ছয় মাসে ২ হাজার ৭৩১ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি

বাংলাদেশ থেকে বিশ্ববাজারে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বরে) ২ হাজার ৭৩১ কোটি ১২ লাখ ৬০ হাজার ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে। এর আগের অর্থবছরের একই সময়ে রফতানি হয়েছিল ২ হাজার ৪৬৯ কোটি ৮৫ লাখ ৫০ হাজার ডলারের পণ্য। এ হিসেবে পণ্য রফতানি বেড়েছে ১০ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত রফতানি পরিসংখ্যানের হালনাগাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)। গতকাল প্রকাশ পেয়েছে ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের প্রতিবেদন।

অর্থমূল্য বিবেচনায় বাংলাদেশ থেকে রফতানি হওয়া শীর্ষ পাঁচটি পণ্য হলো পোশাক, হোম টেক্সটাইল, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, কৃষিপণ্য এবং পাট ও পাটজাত পণ্য। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে দেশের মোট রফতানির ৯২ দশমিক ৩৫ শতাংশ জুড়েই ছিল এ পাঁচ পণ্য।

২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে পোশাক রফতানি বেড়েছে ১৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ। অন্যদিকে হোম টেক্সটাইল পণ্যের রফতানি কমেছে ১৬ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানি বেড়েছে ১৩ শতাংশ। পাট ও পাটজাত পণ্যের রফতানি কমেছে বা ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ এবং কৃষিপণ্যের রফতানি কমেছে ২৩ দশমিক ২৬ শতাংশ।

ইপিবি প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে বেশি রফতানি হওয়া পণ্য পোশাক খাতের। মোট রফতানির ৮৪ দশমিক ২০ শতাংশই তৈরি পোশাক। আলোচ্য সময়ে বাংলাদেশ থেকে ২ হাজার ২৯৯ কোটি ৬৬ লাখ ৯০ হাজার ডলারের পোশাক রফতানি হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে রফতানি হয়েছিল ১ হাজার ৯৯০ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক।

ছয় মাসের হিসেবে প্রবৃদ্ধির চিত্র যেমন ইতিবাচক, তেমনি মাসভিত্তিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণেও রফতানির ইতিবাচক পরিস্থিতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। ইপিবির পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, সমাপ্ত ডিসেম্বরে ৫৩৬ কোটি ৫১ লাখ ৯০ হাজার ডলারের পণ্য রফতানি করেছে বাংলাদেশ। গত বছরের ডিসেম্বরে পণ্য রফতানি হয়েছিল ৪৯০ কোটি ৭৬ লাখ ৮০ হাজার ডলারের। এ হিসাবে ডিসেম্বরে রফতানি বেড়েছে বা ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পোশাক পণ্যের রফতানি প্রবৃদ্ধিই পুরো রফতানি খাতে প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে। পোশাক রফতানির একক মাসভিত্তিক প্রবৃদ্ধিও সন্তোষজনক।

পোশাক পণ্য প্রস্তুত ও রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ জানিয়েছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে দেশের রফতানি তথ্যের ক্যাটাগরি অনুযায়ী বিশ্লেষণ থেকে দেখা যায়, নিটওয়্যার রফতানির পরিমাণ ছিল ১২ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যার প্রবৃদ্ধি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ৪২ শতাংশ। একই সময়ে, ওভেন পোশাকের রফতানি হয়েছে ১০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলারের। ২০২১-২২ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যা ১৮ দশমিক ২৯ শতাংশ বৃদ্ধি বেড়েছে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে পোশাক রফতানি হয়েছে ৪ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের, যা একক মাসে রেকর্ড পরিমাণ সর্বোচ্চ রফতানি। ডিসেম্বরে তৈরি পোশাক রফতানির প্রবৃদ্ধি ছিল ১৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

বিজিএমইএ পরিচালক মো. মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘যদি আমরা ক্যালেন্ডার বছরের তথ্য বিবেচনা করি, তাহলে ২০২২ সালে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানিতে একটি নতুন মাইলফলক রচিত হয়েছে। বিজিএমইএর বিশ্লেষণে ২০২১ সালের তুলনায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানি ২০২২ সালে ২৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেড়ে ৪৫ দশমিক ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। নিটওয়্যার রফতানির পরিমাণ ২৪ দশমিক ৭১ বিলিয়ন, যেখানে ওভেন পোশাক রফতানি হয়েছে ২০ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের। যার প্রবৃদ্ধি ২০২২ সালে গত বছরের তুলনায় যথাক্রমে ২৬ দশমিক ১১ এবং ২৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ।’

পোশাক শিল্পের এ সাফল্যে সব উদ্যোক্তা, বিজিএমইএর সব সহকর্মী এবং এ শিল্পের সব শ্রমিককে অভিনন্দন জানান মো. মহিউদ্দিন রুবেল। একই সঙ্গে এ শিল্পের সব সংকটে সার্বিক সহায়তার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।