যেকোনো দিন খুলবে স্বপ্নের বঙ্গবন্ধু টানেল

চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে বহু প্রত্যাশিত বঙ্গবন্ধু টানেল নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। বহু প্রত্যাশিত এই টানেলের ৯৫ শতাংশ নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। নতুন বছরের যে কোনো দিন এই টানেল উদ্বোধন করা হবে বলে প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী হারুনুর রশিদ চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, মাত্র কয়েক দিন আগে টানেলের পূর্ত কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক কাজ চলমান রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে টানেলের ভেন্টিলেশন, অগ্নিনির্বাপণ, আলোকায়ন, পানি নিষ্কাশন ও মনিটরিং ব্যবস্থা। এগুলোর স্থাপন কাজ শেষ করার পর টানেলটি পুরোপুরি নিরাপদ হলেই তা উন্মুক্ত করে দেওয়ার জন্য উপযোগী হবে। সরকার উপযুক্ত সময়ে এটি উদ্বোধন করবে বলে আমরা আশা করছি।

জানা গেছে, টানেলের কাজ পুরোপুরি শেষ করতে বর্তমানে বিরামহীন কাজ চলছে। সব কিছু পরিকল্পনামাফিক সম্পন্ন হলে নতুন বছরেই টানেল যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এটি দক্ষিণ এশিয়াতেও নদীর তলদেশে প্রথম টানেল। বঙ্গবন্ধু টানেল চালু হলে ঢাকার সঙ্গে পর্যটন শহর কক্সবাজারের দূরত্ব সড়কপথে প্রায় ৫০ কিলোমিটার কমে যাবে। পাশাপাশি কর্ণফুলী নদীর অপর পাড়ে চীনের সাংহাই নগরীর আদলে গড়ে উঠবে ‘টুইন সিটি’। সেই সঙ্গে ভারত এবং মিয়ানমারের সঙ্গে আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়াতে ভূমিকা রাখবে এই টানেল। অ্যাপ্রোচ রোডসহ ৯.৪২ কিলোমিটার দীর্ঘ টানেলটি নির্মাণে খরচ হচ্ছে ১০ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়ন ৪ হাজার ৪৬১ কোটি ২৩ লাখ টাকা। ৫ হাজার ৯১৩ কোটি ১৯ লাখ টাকা অর্থায়ন করছে চীন সরকার। টানেলের প্রতিটি টিউবের দৈর্ঘ্য ২ দশমিক ৪৫ কিলোমিটার ও ব্যাস ১০ দশমিক ৮০ মিটার। টানেলটি চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা নেভাল একাডেমি পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে কর্ণফুলী নদীর অপর পাড়ে আনোয়ারা উপজেলার কাফকো ও সিইউএফএল পয়েন্টের মাঝখানের সড়কের সঙ্গে যুক্ত হবে। টানেলে যান চলাচল শুরু হলে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা গাড়িগুলোকে আর চট্টগ্রাম নগরীতে প্রবেশ করতে হবে না। পতেঙ্গার আউটার রিং রোড হয়ে টানেলের মাধ্যমে দ্রুত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে। এতে চট্টগ্রাম নগরীর ওপর বাড়তি যানবাহনের চাপ অনেকটাই কমে আসবে।

এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে চায়না কমিউনিকেশন কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড। চীনের সাংহাই নগরীর আদলে ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’ ধারণার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধু টানেল। প্রকল্পটি পুরোদমে চালু হলে পালটে যাবে দেশের অর্থনীতি। বন্দরনগরী চট্টগ্রাম হয়ে উঠবে দেশি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য আরো আকর্ষণীয় স্থান।

২০১৪ সালে বাংলাদেশ ও চীনের সরকারি পর্যায়ে টানেল নির্মাণে সমঝোতা হয়। চুক্তি স্বাক্ষর হয় ২০১৫ সালের ২৪ নভেম্বর। ২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টানেলের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন।