পেঁয়াজের বাম্পার ফলন, চাষিদের মুখে হাসি

কুষ্টিয়ায় এবছর আগাম জাতের মূলকাটা পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। বীজের দাম কম হওয়ায় পেঁয়াজ চাষে কৃষকদের উৎপাদন খরচও কম হয়েছে। ফলে মনের আনন্দে মুখভরা হাসি নিয়ে চাষিরা ক্ষেত থেকে বর্তমানে পেঁয়াজ তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

এদিকে পেঁয়াজের বর্তমান বাজার দর ভালো হওয়ায় লাভ বেশি হবে বলেও মনে করছেন চাষিরা।

কুষ্টিয়ায় চলতি মৌসুমে ৩ হাজার ২৮৫ হেক্টর জমিতে মূলকাটা পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে সীমান্তবর্তী উপজেলা দৌলতপুরেই চাষ হয়েছে ২ হাজার ৫০০ হেক্টরে জমিতে। এবছরও বীজ বা চারার দাম কম হওয়ায় প্রতি বিঘা জমিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় এ খাদ্য পণ্যটি আবাদে কৃষকদের খরচ হয়েছে ২০ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় প্রতি বিঘা জমিতে পেঁয়াজের ফলন হচ্ছে ৭০ মণ থেকে ৮০ মণ পর্যন্ত। ফলে বিঘাপ্রতি চাষিদের লাভ হচ্ছে ২৫ হাজার টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা।

দৌলতপুর উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের শশীধরপুর এলাকার কৃষক নাসির উদ্দিন বলেন, ‘বিগত কয়েক বছর পেঁয়াজ আবাদ করে আমাদের মত চাষিদের লাভের পরিবর্তে লোকসান গুনতে হয়েছে। তবে এবছর পেঁয়াজের বীজের দাম কম হওয়ায় উৎপাদন খরচ কম হয়েছে। বিঘা প্রতি ফলনও ভালো হচ্ছে। প্রতি বিঘা জমি থেকে ৭০ মণ থেকে ৭৫ মণ পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। আশা করছি ভালোই লাভ হবে।’

স্বরুপপুর গ্রামের কৃষক নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘প্রথমে যারা মাঠ থেকে পেঁয়াজ তুলে বিক্রি করেছেন তাদের বেশি লাভ হয়েছে। এখন তুলনামূলক কম লাভ হচ্ছে। তবে বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি না করার করা হলে কৃষকরা বেশি লাভবান হবেন।’

আড়তদাররা জানান, কৃষকদের কাছ থেকে পেঁয়াজ কিনে আমরা দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠিয়ে থাকি। এতে আমরাও আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছি।

দৌলতপুর কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. নুরুল ইসলাম বলেন, ‘পেঁয়াজ চাষে কৃষকদের বীজ, সারসহ প্রয়োজীয় প্রনোদনা প্রদান এবং প্রযুক্তির ব্যবহার ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তারা আমাদের পরামর্শ মেনে চলায় ফলন ভালো হয়েছে। উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় চাষিরা পোঁয়জ চাষ করে এবার লাভবান হবেন।