মতিঝিল আজ থেকে ‘ক্যাশলেস’

ডিজিটাল সেবার অন্যতম ধাপ ক্যাশলেস সোসাইটি নির্মাণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এরই অংশ হিসেবে রাজধানীর মতিঝিলকে নগদ লেনদেনমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৮ জানুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হবে বলে জানা গেছে।

ব্যাংকের অ্যাপ দিয়েই হবে লেনদেন। মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের অ্যাপ (বিকাশ, নগদ, রকেটসহ অন্যান্য অ্যাপ) দিয়েও কেনা যাবে পণ্য। এমন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে শুরু হচ্ছে ক্যাশলেস বা নগদবিহীন বাংলাদেশ প্রচারণা। এ প্রচারণার স্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে—‘সর্বজনীন পরিশোধ সেবায় নিশ্চিত হবে স্মার্ট বাংলাদেশ।’

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সমন্বয়ে এ উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন ব্যাংক, এমএফএস ও কার্ড সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান। এ উদ্যোগে যুক্ত ব্যাংকগুলো হলো মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, এবি ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, দি সিটি ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, পূবালী ব্যাংক ও ওয়ান ব্যাংক। এ ছাড়া এমএফএস প্রতিষ্ঠান বিকাশ, এমক্যাশ, রকেট ও কার্ড সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান মাস্টারকার্ড, ভিসা ও অ্যামেক্স এ সেবায় যুক্ত হয়েছে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে এরই মধ্যে মতিঝিল এলাকায় চা–দোকান, মুদি দোকান, হোটেল, মুচিসহ ভাসমান বিক্রেতাদের কিউআর কোড সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সেবা বিল পরিশোধ করতে পারছেন গ্রাহকরা।

‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ উদ্যোগের আওতায় শ্রমনির্ভর অতিক্ষুদ্র ভাসমান উদ্যোক্তা (চা বিক্রেতা, ঝালমুড়ি বিক্রেতা, সবজি বিক্রেতা, মাছ বিক্রেতা), বিভিন্ন প্রান্তিক পেশায় (মুচি, নাপিত, হকার) নিয়োজিত সেবা প্রদানকারীদের বিল গ্রহণ পদ্ধতিকে ডিজিটাল ও প্রাতিষ্ঠানিক করার উদ্দেশ্যে ব্যক্তিক রিটেইল হিসাব খোলা হচ্ছে। এ হিসাবের অধীন যেসব ব্যবসায়ী, তাদের ব্যবসায়িক লেনদেন সম্পন্ন করবেন, তারা মাইক্রো-মার্চেন্ট হিসেবে গণ্য হচ্ছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তরারা বলেন, নগদ অর্থের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনতে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এমন উদ্যোগ নিয়েছে। ক্যাশলেশ বাংলাদেশ নির্মাণে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে এ উদ্যোগ। এর আগে, সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, পরবর্তী লক্ষ্য হিসেবে আওয়ামী লীগ ক্যাশলেস সোসাইটি গড়ার পরিকল্পনা করছে। তিনি বলেন, জনগণের ভোটে আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় আসতে পারলে আগামী টার্মের মধ্যেই ক্যাশলেস সোসাইটি গড়বে বাংলাদেশ।

এখনো দেশের পাঁচ-ছয় কোটি মানুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই। আগামীতে সবার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকবে এবং তারা ক্যাশলেস ব্যাংকিং করবে।