আমিরাতের দোকান-হোটেল-রেস্তোরাঁয় শোভা পাচ্ছে বাংলা

আবেগের কোনও দেয়াল নেই, নেই দেশ-সীমানা। এমনিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইন অনুযায়ী, ইংরেজি ও আরবি ভাষায় সাইনবোর্ড লেখার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু বাঙালির আবেগ বলে কথা। নিজের ভাষার প্রতি আবেগ থেকেই দূর প্রবাসেও ছড়িয়ে দিয়েছে বাংলা ভাষা। প্রবাসী বাংলাদেশিরা স্বদেশিদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লেনদেনে আগ্রহী করে তুলতে নিজ প্রতিষ্ঠানের সদর দরজা, কাচ কিংবা দেয়ালে প্রতিষ্ঠানের নাম লিখছেন বাংলায়।

আরব আমিরাতের যেখানেই বাংলাদেশি কমিউনিটি সেখানেই চোখে পড়ছে, বাংলার জয় জয়কার। ভাষার মাস ফেব্রুয়ারিতে আরও রঙিন হয়ে ধরা দিচ্ছে প্রবাসের এসব আয়োজন। বছর ঘুরে ফেব্রুয়ারি এলেই পরম শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হয় সেসব ভাষা শহীদকে, ভাষা-সংগ্রামীদের, যাদের বুকের তাজা রক্তে ৫২’-তে রঞ্জিত হয়েছিল ঢাকার পিচঢালা রাজপথ। ‘রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই’ এ আন্দোলন শুধু ভাষার জন্য ছিল না, ছিল প্রতিটি বাঙালির অস্তিত্বের আন্দোলন। দেশের পাশাপাশি বহির্বিশ্বে বাংলা ভাষা ও বাংলা বর্ণমালা ছড়িয়ে দিচ্ছে বাঙালি প্রবাসীরা। সংযুক্ত আরব আমিরাতের অলিগলিতে শোভা পাচ্ছে বাংলা ভাষার ব্যবহার।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের অলিগলিতে ছোট-বড় সুপারশপ, টাইপিং সেন্টার, হোটেল-রেস্তোরাঁ, সেলুন, মাংসের দোকান, ফলমূল-সবজির দোকান, ট্রাভেল এজেন্সি অফিসে বাংলায় লেখা রয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম ও সুযোগ-সুবিধার বিবরণ। বাংলাদেশি অধ্যুষিত এই এলাকায় আরবি ও ইংরেজি ভাষার পাশাপাশি বেড়েছে বাংলার ব্যবহার। অলিগলিতে থাকা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও বাংলা লেখার কারণে বাড়ছে স্বদেশিদের আনাগোনা।

আমিরাত-বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের প্রচার সম্পাদক ইশতিয়াক আসিফ বলেন, ‘দেশের বাইরে থাকি অনেক দিন ধরেই। এই দেশে থাকলেও যখন চলাফেরার পথে বিভিন্ন জায়গায় বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের বাইরে ভেতরে বাংলা লেখা দেখি, তখন কেমন যেন একটা ভালোলাগা কাজ করে। মজার বিষয়, বাংলাদেশি এসব প্রতিষ্ঠানে ভালো ব্যবসাও হয়। বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট বা মুদি দোকানগুলোই দেখুন। আবার এমন কিছু জায়গা আছে যেগুলো বাংলাদেশিদের দেওয়া নামকরণেই পরিচিত। যেমন শারজার রোলা বাংলা বাজার, দুবাইয়ের সোনাপুর এমন অনেক।

আমিরাত প্রবাসী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ফোরকান জানান, সরকারি হিসাবে দশ লাখের অধিক বাংলাদেশি বর্তমানে আমিরাতে বসবাস করছেন। আমিরাতের বিভিন্ন জায়গায় বাংলা বর্ণমালা দেখলে প্রবাসীরা নিজ দেশকে, নিজের ভাষাকে নতুন করে খুঁজে পান। দোকান আর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বাংলার ব্যবহারে লাভবান হচ্ছেন ব্যবসায়ীরাও। দেশীয় ক্রেতাদের যেমন আগ্রহ বাড়ছে, তেমনি দেশীয় প্রতিষ্ঠানে বাড়ে বিকিকিনি। বাংলা ভাষার এই চর্চায় বহির্বিশ্বে সমৃদ্ধ হচ্ছে দেশীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।