এক সময়ের ‘দামি’ সৌরবিদ্যুৎ এখন সবচেয়ে ‘সস্তা’

একটা সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দর সবচেয়ে বেশি ছিল। পাঁচ বছর আগে দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে ১৮ সেন্ট বা ২০ টাকার কাছাকাছি ব্যয় হতো। কিন্তু মাত্র পাঁচ বছরের ব্যবধানে সেই বিদ্যুতের দাম কমে ১০ সেন্টে নেমে এসেছে। কিন্তু এখন সৌর ছাড়া অন্য সব বিদ্যুতের উৎপাদন খরচই ইউনিটপ্রতি ১০ সেন্টের অনেক ওপরে।

গত বুধবার (১৮ জানুয়ারি) গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করায় এখন গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচও নবায়নযোগ্য জ্বালানির চাইতে বেশি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র জানায়, একটা সময় কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রকে সবচেয়ে সস্তা বিদ্যুৎ উল্লেখ করা হতো। এসময় ভবিষ্যৎ কয়লার দর বিবেচনা না করেই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। কিন্তু করোনা পরবর্তী সময় আন্তর্জাতিক বাজার দর বৃদ্ধিতে অন্য জীবাশ্ম জ্বালানির সঙ্গে কয়লার দামও বেড়ে যায়। এতে দেখা যায় দেশে যেসব কয়লাচালিত কেন্দ্র বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে তার দাম গিয়ে প্রায় ২৩ সেন্টে ঠেকেছে।

এরমধ্যে ভারতের আদানি পাওয়ার লিমিটেডের কাছ থেকে সরকার যে বিদ্যুৎ কিনছে তার দাম পড়ছে ২২ দশমিক ৭১ সেন্ট। এছাড়া পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রে পড়ছে ১৭ সেন্ট। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে পড়েছে ১৯ সেন্ট। বরগুনার আমতলি বিদ্যুৎকেন্দ্রে পড়ছে ১৭ দশমিক ৬২ সেন্ট।

সরকার প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ৫ টাকা শূন্য দুই পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৪ টাকা করেছে। এতে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচও আর কম থাকছে না। পিডিবি বলছে, এতে ১২ টাকার কমে ছাড়া প্রতি ইউনিট গ্যাসচালিত বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে না। অর্থাৎ গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন খরচ হবে ১২ সেন্টের ওপরে।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অনেকটা বেড়ে স্থিতিশীল পর্যায়ে রয়েছে। এরপরও দেশে ফার্নেস অয়েল দিয়ে উৎপাদিত বিদ্যুতে খরচ পড়ছে ১৭ সেন্ট আর ডিজেলে ৩০ থেকে ৩৫ সেন্ট।

দামের বিবেচনায় এখন সৌরবিদ্যুৎই সবচেয়ে সস্তা। এর বাইরে সৌরবিদ্যুতের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে এ ধরনের কেন্দ্রে কোনও জ্বালানি ব্যয় হয় না। অর্থাৎ জ্বালানি আমদানির জন্য ডলার প্রয়োজন হয় না। একইসঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে কোনও ক্যাপাসিটি পেমেন্ট নেই।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, আমরা দুই হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা দিনের বেলায় যদি সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে কিছুটা সময় চলতে পারি তাহলে জ্বালানি ব্যয় কমে আসবে। সেদিক থেকে একটু সাশ্রয় হবে বলে মনে করেন তিনি।

বাংলাদেশ এনার্জি সোসাইটির (বিইএস) সভাপতি ও সাবেক মুখ্য সচিব মো. আবুল কালাম আজাদ এই বিষয়ে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমাদের ডলার সংকট, জ্বালানির মূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, জ্বালানির প্রাপ্যতা সবকিছু বিবেচনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদিত বিদ্যুৎ আমাদের সবচেয়ে ভালো সমাধান। তিনি বলেন, সম্প্রতি যে গ্যাসের দাম বাড়লো তাতে গ্যাস দিয়ে উৎপাদন করা বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ বাড়বে। এতে বিদ্যুতের দাম আবারও বাড়তে পারে। এখনও ৬০ ভাগ বিদ্যুৎ হয় গ্যাস থেকে।

তিনি আরও বলেন, একদিকে সোলারের বিদ্যুতের দাম কমে আসছে। অন্যদিকে এটি আমদানি করতে হবে না। অর্থাৎ একবার হয়তো প্যানেল আমদানি করতে হবে। কিন্তু সেটা একবারই। সহজপ্রাপ্যতার বিষয়টিও আমাদের চিন্তা করতে হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়লে আমাদের জ্বালানির আমদানি কমে আসবে। এতে ডলারের ওপর চাপও কমে আসবে।