দেশি প্রযুক্তিতে বৈদ্যুতিক গাড়ির চার্জিং স্টেশন উদ্ভাবন

বিশ্বজুড়ে বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদনের জোয়ার বইছে। পিছিয়ে নেই বাংলাদেশও। ইলেকট্রনিক ভেহিক্যাল বা ইভিতে বড় বিনিয়োগে নামছে দেশের বড় শিল্পগ্রুপগুলো। ভবিষ্যতে ইভির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠবে চার্জিং স্টেশন। সে কথা চিন্তা করে দেশীয় প্রযুক্তিতে হাইব্রিড চার্জিং স্টেশন বানিয়েছেন আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (এআইইউবি) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শেষ বর্ষের তিন ছাত্র।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ডিজিটাল বাংলাদেশ মেলায় এমন পরিবেশবান্ধব উদ্ভাবন নিয়ে হাজির হয়েছেন সাহেদ, জামী ও আরিফ। আট মাস ধরে হাইব্রিড চার্জিং স্টেশনের আইডিয়া নিয়ে কাজ করছেন তারা। কিছু যন্ত্রপাতির সংযোজন ছাড়া প্রটোটাইপ প্রজেক্ট নিয়ে এসেছেন মেলায়। খরচ করছেন ৫০ হাজার টাকা।

সাহেদ বলেন, যন্ত্রপাতিসহ পূর্ণাঙ্গ চার্জিং স্টেশন বসাতে খরচ হবে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা। একাধিক ইলেকট্রনিক ভেহিক্যাল এতে অল্প সময়েই চার্জ দেওয়া সম্ভব হবে। আর জাতীয় গ্রিডের পাশাপাশি সূর্যের আলো বা সোলার থেকেও চার্জের জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সংগ্রহ করা যাবে। এটি বানাতে আমাদের আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন। এটা প্রাইমারি পর্যায়ে আছে। তবে রেসপন্স ভালো পাচ্ছি।

প্রটোটাইপ হওয়ায় এতে চালকের কেমন খরচ পড়বে তা এখনই নির্ধারণ করেননি নির্মাতারা। এর মধ্যে অনেক বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ী এটি সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিয়েছেন বলে জানান তারা।

মেলার শেষ দিনে দর্শনার্থীদের হাইব্রিড চার্জিং স্টেশন ব্যবহারের নিয়ম-কানুন দেখাচ্ছিলেন সাহেদ। তিনি বলেন, শুধু প্লাগের মাধ্যমেই ইভি চার্জিং করা যাবে। অনেক প্রতিষ্ঠান হয়তো আলাদা চার্জিং স্টেশন করবে। কিন্তু আমরা সব ধরনের ইভির জন্যই এ স্টেশন করছি।

কীটনাশক ছিটাবে ড্রোন
মেলায় নারায়ণগঞ্জের পাঁচরুখী বেগম আনোয়ারা ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র সাদিদ মোল্লা উদ্ভাবন করেছেন ওয়াচকপ্টার এক্স ড্রোন। ভূমি থেকে পাঁচশ মিটার উুঁচতে উড়তে পারে ড্রোনটি। এক চার্জে আকাশে থাকতে পারে ৩০ মিনিট, বহন করতে পারে দুই কেজি ওজনের পণ্য। হার্ডওয়্যার ও প্রোগ্রামিংয়ের কাজ তিনি নিজেই করেছেন। ১৮ হাজার টাকা খরচ করলেই এমন ড্রোন বানানো যাবে বলে দাবি তার।

সাদিদ মোল্লা বলেন, পণ্য ডেলিভারির পাশাপাশি কৃষিক্ষেত্রে বীজ ও কীটনাশক ছিটাতে এ ড্রোন ব্যবহার করা যাবে। ১০ মিলি অ্যাম্পিফায়ার ব্যাটারি ব্যবহার করলে ড্রোনের ফ্লাইং টাইম আরও বাড়বে। ম্যাপ সিলেক্ট প্রোগ্রামিং করে দিলে গ্রাহকের ইচ্ছামতো এটাকে ব্যবহার যাবে।

এই শিক্ষার্থী বলেন, কৃষিক্ষেত্রে এর ব্যাপক সম্ভাবনা আছে। কৃষি যন্ত্রপাতি তৈরি করে এমন প্রতিষ্ঠান যোগাযোগ করছে। পাশাপাশি পার্সেল ডেলিভারিতে এটি ব্যবহার করা যাবে।

কর্মী পর্যবেক্ষণে রিমোর্ট প্রযুক্তি
দূর থেকে শিল্প প্রতিষ্ঠানের মেশিনারিজ, আবহাওয়া ও কর্মীদের পর্যবেক্ষণ-রক্ষণাবেক্ষণের রিমোর্ট প্রযুক্তি এনেছে ফ্যাক্টরি নেক্সট। উদ্ভাবক ইনসান আরাফাত জামিল বলেন, সরকারি ও বেসরকারিখাতের অনেক প্রতিষ্ঠানে সঙ্গে আমরা কাজ করছি। বাংলাদেশে যেভাবে শিল্পায়ন হচ্ছে তাতে এ ধরনের রিমোর্ট প্রযুক্তির চাহিদা বাড়বে। মেলায় প্রি-অর্ডার নেওয়ার পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগ সংগ্রহ করার চেষ্টা করছি।

ফলো মি বট রোবট
ফলো মি বট রোবট এনেছে ইউনিভার্সিটি অব স্কলার্সের সিএসই ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থী নাইমুর রহমান। রোবটটি কমান্ড অনুযায়ী গ্রাহকের সঙ্গে সঙ্গে চলাচল করবে। এতেও পণ্য বহনের সুবিধাও থাকছে।

আগুন নেভাতে, অগ্নিকাণ্ডের সময় সম্পদের ক্ষতি কমাতে রাজধানীর বিএফ শাহীন কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র শেখ আলাদিয়া ও রাফিন আরাফাতের উদ্ভাবন রোবট ফায়ার ফাইটার। মেলায় দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল এ রোবটটি।

রাফিন বলেন, লাখখানেক টাকার মধ্যেই জীবন ও সম্পদ রক্ষাকারী এই রোবট বানানো সম্ভব। ভয়াবহ আগুনে যেখানে মানুষ পৌঁছাতে পারে না, সেখানে একজন ফায়ারফাইটারের যাবতীয় কাজ করতে সক্ষম এ রোবটটি।

Views: 2