সামরিক শক্তির দিক দিয়ে বিশ্বে ৪০তম বাংলাদেশ

চলতি বছরে বিশ্বে সামরিক শক্তির দিক দিয়ে ৪০তম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সামরিক শক্তিমত্তার দিক দিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমার। বাংলাদেশের পরে রয়েছে শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও ভুটান।

বিশ্বের ১৪৫টি দেশের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে এই তালিকা প্রকাশ করেছে গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার ডটকম। প্রতি বছরই এই তালিকা প্রকাশ করা হয়। তালিকা তৈরি করা হয় সামরিক শক্তিমত্তার সূচকের ভিত্তিতে।

একটি দেশের সশস্ত্র বাহিনীর আকার, অর্থনৈতিক অবস্থা, লজিস্টিক সক্ষমতা ও ভৌগোলিক অবস্থানের মতো ৬০টির বেশি বিষয় বিচার–বিশ্লেষণ করে এই সূচক তৈরি করা হয়। সূচকে যে দেশের স্কোর যত কম থাকে সামরিক সক্ষমতার তালিকায় সেই দেশ তত এগিয়ে থাকে।

গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার ২০২৩ সালের তালিকা প্রকাশ করেছে গত ৫ জানুয়ারি। তাদের শক্তিমত্তার সূচকে বাংলাদেশের স্কোর শূন্য দশমিক ৫৮৭১। সবচেয়ে কম শূন্য দশমিক ০৭১২ স্কোর নিয়ে তালিকার প্রথমে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শীর্ষ দশের তালিকায় এর পরে রয়েছে যথাক্রমে রাশিয়া, চীন, ভারত, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া, পাকিস্তান, জাপান, ফ্রান্স ও ইতালি।

বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে তালিকায় ভারত চতুর্থ, পাকিস্তান সপ্তম, মিয়ানমার ৩৮তম, শ্রীলঙ্কা ৭১তম ও নেপাল ১২৯তম অবস্থানে রয়েছে। তালিকার সবচেয়ে শেষে ১৮৫তম অবস্থানে রয়েছে ভুটান। শক্তিমত্তার সূচকে দেশটির স্কোর ৬ দশমিক ২০১৭।

গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ারের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের সেনাবাহিনীতে সক্রিয় সেনা রয়েছেন আনুমানিক ১ লাখ ৭৫ হাজার। সেনাবাহিনীতে ট্যাংকের সংখ্যা ২৮১টি। সামরিক যান রয়েছে ১৩ হাজার ১০০টি। সেলফ প্রোপেলড আর্টিলারি রয়েছে ৩০টি। বাহিনীটির টোয়েড আর্টিলারির সংখ্যা ৩৭০টি। আর রকেট আর্টিলারি রয়েছে ৭০টি।

অপরদিকে বাংলাদেশের নৌবাহিনীর সদস্য সংখ্যা অনুমানিক ৩০ হাজার। নৌবাহিনীর জাহাজগুলোর মধ্যে ফ্রিগেট সাতটি, করভেট ছয়টি, সাবমেরিন দুটি, টহল নৌযান ৩০টি এবং মাইন ওয়ারফেয়ার রয়েছে পাঁচটি। তবে বাংলাদেশের কোনো ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ, বিমানবাহী রণতরী ও হেলিকপ্টারবাহী রণতরী নেই।

গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার বলছে, বাংলাদেশের বিমানবাহিনীতে আনুমানিক ২১ হাজার ১০০ জন বিমানসেনা রয়েছেন। বাহিনীটির মোট উড়োজাহাজের সংখ্যা ২০৪টি। এর মধ্যে যুদ্ধবিমান ৪৪টি, হেলিকপ্টার ৬৫টি, পরিবহন বিমান ১৭টি ও প্রশিক্ষণ বিমান ৭৫টি। পাশাপাশি বিশেষ অভিযানের জন্য বিমান বাহিনীর দুটি উড়োজাহাজ রয়েছে।

এদিকে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধরত ইউক্রেন তালিকায় ১৫তম অবস্থানে রয়েছে। তালিকায় ১২তম অবস্থানে থেকে লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ব্রাজিল। ১৪তম মিসর আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে তুরস্ক। তালিকায় দেশটির অবস্থান ১১তম। এই অঞ্চলের দেশ ইসরায়েল ১৮তম অবস্থানে রাখা হয়েছে। তবে ফিলিস্তিনকে তালিকায় স্থান দেওয়া হয়নি।