৭টি পরিবার বাছাই করে প্রজেক্টের আওতায় নিয়ে আসে। তারপর তাদের মধ্যে কার্ড বিলি করা হয়। এখন তারা রমজান মাসে সপ্তাহে একদিন এখান থেকে সাধ্যের মধ্যে কম দামে বাজার করতে পারবে।’

প্রকল্পের ব্যয় নির্বাহের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সমাজকল্যাণ সংস্থার শিক্ষার্থীদের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রকল্প ‘পিঠা পার্কের পিঠা’ বিক্রির লভ্যাংশের ৩৫ শতাংশ টাকা সমাজকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই টাকা ব্যয়ের বড় অংশ আসছে পিঠা পার্কের পিঠা বিক্রি থেকে। পাশাপাশি অনেকের সহযোগিতাও রয়েছে।’

সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সহকারী অধ্যাপক হামিদুল হক শাহীন বলেন, ‘সাধ্যের মধ্যে আমাদের এই চেষ্টা। কিছু মানুষ যোগ হলেই সম্ভব বহু মানুষের পরিত্রাণের ব্যবস্থা। গত বছর লস প্রজেক্টের মাধ্যমে সেই তৃপ্তির স্বাদ শিক্ষার্থীরা পেয়েছে। এ বছরও তাই এই প্রচেষ্টা।’

সংস্থার সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, পৃথিবীর প্রায় সব মুসলিম দেশেই রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কমে। বাংলাদেশে উল্টো। সংযম ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা ভুলে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও মজুতদারির মাধ্যমে সীমাহীন লাভের লোভই এর জন্য দায়ী। এ সংকটের নির্মম শিকার সমাজের মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তরা। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীর দাম সমাজের মধ্যবিত্ত শ্রেণির সহনশীলতার মধ্যে আনতেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।

এখানে বাজার করতে আসা শহরের খড়কী এলাকার শেফালি বেগম বলেন, অল্প দামের এই বাজার আমাদের অনেক উপকারে আসবে। স্বামী ইজিবাইক চালাতো। তিন মাস ধরে অসুস্থ। কম দামে জিনিসপত্র পেয়ে আমার অনেক উপকার হবে।

আরেক ক্রেতা খন্দকার জাহাঙ্গীর বলেন, এখানে এত কম টাকায় এত জিনিসপত্র পাওয়া যাচ্ছে; এতে শান্তিতে রোজা রাখতে পারবো। স্বস্তি পেলাম।

রিকশাচালক নজরুল ইসলাম জানান, বাজারের অর্ধেক দামে চাল, ডাল, তেল কিনে নিয়ে যাচ্ছি। খুব ভালো লাগছে। আল্লাহ তাদের সহি সালামতে রাখুক।

এদিকে, স্বেচ্ছাসেবকরা গোলাপ ফুল দিয়ে স্বাগত জানিয়ে ক্রেতাদের বসার ব্যবস্থা করেন। এরপর তাদের শরবত ও খেজুর পরিবেশন করানো হয়। পরে বাজারের রশিদ কেটে টাকা নিয়ে পণ্য বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে যে, প্রত্যেক ক্রেতা যেন সম্মানের সঙ্গে তাদের পণ্য কিনতে পারেন।

এ ছাড়া এই বাজারে ঈদুল ফিতরের আগে ৩০০ টাকা কেজি দরে গরুর মাংস কিনতে পারবেন ক্রেতারা।

প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে আইডিয়া সমাজকল্যাণ সংস্থা আইডিয়া লস প্রজেক্ট চালু করে। এই প্রজেক্টের মাধ্যমে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষকে কম দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করা হয়।