তেইশে অব্যাহত থাক সাফল্যের ধারা

নতুন বছর মানেই নতুনত্বের বাহার। নতুন বছর সামনে রেখে মনে উঁকি দেয় নতুন আশা, নতুন স্বপ্ন। পুরোনো গ্লানি ভুলে নতুন দিগন্তের দিকে হাঁটতে চায় মানুষ—মানবকুলের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য এটাই। উন্মোচন করতে চায় নতুন দ্বার। নতুন বছরে মানব নিয়ে আসে নতুন সব অধ্যায়। ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক জীবনেও নতুন বছরের নতুনত্বের প্রভাবে নতুন রঙে সাজে। ২০২২ সালের বিদায়ের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বছর ২০২৩-এ পথচলা। নববর্ষের বর্ণিল সাজে চারদিকে সাজ সাজ রব!

নতুন বছর নিয়ে আসুক নতুন অধ্যায়। যে অধ্যায়ে শুধু সুখ-শান্তি, মানবতা, দয়া, প্রেম ও ভালোবাসা থাকবে। যে অধ্যায় শান্তি নিয়ে আসবে ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সবক্ষেত্রে। যে অধ্যায় ভুলিয়ে দেবে ২২-এর সব দুর্ঘটনাকে। রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতকে ঘিরে বিশ্বের অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক সংকট, চীন-তাইওয়ানকে ঘিরে ঠান্ডা যুদ্ধ, আফগান নারীদের শিক্ষার বাধা, ইরানে মাহ্শা আমিনির হত্যায় জনমানবকে জেলবন্দি, করোনার প্রভাবে বিশ্বের অর্থনৈতিক মন্দা, বাংলাদেশে বন্যায় সিলেট সুনামগঞ্জের মানুষের কালো অধ্যায়—কী দেখিনি আমরা বিগত বছরে! নতুন বছরে এসব থেকে দূরে থাকতে চাই আমরা। ২০২৩ মুছে দিক সব দুঃখ, অসহায়ত্ব ও গ্লানি। নতুন বছর হোক আনন্দময়। সুখ ও সাফল্যে ভরে উঠুক জীবন। পরিবার-পরিজনকে নিয়ে শুরু হোক জীবনের নতুন অধ্যায়।

নতুন বছরকে ঘিরে বিশ্বের নানান প্রান্তে নানান সংস্কৃতির মানুষ বিভিন্ন অনুষ্ঠানাদি করে থাকেন। নিজস্ব ঐতিহ্যকে ধারণ করে বরণ করেন ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’ বা নববর্ষকে। এবারও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। যদিও দুঃখজনকভাবে কোনো স্থানে দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে বলে শোনা গেছে। আগামী দিনে সবাই আরো সতর্ক থাকবে বলেই আশা করতে চাই।

নতুন বছরকে কেন্দ্র করে যেমন সবকিছু নতুনভাবে সাজে, তেমনি খাবারেও থাকে নতুনত্ব। বিভিন্ন দেশে নতুন নতুন খাবার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাঙালিরাও এদিনে নানান অনুষ্ঠান করে থাকে। কেককাটা, আতশবাজি ফুটানো ও মোমবাতি প্রজ্বালন করে দিনটি পালন করে। নানান সংস্কৃতির আয়োজনও করা হয় দেশে। মানুষ স্বভাবের দাস। সে তার দুঃখময় স্মৃতিকে ভুলে যেতে চায়। যদিও সুখ ও দুঃখ মিলিয়েই জীবন। জীবনে সুখ যেমন আমাদের অবিচ্ছেদ্য অংশ, তেমনি দুঃখও জীবনের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। শীতের পরেই যেমন বসন্ত আসে, তেমনি দুঃখের পর আসে সুখ। শীত এসে মানবজীবন থেকে শুরু করে প্রকৃতিকেও মলিন করে তুলে। মলিন করে তোলে আমাদের চারপাশকে। এই মলিনতা দূর করতেই নতুন ছন্দ নিয়ে আসে বসন্ত। প্রকৃতিও তার আপন মহিমা ফিরে পায়। লাভ করে নতুন যৌবন। মানবজীবন হয়ে ওঠে ফুরফুরা। তখনই শব্দ-ছন্দ, রস ও গন্ধে কবিকুল লেখেন নানান কবিতা।

২০২২ আমাদের জীবনে বহু দুর্ঘটনা বয়ে আনে। সুখবর ছিল না, এমনও নয়। তবে মহামারি কোভিডের পর ইউক্রেন যুদ্ধ পুরো বিশ্বকে অস্থিরতায় ফেলে দিয়েছে। এই যুদ্ধ থামনো যায়নি যদিও, তবু নতুন বছরে কবির বসন্তের মতোই জীবনকে নতুন অধ্যায় সাজাতে চাই আমরা।

বিগত বছরে বাঙালির বড় বড় অর্জনও আছে। পদ্মা সেতু ও মেট্রোরেল নতুন বছরকে রাঙিয়ে তোলে। কর্ণফুলী টানেলও উদ্বোধন করা হবে এই বছরে। একের পর এক নতুন মাইলফলক ছুঁয়ে বাংলাদেশ বিশ্বকে যেভাবে তাক লাগিয়ে দিচ্ছে, এই বছর তা অব্যাহত থাকবে বলেই আমাদের বিশ্বাস। নতুন সব অর্জনে নতুন বছর নতুন অধ্যায় রচনা করবে—এমনটাই প্রত্যাশা করতে চাই আমরা।

লেখক : শহীদুল ইসলাম শুভ
শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়