বরই চাষে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন সুশান্তের

শীতকালীন ফল বরই চাষ করে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন রাঙামাটির তরুণ সুশান্ত তঞ্চঙ্গ্যা। কাপ্তাই লেকের নীল জলরাশির পাশে ১০ একর পাহাড়ি উঁচু-নিচু জমিতে তিনি এক হাজার বরই গাছ লাগিয়েছেন। গাছগুলোতে এখন থোকায় থোকায় ঝুলছে সুস্বাদু মিষ্টি বরই।

সুশান্তের বরই বাগান সদর উপজেলার মগবান ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড সোনারাম কার্বারি পাড়ায়। এরই মধ্যে পাকতে শুরু করেছে বল সুন্দরী, আপেল, কাশ্মিরী ও দেশি জাতের বরই। বাগানে আছে ২০ রকমের মিশ্র ফল।

সুশান্তের বাড়ির আঙিনার চারপাশে বরই ছাড়াও আম, কাঁঠাল, লটকন, লিচু, আমলকী, পেঁপে, তেঁতুল, মাল্টা, লেবু, বেল, নারিকেল, সুপারি, রাম্বুটানসহ অন্যান্য বারোমাসি ফল রয়েছে।

সুশান্ত তঞ্চঙ্গ্যার বরই বাগানে ১০ জনের অধিক লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। বাগানের সার্বিক কাজে সহযোগিতা করেন তার সহধর্মিণী ও মেয়ে। তার এ কাজে উৎসাহিত হয়ে অনেকেই এখন গড়ে তুলছেন মিশ্র ফলের বাগান। আপেল বরই (কুল), বল সুন্দরী বরইয়ে তাড়াতাড়ি ফলন আসায় এগুলো চাষে ঝুঁকছেন স্থানীয় কৃষকরা।

গত পাঁচ বছর ধরে সুশান্তের মিশ্র ফলের বাগানে কাজ করছেন সজল চাকমা। তিনি বলেন, ‘সুশান্ত দাদা আমাদের কর্মসংস্থান করে দিয়েছেন। পরিবার চলছে এখানে কাজ করে। দাদার এ কাজের সফলতা দেখে আমারও ইচ্ছে, এক দিন আমি স্বপ্নের বাগান বানাব।’

বাগানের আরেক কর্মচারী সুকুমার চাকমা বলেন, ‘এক হাজার বরই গাছের সবটিতে এবার ফলন এসেছে। বরইগুলো বেশ সুস্বাদু ও মিষ্টি। এসব ফলে আমরা কোনো প্রকার ওষুধ প্রয়োগ করি না। পাখিদের থেকে বাঁচাতে শুধু গাছের চারপাশে জাল ঘিরে দেয়া হয়েছে।’

সুকুমার জানান, বাগানের শুরু থেকেই এখানে সহকারী হিসেবে কাজ করছেন। সুশান্তকে দেখে দেখে তিনিও নিজে একটা মিশ্র ফলের বাগান গড়ে তুলেছেন। সে বাগানে আগামী বছর ফল আসতে পারে।

এদিকে সুশান্তের বরই বাগান থেকে এ বছর ছয়-ছয় লাখ টাকা আয়ের আশা করা হচ্ছে। সুশান্ত বলেন, গত সপ্তাহে বাজারে ১৫০ টাকা দরে ২০ হাজার টাকার বরই বিক্রি করেছেন। বাগানে কাজ করা শ্রমিকদেরও পারিশ্রমিক দেয়ার পর এবার চার লাখ টাকা লাভ হতে পারে।

সুশান্ত আরও বলেন, ২০১৬ সালে বাড়ির আঙিনার পাশে মিশ্র ফলের বাগান শুরু করেন। প্রথম দিকে স্ত্রী সহযোগিতা করতেন। পরে শ্রমিক নিয়ে কাজ করতে হয়েছে। তার এ বাগান থেকে শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষাকালীনসহ সারা বছরই বিভিন্ন প্রকার ফল বিক্রি হয়। এবার মিশ্র এ বাগান থেকে ১৩ লাখ টাকা আয় হতে পারে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) রাঙামাটি অঞ্চলের উপপরিচালক তপন কুমার পাল বলেন, এবার রাঙামাটির ৭৮০ হেক্টর জমিতে বরই চাষ হয়েছে। বরই উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৫৮০ মেট্রিক টন।

তপন কুমার পাল আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার কার্যক্রমের জন্য রাঙামাটিতে একটি কমিটি আছে। ওই কমিটি সফল উদ্যোক্তাদের তালিকা তৈরি করে। কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে সফলতা পাওয়ায় এর আগে সুশান্তকে স্থানীয়ভাবে পুরস্কৃত করা হয়েছে।