গমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

পাবনার সাঁথিয়ায় গমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে গমের বাম্পার ফলন আশা করছেন এ উপজেলার কৃষকরা। উপজেলার ১০ ইউনিয়ন ও ১ পৌরসভায় কম-বেশি সব এলাকাতে গমের আবাদ হয়েছে। গমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা গত বছরের থেকে এবার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।

জানা গেছে, গম চাষে তেমন পানি, সার, কীটনাশক, বালাইনাশক ও নিড়ানির প্রয়োজন হয় না বলে খরচ অনেক কম। আর কম পরিশ্রমে অধিক লাভ করা যায়। এছাড়াও গমে পোকা-মাড়কের আক্রমণও তেমন একটা হয় না। গম চাষ একটি অধিক লাভজনক আবাদ হওয়ায় কৃষকরা গম চাষে ঝুঁকছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৩৫০ হেক্টর। আবহাওয়া অনুকূলে এ বছর বিঘা প্রতি ১৫ থেকে ১৬ মণ গম উৎপাদন হবে। রোগবালাইয়ের তেমন আক্রমণ না থাকায় চলতি মৌসুমে গমের বাম্পার ফলনের আশা করছে কৃষি বিভাগ। লাভজনক এই গম চাষে চাষিদের আগ্রহী করার লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে কৃষি বিভাগের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত চাষিদের মাঝে উন্নত বারি জাতের গমবীজ, সার, বালাইনাশকসহ অন্যান্য উপকরণ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও চাষিদের সার্বক্ষণিক পরামর্শসহ সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে আসছে উপজেলা কৃষি অফিস।

উপজেলার নওয়ানী গ্রামের প্রান্তিক গম চাষি আহেদ মোল্লা জানান, অন্যান্য বছরের মতো তিনি এবারো গম চাষ করেছেন। গমের বাজার মূল্য ভালো হওয়ায় তিনি গম চাষ ধরে রেখেছেন।

তিনি বলেন, গেল দুই বছর পেঁয়াজের লোকসান গুনে গুনে এখন তিনি ভাবছেন আগামীতে আরো গমের আবাদ বেশি করবেন। সরেজমিন কৃষকের মাঠে গিয়ে যেদিকে চোখ যায় সেদিকেই দেখা যায় মাঠে গমের সোনালি আধাপাকা শীষ বাতাসে দোল খাচ্ছে। কোনো কোনো জমিতে এখনো কিছু গমের শীষ কাঁচা রয়েছে। সপ্তাহ থেকে ১০ দিন পর জমি থেকে চাষিরা গম কাটা শুরু করতে পারবেন বলে আশা করছেন। এ সময় নূর আলী নামে এক কৃষককে তার জমিতে গমের দানায় বিষ দিতে দেখা যায়।

কৃষক নূর আলী জানায়, গমের দানায় যাতে মেদা পোকা না লাগে সেজন্য তিনি বিষ দিচ্ছেন। আর কয়েক দিনের মধ্যে গম পেকে যাবে। এ বছর সে ২ বিঘা জমিতে গমের আবাদ করেছেন। তিনি আশা করেন এ বছর বাম্পার ফলন হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার সঞ্জিব কুমার গোস্বামী জানান, উপজেলার কম-বেশি সব এলাকায় গমের আবাদ হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কৃষি প্রণোদনা হিসেবে বিনামূল্যে কৃষকদের মাঝে উন্নতজাতের বারি গমের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও চাষিদের সার্বক্ষণিক পরামর্শসহ সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে আসছে উপজেলা কৃষি অফিস। এতে করে একদিকে যেমন গমের আবাদ বেড়েছে তেমনি সঠিক পরিচর্যা করায় গমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

Views: 13