৩০০ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ১৬০ দিন দুধ পান করাবে সরকার

উন্নত বিশ্বের তুলনায় বাংলাদেশের মানুষের দুধ পানের পরিমাণ অনেক কম। উন্নত বিশ্বে মাথাপিছু দৈনিক দুধ পানের পরিমাণ গড়ে এক লিটারের কাছাকাছি হলেও বাংলাদেশে তা মাত্র ১৭৬ মিলিলিটার। শারীরিক এবং মানসিক বিকাশে দুধের গুরুত্ব বিবেচনা করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে লাইভস্টক অ্যান্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প (এলডিডিপি)। দুধ উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ এবং বাজারজাতকরণে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য দুধের বাজারজাতকরণ এবং দুধ পানের উপকারিতা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো।

এ লক্ষ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপদ ও পুষ্টিকর দুগ্ধজাত পণ্য প্রদর্শনীর বিশেষ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দেশের ৩০০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাইলট প্রকল্প আকারে এটি চালু করা হবে। এ কর্মসূচির আওতায় ৩০০টি নির্বাচিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তরল দুধ পান করানো হবে।

দুধে রয়েছে শর্করা, আমিষ, চর্বি, ভিটামিন, খনিজ পদার্থ এবং পানি। শরীর গঠনে বিশেষ করে দাঁত ও অস্থিকে করে শক্তিশালী, মানসিক স্বাস্থ্য এবং মেধা বিকাশে বিশেষ ভূমিকা রাখে দুধ। মেধা ও স্বাস্থ্যসম্পন্ন জাতি গঠনে এর অবদান অপরিসীম। তাই বেসরকারি উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে নিরাপদ দুগ্ধজাত পণ্য প্রদশর্নী ও ভোক্তা সচেতনতা বাড়াতে প্রকল্পে অর্থায়নের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ কার্যক্রমে অংশ নিতে আগ্রহী বেসরকারি উদোক্তাদের এতে সম্পৃক্ত করা হবে। প্রকল্প থেকে সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে দুগ্ধজাত পণ্য গ্রহণের অভ্যাস সৃষ্টি হবে, যা পণ্যের চাহিদা বাড়াতে ও সরবরাহ কাঠামোতে একটি উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিরাপদ এবং পুষ্টিকর দুগ্ধজাত পণ্য বিশেষ করে তরল দুধ স্কুলশিক্ষার্থীদের পান করাতে কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। স্কুল মিল্ক ফিডিং প্রোগ্রাম- এসএমএফডি নামের পাইলট প্রকল্প সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে এরই মধ্যে গাইডলাইন প্রণয়ন করা হয়েছে। এই গাইডলাইনে স্কুলশিক্ষার্থীদের মধ্যে দুধ বিতরণে সংশ্লিষ্ট অংশীজনের ভূমিকা, দায়িত্ব ও কর্তব্য বর্ণনা করা হয়েছে।

বিশেষ করে স্কুল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা, শিক্ষার্থীদের মাতা-পিতা ও অভিভাবকদের দায়িত্ব বর্ণনা করা হয়েছে। পাশাপাশি দুগ্ধজাত পণ্য সরবরাহকারীসহ উপজেলা পর্যায়ে স্কুল মিল্ক ফিডিং কর্মসূচি বাস্তবায়ন কমিটি এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ে স্কুল মিল্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটির দায়িত্বও বর্ণনা করা হয়েছে এ গাইডলাইনে। এছাড়া রয়েছে দুধের পুষ্টিসহ মান নিয়ন্ত্রণ ও পরিবেশের সম্ভাব্য প্রতিকূল প্রভাব থেকে সুরক্ষিত রাখার বিষয়ে নির্দেশনা। গাইডলাইনটি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, দুগ্ধ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে এবং স্থানীয়ভাবে সমন্বয়ে সহায়ক হবে।

কর্মসূচির রূপরেখা

কেন্দ্রীয় স্কুল মিল্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটি কর্তৃক দেশের দারিদ্র্য মানচিত্র অনুযায়ী প্রথম পর্যায়ে ৫০টি ও পরে পর্যায়ক্রমে ২৫০টি স্কুলসহ মোট ৩০০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই কার্যক্রম নেওয়া হবে। দেশের দরিদ্র এলাকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত এ সুবিধা ভোগ করবে। সেসব এলাকার শিক্ষার্থীরা মারাত্মকভাবে পুষ্টিহীনতায় ভুগছে এবং খর্বকায় ও ক্ষীণ বৃদ্ধিসম্পন্ন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে তারা সুবিধাভোগী হবে।

প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ইউনিট (পিএমইউ) কর্তৃক নির্বাচিত দুগ্ধ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান প্রাণ-আরএফএল, ব্র্যাক ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টস-আড়ং ডেইরি, আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ-ফার্ম ফ্রেশ, রংপুর ডেইরি লিমিটেড-আরডি মিল্ক ও মিল্ক ভিটা। এই কর্মসূচির আওতায় বছরে মোট ১৬০ দিন শিক্ষার্থীদের দুধ পান করানো হবে। ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৫০টি স্কুলে, জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫০টি স্কুলে এটি বাস্তবায়ন করা হবে। এভাবে ২০২৫ সালের মধ্যে মোট ৩০০টি স্কুলের শিক্ষার্থীদের দুধ পান করানো হবে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন আন্তঃ মন্ত্রণালয় স্কুল মিল্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটি কাজ করবে। স্কুল মিল্ক ফিডিং কর্মসূচি বাস্তবায়নের সার্বিক অগ্রগতি সভায় পর্যালোচনা করবে এই কমিটি। কর্মসূচি বাস্তবায়নে উদ্ভূত সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, তিন মাসে একবার সভা আহ্বান, জরুরি প্রয়োজনে যে কোনো সময়ে সভা আহ্বান করতে পারবে কমিটি। পাশাপাশি সুষ্ঠুভাবে কর্মসূচি পরিচালনার স্বার্থে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/বিশেষজ্ঞকে সংযুক্ত করতে পারবে।

এছাড়াও স্কুল মিল্ক ফিডিং কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে উপজেলা পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি দুধের সরবরাহ নিয়মিত আছে কি না বা সরবরাহ বন্ধ আছে কি না তা পরিবীক্ষণ করবে। গাইডলাইন অনুযায়ী দুধ বিতরণ করছে কি না তা পরিবীক্ষণ, স্কুলে দুধের প্যাকেটের অপব্যবহার- তছরুপ হচ্ছে কি না সেটা নজরদারি করবে স্কুল কর্তৃপক্ষ। স্কুল মিল্ক সম্পর্কিত অভিযোগ জিআরএম পদ্ধতি অনুযায়ী নিষ্পত্তি করবে কমিটি।

কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্কুল কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব

স্কুলের প্রধান শিক্ষক এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রধান ভূমিকা পালন করবেন। প্রধান শিক্ষক সংশ্লিষ্ট ক্লাসের শিক্ষককে দুধ বিতরণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে নিয়োজিত করবেন। শিক্ষকদের সহায়তায় সরবরাহ করা দুধের প্যাকেট গ্রহণ এবং যথাযথভাবে বিতরণের লক্ষ্যে স্কুলের একটি নির্দিষ্ট স্থানে মজুত করবেন। প্রধান শিক্ষক এ সম্পর্কে একটি কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করবেন এবং সব শিক্ষককে তা অবহিত করবেন।

কর্মসূচি বাস্তবায়নের শুরুতে স্কুলের শিক্ষার্থীদের একটি তালিকা প্রস্তুত এবং তা উপজেলা পর্যায়ে স্কুল মিল্ক ফিডিং কর্মসূচি বাস্তবায়ন কমিটির কাছে সরবরাহ করতে হবে। তালিকায় স্কুলের ক্লাসভিত্তিক শিক্ষার্থীদের সংখ্যা, নাম, পিতা-মাতা/অভিভাবকের নাম ও মোবাইল নম্বর উল্লেখ থাকবে।

প্রতি ক্লাসের জন্য একটি স্কুল মিল্ক বিতরণ রেজিস্টার বই সংরক্ষণ করতে হবে। মিল্ক বিতরণ রেজিস্টার বইয়ে শিক্ষার্থীদের নাম, পিতা-মাতার নাম ও ঠিকানা, মোবাইল নম্বর লেখা থাকবে। রেজিস্টার অনুসরণ করে নাম ডেকে দুধের প্যাকেট বিতরণ করতে হবে। দুধ বিতরণের পর প্রধান শিক্ষক এবং ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রেজিস্টারে সই করবেন। এর একটি প্রতিলিপি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কাছে পাঠাতে হবে।

দুধ গ্রহণের সময় প্যাকেট অক্ষত বা ক্ষতযুক্ত কি না খেয়াল করবেন এবং রেকর্ড করবেন। প্যাকেটের গায়ে প্রকল্পের লোগো, উৎপাদন এবং ব্যবহারের তারিখ লেখা আছে কি না সেটি দেখে দুধ গ্রহণ করবেন।

টেট্রাপ্যাকে ইউএইচটি দুধ এবং ফুড গ্রেড পলিপ্যাকে পাস্তুরাইজড দুধের সরবরাহ গ্রহণ করবেন। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে (টিফিন সময়) দুধের ভ্যান স্কুলে পৌঁছানোর পর দুধ বিতরণ করতে হবে।

স্কুল কর্তৃপক্ষ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান/কোম্পানির নির্ধারিত ভ্যানচালকের কাছ থেকে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে দুধ গ্রহণ করবে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ২০০ মিলিলিটার প্যাকেটজাত দুধ (ইউএইচটি/পাস্তুরাইজড) বিতরণ করতে হবে।

দুধ গ্রহণের সময় স্কুল কর্তৃপক্ষ খেয়াল করবে প্যাকেটে দুধ আছে কি না। প্যাকেট কোনো লিকেজ বা ক্ষতিগ্রস্ত কি না তাও দেখতে হবে। লিকেজযুক্ত/ক্ষতিগ্রস্ত প্যাকেটের দুধ শিক্ষার্থীদের দেওয়া যাবে না। এ ধরনের প্যাকেট সরবরাহকারী ভ্যানচালকের কাছে ফেরত দিতে বলা হয়েছে।

শ্রেণিকক্ষে দুধ বিতরণ সম্পন্ন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষক দুধের প্যাকেট কেটে এর মধ্যে একটি পাইপ ঢুকিয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে দেবেন। দুধ বিতরণের আগে শিক্ষার্থীদের কাছে জানতে হবে কারা দুধ পানে আগ্রহী এবং অনাগ্রহী। অনাগ্রহী/অনিচ্ছুক শিক্ষার্থীদের দুধ পানে জোর করা যাবে না। কোনো শিক্ষার্থীর বিশেষ সমস্যা (যেমন- ল্যাকটোজেন ইনটলারেন্স ইত্যাদি) থাকলে কমিটির সদস্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার প্রত্যয়ন সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

আগ্রহী শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে নির্ধারিত সময়ে প্যাকেটের সম্পূর্ণ দুধ পানে উৎসাহিত করতে হবে। দুধ পান সম্পন্ন হলে খালি প্যাকেট সংগ্রহ করে দুধ সরবরাহকারী ভ্যানচালকের কাছে ফেরত দিতে হবে। খালি বা অব্যবহৃত দুধের প্যাকেট পরিত্যক্ত না থাকার বিষয়টি স্কুল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করবে। দুধ গ্রহণ ও বিতরণ সম্পর্কিত রেকর্ড নিয়মিতভাবে রেজিস্টারে সংরক্ষণ করতে হবে।

জানা গেছে, কর্মসূচির আওতায় তালিকাভুক্ত শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আইডি কার্ড প্রস্তুত করা হবে। আইডি কার্ড প্রস্তুতিতে স্কুল কর্তৃপক্ষ উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরকে প্রয়োজনীয় সহায়তা করবে। প্রতিটি ক্লাসের জন্য একটি স্কুল মিল্ক বিতরণ রেজিস্টার বই সংরক্ষণ করতে হবে। এতে শিক্ষার্থীদের নাম, পিতা-মাতার নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর লেখা থাকবে।

রেজিস্টার অনুসরণ করে নাম ডেকে বিতরণ করতে হবে দুধের প্যাকেট। দুধ বিতরণের পর প্রধান শিক্ষক এবং ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রেজিস্টারে সই করবেন। এর একটি প্রতিলিপি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কাছে পাঠাবেন তারা। প্রতিদিন প্রাপ্ত দুধের প্যাকেটের সংখ্যা, বিতরণ করা প্যাকেটের সংখ্যা, ফেরত দেওয়া প্যাকেটের সংখ্যা এবং খালি বা ক্ষতযুক্ত প্যাকেটের সংখ্যা রেকর্ডভুক্ত করতে হবে। পরে তা উপজেলা স্কুল মিল্ক ফিডিং বাস্তবায়ন কমিটির কাছে পাঠাতে হবে।

প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের (এলডিডিপি) চিফ টেকনিক্যাল কো-অর্ডিনেটর ড. মো. গোলাম রব্বানী বলেন, কর্মসূচির জন্য তিনশ স্কুলের মধ্যে আমরা প্রাথমিকভাবে ৫০টি স্কুলের তালিকা পেয়েছি। এই ৫০টি স্কুলের দুধ পানের কর্মসূচি আমরা মার্চ মাস থেকে শুরু করবো।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার তেজগাঁওয়ে ইসলামিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এই ৫০টি বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ১১ হাজার ৬৪২ জন। যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের দুধ পান করানো হবে সেখানে সব শিক্ষার্থীকে চিহ্নিত করতে একটি আইডি কার্ড দিচ্ছি। প্রতিটি স্কুলেই শিক্ষক এবং অভিভাবকদের আমরা পরিবেশ ও পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ দেবো। এরপর আমরা মূল্যায়ন করবো এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের ফলে প্রভাব কী হলো? শিশুদের উচ্চতা, ওজন কতটুকু বাড়লো? এছাড়া তার মেধা কতটুকু বাড়লো তা দেখবো। সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলোতে বছরে ১৬০ দিন চলবে এই কার্যক্রম। স্কুলের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির সব শিক্ষার্থী প্রতিদিন দুধ পাবে।

স্কুলগুলো বিভিন্ন ক্রাইটেরিয়ায় নির্বাচিত হচ্ছে। ইউএইচটি মিল্ক দিয়ে আমরা কর্মসূচি শুরু করতে চাচ্ছি। দেশে ইউএইচটি মিল্ক উৎপাদনকারী প্রাণ-আরএফএলসহ চারটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এই চারটি প্রতিষ্ঠানই বিভিন্ন স্কুলে দুধ সরবরাহ করবে। পরে আমরা পাস্তুরাইজে গেলে প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়তে পারে।

এ বিষয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, সবার জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত প্রাণিজ আমিষ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় কাজ করছে। বর্তমান সরকার চায় আগামী প্রজন্ম মেধাবী হিসেবে গড়ে উঠুক। তাই স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পুষ্টি চাহিদা পূরণে পুষ্টিসমৃদ্ধ ও আদর্শ খাবার হিসেবে দুধ বিতরণ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন (এলডিডিপি) প্রকল্পের আওতায় দুধের বাজারজাতকরণ এবং দুধ পানের উপকারিতা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো হবে। এ লক্ষ্যে এলডিডিপি প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুল মিল্ক ফিডিং কর্মসূচি নামে বিশেষ এ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দুগ্ধজাত পণ্য গ্রহণের অভ্যাস সৃষ্টি হবে। এ কার্যক্রম প্রাথমিকভাবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাইলট আকারে চালু হচ্ছে। কর্মসূচির আওতায় ৩০০টি নির্বাচিত স্কুলের শিক্ষার্থীদের তরল দুধ পান করানো হবে। ২৬ ফেব্রুয়ারি এ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে।