এপ্রিল বা মে মাসে খুলবে বঙ্গবন্ধু টানেল

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের কাজ প্রায় শেষ। কাজের অগ্রগতি ৯৫.৫০ শতাংশ। এখন শেষ মুহূর্তের কাজ চলছে। আশা করি, আগামী এপ্রিল বা মে মাসে সর্বসাধারণের জন্য খুলে দিতে পারব।’

গতকাল শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসের সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় আওয়ামী লীগের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় কমিটির কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘চট্টগ্রামে যা হচ্ছে এটা দক্ষিণ এশিয়ার কোথাও নেই। আমি যখন প্রথম টানেলের কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে যাই, তখন কেউ ভাবতে পারেনি সাংহাইয়ের আদলে চট্টগ্রাম হবে ওয়ান সিটি টু টাউন। দক্ষিণ এশিয়ায় এটি প্রথম। এই টানেলে ১০ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে।’

ঢাকায় মেট্রো রেল চালু হওয়াসহ দেশের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের চিত্র তুলে ধরে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ আরো এগিয়ে যাবে। চট্টগ্রাম আরো এগিয়ে যাবে। চট্টগ্রাম আমাদের প্রাণস্পন্দন। চট্টগ্রাম অর্থনৈতিক প্রাণস্পন্দন। অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র এই চট্টগ্রাম। জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থে চট্টগ্রামের গুরুত্বকে স্বীকার করা হচ্ছে। টানেল হয়ে গেলে শুধু চট্টগ্রাম নয়, দেশের অর্থনীতিতেও এটি বড় ভূমিকা রাখবে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, জাতির পিতার ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের দুটি অংশ। এর একটি অংশ স্বাধীনতা আর একটি অর্থনৈতিক মুক্তি। দেশের মানুষকে অর্থনৈতিক মুক্তি দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই অর্থনৈতিক মুক্তির বড় স্থাপনা পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকে যখন বিশ্বব্যাংক মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল, তখন পদ্মা সেতুর স্বপ্ন ছিল হতাশায় ঘেরা। ঠিক তখনই বঙ্গবন্ধুকন্যা সংসদে দাঁড়িয়ে দেশের টাকায় পদ্মা সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন। সেই পদ্মা সেতু আজ স্বপ্ন নয়, দৃশ্যমান বাস্তবতা।

চট্টগ্রামের মেট্রো রেল বিষয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকায় মেট্রো রেল কতটুকু আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে, সেটা আপনারা দেখেছেন। চট্টগ্রামেও মেট্রো রেল হচ্ছে, ফিজিবিলিটি টেস্ট প্রায় শেষ। ৩১ জানুয়ারি আমি চট্টগ্রাম আসব, মেট্রো রেলের ফিজিবিলিটি শেষে পরবর্তী করণীয় ঠিক করব সেদিন। এখানকার নেতারা থাকবেন, সরকারের তথ্যমন্ত্রীও থাকবেন।’