সবুজের স্বপ্ন বুকে নিয়ে লাখপতি

শৈশব থেকে বাবার হাতে যত্নে গড়ে ওঠা ফুল, ফল আর ঔষুধি গাছের বাগান দেখে বড় হয়েছেন জাকির হোসেন। এখন আপন হাতে সবুজ নার্সারি সাজিয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন তিনি। জাকিরের নার্সারিতে গেলে পাওয়া যায় ফুল, ফল ঔষুধি গাছের প্রায় ৩শ’ রকমের চারা। তিনি তা বিক্রি করেন ভ্যানগাড়িতে করে বাজারে বাজারে।

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার কদমতলী এলাকায় অবস্থিত জাকিরের নার্সারিটির নাম ‘মদিনা নার্সারি’। সব খরচ বাদ দিয়ে এ নার্সারি থেকে প্রতিমাসে কমপক্ষে ৭০ হাজার টাকা আয় হয় বলে জাকির জানান।

সম্প্রতি জাকির জেলার লাখাই উপজেলার বুল্লা বাজারে ভ্যানগাড়িতে করে চারা বিক্রি করছিলেন। তিনি জানান, নার্সারি থেকে তার আয়, ব্যয় ও সাফল্য পাওয়ার কথা।

জাকির জানান, তিনি বগুড়া ও রাজশাহী থেকে চারা এনে হবিগঞ্জে বিক্রি করেন। কিছু গাছের চারা উৎপাদন করে থাকেন কলম পদ্ধতির মাধ্যমে। তার এখানে কাজ করেন ৪ জন শ্রমিক।

নার্সারিতে রয়েছে, আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, কমলা, মাল্টা, রাম ভুট্টা, অ্যাভোকাডো, আমরা, জাম্বুরা, জামরুল, ত্বিন, তেজপাতা, দারুচিনি, এলাচি, বড়ই, জয়তুন, করমচা, আয়লা, হরিতকি, নিম, অর্জুন, হাসনা হেনা, চামেলি, গোলাপ, রংধনু, বাগানবিলাসসহ প্রায় ৩শ’ রকমের চারা।

চারা আমদানি, কলম করা, সার ও বীজসহ সবমিলিয়ে মাসে খরচ হয় ৬০ হাজার টাকার মতো। বাজারে বাজারে গিয়ে ও নার্সারিতে বিক্রি করা চারা থেকে খরচ বাদ দিয়ে প্রতিমাসে তার মুনাফা থাকে কমপক্ষে ৭০ হাজার টাকা।

জাকির আরও জানান, শৈশব থেকে বাবার হাতে যত্নে গড়ে ওঠা ফুল, ফল আর ঔষুধি গাছের বাগান দেখে তিনি বড় হয়েছেন। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করে আর পড়াশোনা করেননি। এরপর যোগ দেন গাছপালা নিয়ে দেখা শৈশবের স্বপ্নের সঙ্গে। যুবক বয়েসেই তিনি নিজের চেষ্টা ও বাবার দেখানো স্বপ্নে লাখপতি বনেছেন।

তিনি মাসে ১০ দিনে জেলার বিভিন্ন বাজারে গিয়ে ভ্যানগাড়িতে করে চারা বিক্র করেন। এখান থেকে তার দিনে গড়ে ২ হাজার টাকা আয় হয়। নার্সারিতে চারা বিক্রি হয়ে থাকে প্রতিদিনই।

এ পর্যন্ত সাতবার জেলায় শ্রেষ্ঠ নার্সারি মালিকের পুরস্কার পেয়েছেন। এখন তিনি তার নার্সারিটিকে আরও বড় করার পরিকল্পনা করছেন।