৫০০ একর পাহাড়ি জমি আসছে সেচের আওতায়

শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতি থেকে নালিতাবাড়ী উপজেলায় মাটির নিচ দিয়ে পাইপ লাইনের নির্মাণ কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে পাহাড়ি এলাকার প্রায় ৫০০ একর অনাবাদি জমি সেচ সুবিধার আওতায় আসবে।

জাইকার ক্ষুদ্র পানিসম্পদ-২ প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুলা ইউনিয়নের উপর দিয়ে প্রবাহিত মহারশি নদীর হলদিগ্রাম থেকে শুরু করা হয়েছে পাইপলাইন নির্মাণ কাজ। পাইপলাইনটি নির্মাণ হলে পাহাড়ি অনাবাদি জমি সেচ সুবিধার আওতায় আসবে।

কৃষকরা জানান, নালিতাবাড়ি উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের সমশ্চুড়া, কোচপাড়া, জাঙ্গালপাড়া ও মানিককুড়াসহ আরও কয়েকটি এলাকায় পানি সরবরাহ করা হবে। এতে তাদের সেচের সমস্যা সমাধান হবে। এ প্রকল্পের কাজ হাতে নেওয়ায় আগে স্থানীয় কৃষকরা বিএডিসিসহ অন্যান্য সেচ প্রকল্পের কাছ থেকে উচ্চ মূল্যে পানি ক্রয় করতেন।

তারা আরও জানান, বিএডিসিসহ অন্যান্য সেচ প্রকল্প থেকে পানি নিতে একর প্রতি ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা খরচ হতো। আর জাইকার অর্থায়নে পাইপলাইনের পানিতে কৃষককে দিতে হবে একর প্রতি মাত্র ৩ হাজার টাকা। স্বল্প মূল্যের পানি পাওয়ায় কৃষদের উৎপাদন খরচ অনেক কমে যাবে।

নালিতাবাড়ি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পাহাড়ি এলাকার মাটির নিচে পাথর থাকার কারণে গভীর-অগভীর নলকূপ স্থাপন করা সম্ভব হয় না। এছাড়া শুষ্ক মৌসুমে এসব পাহাড়ি এলাকার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যায় কয়েকশো ফুট নিচে। ফলে ২০১০ সালে সেচের বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে পুড়াগাঁও ইউনিয়নের সমশ্চুড়া গ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ছোট্ট একটি খালে (অঞ্জনা ঝুড়া) সুইসগেট নির্মাণ করা হয়। এতে প্রায় ১০০ একর অনাবাদি পাহাড়ি জমি চাষাবাদের আওতায় আসে। তবে তা ছিলো প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছর রাবার ড্যামের অনেক পানি অপচয় হয়। পানির অপচয় রোধে জাইকার পক্ষ থেকে কৃষিক্ষেত্রে উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০১৬ সাল থেকে অপচয়কৃত পানি কাজে লাগিয়ে চাষাবাদ পদ্ধতি বাড়াতে বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে চালানো হয় জরিপ কাজ। পরে পোড়াগাঁও ইউনিয়নের অনাবাদী পাহাড়ি জমি চাষাবাদের আওতায় আনতে জাইকার ক্ষুদ্র পানিসম্পদ প্রকল্প-২ এর আওতায় ২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যায়ে মাটির নিচ দিয়ে পাইপলাইন নির্মাণ কাজ হাতে নেয় এলজিইডি।

নালিতাবাড়ি উপজেলা প্রকৌশলী মো. রকিবুল আলম রাকিব বলেন, পাইপলাইনের নির্মাণ কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। চলতি মৌসুমেই পাইপলাইনের পানি সেচ কাজে ব্যবহার করতে পারবেন কৃষকরা। আধুনিক পদ্ধতিতে নির্মিত পাইপলাইনের মাধ্যমে সুইচ টিপে কৃষকদের ক্ষেতে পানি দেওয়া হবে। এতে কৃষকরা পাবেন স্বল্পমূল্যে পরিবেশ বান্ধব সেচের সুবিধা।

শেরপুর স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘পাইপলাইনের পানিতে ওই এলাকার অনাবাদি ৫০০ একর পাহাড়ি জমি আবাদের আওতায় আসবে। কৃষকরা পাবেন স্বল্পমূল্যে সেচ সুবিধা। কৃষি ক্ষেত্রে আসবে ব্যাপক উন্নয়ন ও পরিবর্তন।’